মূল্যস্ফীতি রোধে ১০০০ টাকার নোট বাতিলে আইনি নোটিশ
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৩৮ পিএম
ফাইল ছবি
দেশের অর্থনীতিকে মূল্যস্ফীতির কবল থেকে রক্ষা করতে স্বর্ণ, রৌপ্য ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছাড়া খেয়ালখুশিমতো টাকা ছাপানো বন্ধ এবং কালোটাকা প্রতিরোধে অবিলম্বে ১০০০ টাকার নোট বাতিলের দাবিতে সরকারকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান জনস্বার্থে এই আইনি নোটিশ পাঠান। মন্ত্রিপরিষদ সচিব, অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের সচিব এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকে এই নোটিশের প্রাপক করা হয়েছে।
নোটিশের মূল বিষয় ও যুক্তিগুলো
টাকা ছাপানোর অনিয়ম: নোটিশে বলা হয়, অর্থনীতি ও মুদ্রানীতির নিয়ম অনুযায়ী নতুন টাকা ছাপানোর বিপরীতে সমপরিমাণ স্বর্ণ, রৌপ্য বা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ থাকা বাধ্যতামূলক। কিন্তু এই নিয়মের তোয়াক্কা না করে বাংলাদেশ ব্যাংক রিজার্ভ ছাড়াই কৃত্রিমভাবে টাকা ছাপিয়ে সরবরাহ করছে। এর ফলে টাকার ক্রয়ক্ষমতা কমে গিয়ে বাজারে লাগামহীন মূল্যস্ফীতি তৈরি হচ্ছে।
আরও পড়ুন: ‘এক পয়সা বেশি ভাড়া আদায় হলে রুট পারমিট বাতিল’
মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন: মূল্যস্ফীতির কারণে সাধারণ ও মধ্যবিত্ত মানুষের জীবনযাত্রার খরচ মেটানোর সামর্থ্য নষ্ট হচ্ছে। সংবিধানে বর্ণিত মর্যাদাপূর্ণভাবে বেঁচে থাকার অধিকারের সঙ্গে এই অর্থনৈতিক সংকট সাংঘর্ষিক বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়।
১০০০ টাকার নোট বাতিলের দাবি: সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন লেনদেনে ১০০০ টাকার মতো বড় নোটের প্রয়োজন হয় না উল্লেখ করে বলা হয়, দুর্নীতিবাজ ও অপরাধীরা কালোটাকা লুকিয়ে রাখতে এই নোট বেশি ব্যবহার করছে। প্রতিবেশী দেশ ভারতের উদাহরণ দিয়ে বলা হয়, কালোটাকা উৎপাটন করতে ১০০০ টাকার নোট বাতিল করা এখন সময়ের দাবি।
আগামী ১৫ দিনের মধ্যে রিজার্ভ ছাড়া টাকা ছাপানো সম্পূর্ণ বন্ধ এবং ১০০০ টাকার নোট বাতিলের বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে নোটিশে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে এ বিষয়ে হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করা হবে বলেও জানানো হয়।
