প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে একনেক সভা শুরু
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:১৮ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
প্রধানমন্ত্রী ও জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে একনেকের সভা শুরু হয়েছে। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় বাংলাদেশ সচিবালয়ের জনপ্রশাসন সভাকক্ষে এ সভা শুরু হয়।
সভায় পরিবহন, স্বাস্থ্য, পানি সম্পদ, ভূমি ব্যবস্থাপনাসহ বিভিন্ন খাতের উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হচ্ছে। এর মধ্যে রাজধানীর গাবতলী থেকে দাশেরকান্দি পর্যন্ত এমআরটি লাইন-৫-এর সাউদার্ন রুট নির্মাণ প্রকল্পও রয়েছে। প্রকল্পটির প্রস্তাবিত ব্যয় ৪৫ হাজার ৫০৩ কোটি ৭৭ লাখ টাকা।
পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানিয়েছে, ‘ঢাকা ম্যাস র্যাপিড ট্রানজিট ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট (লাইন-৫): সাউদার্ন রুট’ বাস্তবায়িত হলে রাজধানীর পশ্চিম ও পূর্বাঞ্চলের মধ্যে পরিবেশবান্ধব গণপরিবহন যোগাযোগ আরও শক্তিশালী হবে।
প্রস্তাবিত মেট্রোরেল রুটটি গাবতলী থেকে শুরু হয়ে টেকনিক্যাল, কল্যাণপুর, শ্যামলী, কলেজ গেট, আসাদ গেট, শুক্রাবাদ, কারওয়ান বাজার, হাতিরঝিল, তেজগাঁও, আফতাবনগর হয়ে দাশেরকান্দি পর্যন্ত যাবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে অন্যান্য মেট্রোরেল করিডোরের সঙ্গেও সংযোগ তৈরি হবে।
প্রকল্পের আওতায় ১৭ দশমিক ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ মেট্রোরেল নির্মাণের প্রস্তাব রয়েছে। এর মধ্যে ১৩ দশমিক ১০ কিলোমিটার পাতালপথে এবং ৪ দশমিক ১০ কিলোমিটার উড়ালপথে নির্মিত হবে। রুটটিতে ১৫টি স্টেশন রাখার প্রস্তাব রয়েছে।
প্রকল্পের মোট ব্যয়ের মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন থাকবে ১৫ হাজার ১৯৭ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। বাকি ৩০ হাজার ৩০৬ কোটি ১০ লাখ টাকা বৈদেশিক ঋণ হিসেবে নেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। এ অর্থ এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও দক্ষিণ কোরিয়ার ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট কো-অপারেশন ফান্ড (ইডিসিএফ) থেকে নেওয়ার কথা।
প্রকল্পটির বাস্তবায়নকাল ধরা হয়েছে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০৩৩ সালের আগস্ট পর্যন্ত। এরই মধ্যে প্রাক্-সম্ভাব্যতা সমীক্ষা, মৌলিক ও বিস্তারিত নকশা, দরপত্রে সহায়তা এবং জমি অধিগ্রহণ ও পুনর্বাসন পরিকল্পনার কাজ সম্পন্ন হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
প্রস্তাব অনুযায়ী, শুরুতে ছয়টি কোচের ১৯টি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ট্রেন চলবে। প্রতিটি ট্রেনে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৯০৮ জন যাত্রী পরিবহনের সক্ষমতা থাকবে। প্রকল্পটি চালু হলে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক যাত্রী এই রুটে যাতায়াতের সুযোগ পাবেন।
প্রকল্পটির ব্যয় নিয়ে এর আগে একাধিকবার পর্যালোচনা করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এর ব্যয় ধরা হয়েছিল ৫৪ হাজার ৬১৮ কোটি ৯৬ লাখ টাকা। পরে বিভিন্ন খাতের ব্যয় পর্যালোচনা ও কমানোর পর সর্বশেষ প্রস্তাবে তা ৪৫ হাজার ৫০৩ কোটি ৭৭ লাখ টাকায় নামিয়ে আনা হয়েছে।
ব্যয় কমানোর ক্ষেত্রে জমি অধিগ্রহণ, যানবাহন, পরামর্শক, সম্মানি ও প্রশাসনিক ব্যয়সহ বিভিন্ন খাত পর্যালোচনা করা হয়েছে। পাশাপাশি বৈদেশিক ঋণের সুদ ও কমিটমেন্ট চার্জের কিছু অংশ প্রকল্প ব্যয়ের হিসাব থেকে বাদ দেওয়ার বিষয়ও রয়েছে।
প্রকল্পে পুনর্বাসনের জন্যও বড় অঙ্কের অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। জমির প্রয়োজনীয়তা কমানো হলেও ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনসহ সংশ্লিষ্ট খাতে অর্থ ব্যয়ের পরিকল্পনা রয়েছে।
এদিকে, একনেকের এ সভায় নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা-জয়দেবপুর রুটে বৈদ্যুতিক ট্রেন চালুর প্রকল্পসহ মোট ১৬টি উন্নয়ন প্রকল্প উপস্থাপনের কথা রয়েছে।
এমআরটি লাইন-৫ প্রকল্প একনেকে অনুমোদন পেলে পরবর্তী ধাপে অর্থায়ন চুক্তি, জমি অধিগ্রহণ ও ঠিকাদার নিয়োগসহ বাস্তবায়ন কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে।
