সকালের নাস্তায় কি খাওয়া ভালো?
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৭ জুলাই ২০২৬, ০৯:৩৬ এএম
ছবি: সংগৃহীত
সারাদিনের কর্মব্যস্ততা ও শক্তির জোগান নিশ্চিত করার জন্য সকালের নাশতা বা ব্রেকফাস্টকে দিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খাবার হিসেবে বিবেচনা করা হয়। দীর্ঘ ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা ঘুমের পর শরীরের মেটাবলিজম বা বিপাকক্রিয়া সচল করতে এবং মস্তিষ্কে জ্বালানি জোগাতে পুষ্টিকর খাবার খাওয়া অত্যন্ত জরুরি। সকালে প্রক্রিয়াজাত বা অতিরিক্ত তেল-মসলাযুক্ত খাবারের বদলে পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ খাবার নির্বাচন করা দেহের সামগ্রিক সুস্থতার জন্য অপরিহার্য।
সকালের নাশতায় প্রোটিন, ফাইবার, স্বাস্থ্যকর ফ্যাট এবং ভিটামিনের সঠিক সমন্বয় থাকা দরকার। নিচে সকালের জন্য উপযোগী সেরা কিছু খাবারের তালিকা দেওয়া হলো:
ডিম
সকালের নাস্তার জন্য ডিম অন্যতম সেরা একটি খাবার। এতে প্রচুর পরিমাণে উচ্চমানের প্রোটিন এবং কোলিন থাকে, যা মস্তিষ্ক ও স্মৃতিশক্তির জন্য দারুণ উপকারী। ডিম খেলে দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা থাকে, ফলে বারবার ক্ষুধা লাগার প্রবণতা কমে।
ওটস
ওটসে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে দ্রবণীয় ফাইবার বা বিটা-গ্লুকান, যা খারাপ কোলেস্টেরল (LDL) কমাতে সাহায্য করে। এটি রক্তে শর্ุกরার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং হজমশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। ওটসের সাথে দুধ, ফল ও বাদাম মিশিয়ে খেলে পুষ্টিগুণ বহুগুণ বেড়ে যায়।
ফলমূল ও শাকসবজি
সকালে তাজা ফল বা ফলের রস (চিনি ছাড়া) শরীরকে হাইড্রেট রাখতে এবং ভিটামিন ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের চাহিদা মেটাতে সাহায্য করে। আপেল, কলা, পেঁপে বা মৌসুমি ফল সকালের খাবারে রাখা অত্যন্ত স্বাস্থ্যকর। এছাড়া সবজির সালাদ বা সেদ্ধ সবজিও চমৎকার অপশন।
টক দই
টক দই প্রোবায়োটিক্সে ভরপুর, যা অন্ত্রের (gut) সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। এর সাথে কিছু ওটস, মধু বা ফল মিশিয়ে খাওয়া যেতে পারে।
বাদাম ও বীজ
আমন্ড, কাঠবাদাম, চিয়া সিড বা ফ্লাক্স সিড (তিসি বীজ)-এ রয়েছে হেলদি ফ্যাট, ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড এবং প্রোটিন। এগুলো শক্তির ভালো উৎস এবং হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়।
সকালের নাস্তা করার সঠিক নিয়ম ও টিপস
১. ঘুম থেকে ওঠার ১ থেকে ২ ঘণ্টার মধ্যে সকালের নাস্তা সেরে নেওয়া উচিত।
২. সকালবেলা ঘুম থেকে উঠে এক গ্লাস কুসুম গরম পানি পান করলে শরীরের টক্সিন দূর হয় এবং পরিপাকতন্ত্র সক্রিয় হয়।
৩. সকালে অতিরিক্ত মিষ্টি খাবার, প্যাকেটজাত জুস বা তেলভাজা খাবার এড়িয়ে চলা উচিত, কারণ এগুলো রক্তে শর্করার মাত্রা হুট করে বাড়িয়ে দেয় এবং দ্রুত ক্লান্তি নিয়ে আসে।
সকালের সঠিক ও পুষ্টিকর খাবার নির্বাচন শরীরকে সারাদিন চটপটে ও কর্মক্ষম রাখতে সাহায্য করে। তাই ফাস্টফুড বা অস্বাস্থ্যকর খাবারের অভ্যাস বাদ দিয়ে পুষ্টিগুণে ভরপুর প্রাকৃতিক খাবারকে সকালের খাদ্যতালিকায় প্রাধান্য দেওয়া উচিত।
