গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি নবায়নের বিষয়ে যা বললেন শামা ওবায়েদ
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১০:৪৬ পিএম
ফাইল ছবি
চলতি বছরের ডিসেম্বরে মেয়াদ শেষ হতে যাওয়া গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তি নির্ধারিত সময়ের আগেই ভারতের সঙ্গে নবায়ন করা সম্ভব হবে বলে আশাবাদী বাংলাদেশ। দেশের পানির ন্যায্য হিস্যা ও দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে এ বিষয়ে আলোচনার প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার।
সোমবার (২ নভেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
তিনি বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি এবং আশাবাদী, চলতি বছর মেয়াদ শেষ হতে যাওয়া চুক্তিটি নবায়ন হবে। ভারতও এ বিষয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেবে বলে আমরা আশাবাদী।’
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে ভারতের সঙ্গে আলোচনার জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ইতোমধ্যে একটি কমিটি গঠন করেছেন। আগামী ডিসেম্বরে চুক্তিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। পানিসম্পদমন্ত্রী ও সরকারের অর্থ উপদেষ্টা এ প্রক্রিয়ায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন। কমিটিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন প্রতিনিধিও রয়েছেন।
শামা ওবায়েদ ইসলাম আরও জানান, ভারতের সঙ্গে বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা চলছে। অমীমাংসিত বিষয়গুলো নিষ্পত্তির লক্ষ্যে আনুষ্ঠানিক আলোচনাও হবে। আসন্ন আলোচনায় ইতিবাচক ফল আসবে এবং গঙ্গার পানি বণ্টনে দুই প্রতিবেশী দেশের সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে তা সহায়ক হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
বিদ্যমান চুক্তিটি সরাসরি নবায়ন করা হবে, নাকি সংশোধিত শর্ত যুক্ত করে নতুন চুক্তি করা হবে— এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, গঠিত কমিটির পর্যালোচনার ভিত্তিতে সরকার আলোচনার অবস্থান নির্ধারণ করবে।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, বাংলাদেশ তার ন্যায্য দাবি আদায়ে সচেষ্ট থাকবে। দেশের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ পানির চাহিদাকে অগ্রাধিকার দিয়েই আলোচনার বিষয়বস্তু নির্ধারণ করা হবে। তাঁর ভাষায়, ‘আমাদের ন্যায্য দাবি এবং বাংলাদেশ ও এ দেশের মানুষের প্রয়োজনকে ভিত্তি করেই আলোচনা এগিয়ে নেওয়া হবে। আমাদের ভবিষ্যৎ স্বার্থের জন্য সবচেয়ে ভালো হয় এবং পানিসংকট সমাধানে সহায়ক হয়— এমনভাবেই আমরা সিদ্ধান্ত নেব।’
উল্লেখ্য, ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে স্বাক্ষরিত ৩০ বছর মেয়াদি গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তির মেয়াদ চলতি বছরের ডিসেম্বরে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
