চিফ প্রসিকিউটর
‘রাশেদ খানের ওপর নির্যাতন, এডিসি ইশতিয়াকের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু’
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৩৩ পিএম
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত
কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতা ও বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খানের ওপর ২০১৮ সালে নির্যাতন এবং মাওলানা আলামিনকে অপহরণের পর হত্যার অভিযোগে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) ইশতিয়াক আহমেদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, ২০১৮ সালের ১ জুলাই কোটা সংস্কার আন্দোলনের অন্যতম নেতা রাশেদ খানকে তুলে নিয়ে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়। এ ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা ইতোমধ্যে রাশেদ খানের লিখিত অভিযোগ ও জবানবন্দি গ্রহণ করেছে।
আরও পড়ুন: ‘ইশতিয়াক আহমেদের হাতে নির্যাতনের শিকার হয়েছি’
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে বক্তব্য দেওয়ার কারণে রাশেদ খানের ওপর ওই নির্যাতন চালানো হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। ভিন্নমত দমনে পুলিশ বাহিনীর একটি অংশের এমন দমন-পীড়নকে তিনি বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখছেন না। তার দাবি, সে সময় একই ধরনের পদ্ধতিতে আন্দোলনকারী নেতা-কর্মীসহ অনেক সাধারণ মানুষকে গুম ও নির্যাতন করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, এডিসি ইশতিয়াক আহমেদের বিরুদ্ধে মাওলানা আলামিন নামের এক ব্যক্তিকে অপহরণ, দীর্ঘদিন হেফাজতে আটকে রাখা এবং পরে হত্যার পর তার মরদেহ গুম করার অভিযোগের পক্ষে গুরুতর প্রমাণ পাওয়া গেছে। তদন্ত সংস্থার প্রতিবেদনের ভিত্তিতে মাওলানা আলামিন হত্যা মামলায় ইতোমধ্যে ইশতিয়াক আহমেদের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) দাখিল করা হয়েছে।
প্রসিকিউশনের দাবি, একাধিক ব্যক্তির ওপর একই ধরনের নির্যাতন ও হত্যাকাণ্ডের অভিযোগগুলো বৃহৎ পরিসরে ও পদ্ধতিগতভাবে সংঘটিত অপরাধের অংশ হতে পারে। তাদের মতে, এসব অভিযোগ প্রমাণিত হলে ঘটনাগুলো আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের এখতিয়ারভুক্ত মানবতাবিরোধী অপরাধের আওতায় পড়তে পারে।
চিফ প্রসিকিউটর জানান, এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য পুলিশ কর্মকর্তাদেরও তদন্তের মাধ্যমে শনাক্ত করা হবে। অভিযোগের ভিত্তিতে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
