পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলনে তিন মামলায় কারাগারে ২৬
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১১:২৭ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
রাজধানীর মিরপুরে পোশাকশ্রমিকদের বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে পুলিশের ওপর হামলা, ককটেল বিস্ফোরণ, পুলিশের গাড়িতে আগুন ও ট্রাফিক পুলিশ বক্স ভাঙচুরের অভিযোগে করা তিন মামলায় ২৬ জনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
সোমবার (২ নভেম্বর) ঢাকার দুই মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত পৃথক শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
কারাগারে পাঠানো ব্যক্তিদের মধ্যে পল্লবী থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা মামলার ১৩ জন, একই থানায় বিস্ফোরক দ্রব্য আইন ও দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় করা মামলার সাতজন এবং মিরপুর মডেল থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা মামলার ছয়জন রয়েছেন।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই আবু বকর ছিদ্দিক ও এসআই রফিকুল ইসলাম এ তথ্য জানিয়েছেন।
কারাগারে পাঠানো ব্যক্তিরা হলেন— মো. ওলিউল্লাহ অনিক, মো. কামাল গাজী, আলিফ হোসেন ইমন, রমজান সরকার, মো. মহিম মোল্লা, জুবায়ের ইসলাম ওরফে জিসান, মো. আরিফ আকন্দ, মোয়াজ্জেম শাহরিয়ার নিয়াজ, মো. আরিফ, মো. নাহিদ হাসান, মাহবুবুর রহমান জুয়েল, শামীম, মো. সুমন গাজী, মো. ইউসুফ আলী, রাজীব চন্দ্র দাশ, মো. জামাল সরকার, মো. তারেক হোসেন, মো. ইমরান হোসেন, মো. আবুল কাসেম, মো. মহীন উদ্দিন, কাওসার আহমেদ, মো. রফিক গাজী, মো. ইসমাইল, মো. সাইফুল ইসলাম, মো. সজীব শেখ ও মো. মোর্শেদ আলম।
পুলিশ তিন মামলায় গ্রেপ্তার ২৬ জনকে আদালতে হাজির করে। এ সময় পল্লবী থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা মামলায় ১৩ জনকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো. রাশেদুল ইসলাম। একই থানায় বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে করা মামলায় সাতজনকে কারাগারে পাঠানোর আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা এসআই লিয়াকত হোসেন।
অন্যদিকে, মিরপুর মডেল থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা মামলায় ছয়জনকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আজিম আহমেদ। পৃথক তিন আবেদনের শুনানি শেষে আদালত আসামিদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
পল্লবী থানায় করা দুই মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, রোববার মিরপুর-১২ এলাকায় শ্রমিকদের আন্দোলন চলাকালে একদল ব্যক্তি পুলিশের ওপর হামলা চালান। এ সময় সেখানে প্রায় দুই থেকে আড়াই হাজার মানুষ জড়ো হয়ে বিভিন্ন স্লোগান দিচ্ছিলেন।
এজাহারে আরও বলা হয়, একপর্যায়ে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পুলিশের একটি সরকারি পিকআপে আগুন দেওয়া হয়। ঘটনাস্থল থেকে ককটেলের বিস্ফোরিত অংশ এবং পেট্রলভর্তি দুটি প্লাস্টিকের বোতল জব্দ করার কথা জানিয়েছে পুলিশ।
মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ততার অভিযোগও করা হয়েছে।
মিরপুর মডেল থানায় করা মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, রোববার সকাল ৮টার দিকে মিরপুর-১০ গোলচত্বরে অন্তত চারটি পোশাক কারখানাসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকার প্রায় তিন থেকে চার হাজার শ্রমিক জড়ো হন। তাঁদের সঙ্গে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরাও ছিলেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
শ্রমিকেরা মাসিক ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা মজুরির দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দিচ্ছিলেন। এ সময় মজুরিসংক্রান্ত বিষয়ে মজুরি বোর্ড গঠনের কথা জানিয়ে তাঁদের কর্মস্থলে ফিরে যাওয়ার অনুরোধ করেন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
একপর্যায়ে আন্দোলনকারীদের একটি অংশ পুলিশের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। পরে মিরপুর-১০ এলাকার একটি ট্রাফিক পুলিশ বক্স ভাঙচুর করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ও কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে। এ সময় ইটপাটকেলের আঘাতে দায়িত্ব পালনরত সামিয়া নামের এক নারী পুলিশ সদস্য আহত হন।
