১৬ বছর ধরে ফাইলে বন্দি রাবার ড্যাম, সেচ ব্যয়ে নাজেহাল ৫ হাজার কৃষক
শেরপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০২৬, ০৯:২১ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
একটি রাবার ড্যাম নির্মাণ হলেই ঝিনাইগাতী ও শ্রীবরদী উপজেলার প্রায় ৫ হাজার কৃষকের সেচ সংকট দূর হতে পারে। এতে বোরো চাষে সেচ ব্যয় এক একরে প্রায় ৮ হাজার টাকা থেকে কমে ৩ হাজার টাকায় নেমে আসবে বলে আশা করছেন কৃষকরা। অথচ ২০১০ সালে প্রস্তাব পাঠানো হলেও প্রকল্পটি এখনো ফাইলেই আটকে রয়েছে।
শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার সোমেশ্বরী নদীর তাওয়াকোচা এলাকায় রাবার ড্যাম নির্মাণের দাবি স্বাধীনতার পর থেকেই স্থানীয় কৃষকদের। বিভিন্ন সময়ে জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্বাস মিললেও ৫৫ বছরেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। ফলে উচ্চমূল্যে গভীর নলকূপের পানি কিনে বোরো আবাদ করতে হচ্ছে কৃষকদের।
কৃষকদের ভাষ্য, বর্তমানে বোরো মৌসুমে এক একর জমিতে সেচ দিতে গভীর নলকূপের মালিককে প্রায় ৮ হাজার টাকা দিতে হয়। এতে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় চাষাবাদ করে লাভ করতে পারছেন না তারা। তবে রাবার ড্যাম নির্মাণ হলে একই জমিতে সেচ ব্যয় প্রায় ৩ হাজার টাকায় নেমে আসবে।
ভারতের মেঘালয় থেকে উৎপন্ন সোমেশ্বরী নদী শ্রীবরদী উপজেলার খাড়ামুড়া ও বালিজুড়ি হয়ে ঝিনাইগাতী উপজেলার কাংশা ইউনিয়নের তাওয়াকোচা, দুপুরিয়া, ধানশাইল ইউনিয়নের বিলাশপুর, কান্দুলি এবং সদর ইউনিয়নের দাড়িয়ারপার, সাড়িকালিনগর, গজারমারি, লঙ্গেশ্বর, বগাডুবি হয়ে চতল এলাকায় প্রবাহিত হয়েছে।
স্বাধীনতার পর দীর্ঘদিন সোমেশ্বরী নদীর বালিজুড়ি এলাকায় বাঁধ নির্মাণ করে শ্রীবরদী ও ঝিনাইগাতীর প্রায় ৫ হাজার একর জমিতে বোরো চাষাবাদ করা হতো। তবে এতে ভাটির কৃষকরা সেচ সংকটে পড়তেন। এ নিয়ে কৃষকদের মধ্যে সংঘর্ষ, বিরোধ ও মামলার ঘটনাও ঘটেছে।
স্থানীয়দের দাবি, ২০০১ সালে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) প্রায় ৪ কোটি টাকা ব্যয়ে সোমেশ্বরী নদীর আযনাপুর এলাকায় একটি রাবার ড্যাম নির্মাণ করে। কিন্তু উপযুক্ত স্থান নির্বাচন না করায় পাহাড়ি ঢলের তোড়ে সেটি বিধ্বস্ত হয়। ফলে সরকারের বিপুল অর্থ ব্যয় হলেও প্রকল্পটি স্থায়ী সুফল দিতে পারেনি। এরপর আর নতুন করে রাবার ড্যাম নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। পরে এলাকায় সেচ সুবিধা বাড়াতে বাণিজ্যিকভাবে গভীর নলকূপ স্থাপন করা হয়।
উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্র জানায়, ২০১০ সালে জাইকা প্রকল্পের আওতায় সোমেশ্বরী নদীর তাওয়াকোচা এলাকায় একটি রাবার ড্যাম নির্মাণের প্রস্তাব সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘ ১৬ বছরেও সেই প্রস্তাব বাস্তবায়নের মুখ দেখেনি।
স্থানীয় কৃষকদের মতে, তাওয়াকোচায় রাবার ড্যাম নির্মাণ হলে ড্যামের পানি ব্যবহার করে স্বল্প খরচে সেচ দেওয়া সম্ভব হবে। এতে ঝিনাইগাতী ও শ্রীবরদী উপজেলার প্রায় ৫ হাজার কৃষক সরাসরি উপকৃত হবেন এবং তাদের জীবন-জীবিকায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ ফরহাদ হোসেন বলেন, নির্ধারিত স্থানে একটি রাবার ড্যাম নির্মাণ করা হলে পরিবেশবান্ধব উপায়ে স্বল্প খরচে সেচ দেওয়া সম্ভব হবে। এতে কৃষকের উৎপাদন ব্যয় কমবে, খাদ্য উৎপাদন বাড়বে এবং প্রায় ৫ হাজার কৃষকের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতি হবে।
