অনলাইন বা অফলাইনে প্রতারণার শিকার হলে যা করবেন
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৭ জুলাই ২০২৬, ১১:২৬ এএম
ছবি: সংগৃহীত
আজকের ডিজিটাল যুগে অর্থনৈতিক লেনদেন ও যোগাযোগ সহজ হলেও বেড়েছে প্রতারণার ঝুঁকি। অনলাইন কেনাকাটা, ভুয়া ফোন কল, আর্থিক জালিয়াতি কিংবা জমি-জমা সংক্রান্ত বিষয়ে অনেকেই প্রতারণার শিকার হচ্ছেন। অসাবধানতা বা তথ্যের অভাবে অনেকেই বুঝতে পারেন না এমন পরিস্থিতিতে কী করা উচিত। প্রতারণার মুখোমুখি হলে মানসিকভাবে ভেঙে না পড়ে দ্রুত কিছু আইনি ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
১. তাত্ক্ষণিক প্রমাণ সংগ্রহ করুন:
প্রতারণার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সমস্ত প্রমাণ গুছিয়ে ফেলুন।
অনলাইন প্রতারণা:
চ্যাট হিস্ট্রি, মেসেজ, স্ক্রিনশট, ইমেইল, ওয়েবসাইট বা ফেসবুক পেজের লিঙ্ক এবং পেজ প্রফাইল সংরক্ষণ করুন।
আর্থিক লেনদেন:
বিকাশ, রকেট, নগদ বা ব্যাংক ট্রান্সফারের স্টেটমেন্ট, রসিদ এবং ট্রানজেকশন আইডি (Transaction ID) যত্ন করে রাখুন।
ফোন কল:
যে নম্বর থেকে কল এসেছিল, সেই নম্বর ও কলের সময়সূচি লিখে রাখুন।
আরো পড়ুন: সকালের নাস্তায় কি খাওয়া ভালো?
২. দ্রুত সাধারণ ডায়েরি (জিডি) বা অভিযোগ দায়ের করুন
যেকোনো ধরনের প্রতারণার ক্ষেত্রে নিকটস্থ থানায় আইনি সহায়তা নেওয়া প্রথম কাজ।
সাধারণ ডায়েরি (জিডি): নিকটস্থ থানায় গিয়ে ঘটনার বিস্তারিত জানিয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি করুন। অনলাইন জিডির সুযোগ থাকলে ঘরে বসেও তা করতে পারেন।
সাইবার ট্রাইব্যুনাল বা সিআইডি: প্রতারণাটি যদি ইন্টারনেট বা ডিজিটাল মাধ্যমে হয়, তবে বাংলাদেশ পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন বিভাগ বা সিআইডি -এর সাইবার হেল্পডেস্কে সরাসরি অভিযোগ জানাতে পারেন।
৩. ব্যাংকিং সার্ভিস ও পেমেন্ট গেটওয়েতে যোগাযোগ
আর্থিক কার্ড বা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নিলে, দ্রুত সংশ্লিষ্ট ব্যাংক বা মোবাইল ব্যাংকিং হেল্পলাইনে কল করে অ্যাকাউন্ট বা কার্ড সাময়িকভাবে ব্লক করুন।
লেনদেনের ভুয়া তথ্য জানিয়ে লিখিত অভিযোগ দিন, যাতে পুলিশি তদন্তের মাধ্যমে টাকা পুনরুদ্ধারের সুযোগ থাকে।
৪. জাতীয় জরুরি সেবায় কল করু
জরুরি আইনি পরামর্শ বা দিকনির্দেশনা পেতে বাংলাদেশ সরকারের জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল করতে পারেন। এ ছাড়া জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ পরিদপ্তরে (যদি পণ্য বা সেবা সংক্রান্ত প্রতারণা হয়) অভিযোগ জমা দেওয়া যায়।
৫. প্রতারক সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করুন
প্রতারকের ব্যবহৃত নম্বর, ফেসবুক পেজ বা অ্যাকাউন্টের বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সচেতনতামূলক তথ্য শেয়ার করতে পারেন (আইনি সীমার মধ্যে থেকে), যাতে অন্য কেউ নতুন করে প্রতারিত না হন।
মনে রাখবেন, প্রতারণার শিকার হলে চুপ থাকা বা বিষয়টি চেপে যাওয়া প্রতারকদের আরো সাহস যোগায়। সঠিক সময়ে আইনি ব্যবস্থা নিলে বিচার পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে এবং অপরাধীদের প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়।
