যেসব অভ্যাসে সবসময় ঝকঝকে থাকে ব্রিটিশদের ঘর
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ জুলাই ২০২৬, ০৩:৪৩ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
অনেকেরই ধারণা, ব্রিটেনে ধুলোবালি তুলনামূলক কম থাকায় সেখানকার ঘরবাড়ি সবসময় ঝকঝকে ও স্বাস্থ্যকর থাকে। বাস্তবে বিষয়টি এতটা সহজ নয়। বরং ঘর পরিচ্ছন্ন রাখার ক্ষেত্রে ব্রিটিশদের সাফল্যের মূল রহস্য লুকিয়ে আছে কিছু ছোট কিন্তু নিয়মিত অভ্যাসে। প্রতিদিন মাত্র ১৫ থেকে ২০ মিনিট সময় ব্যয় করে তারা এমনভাবে ঘরের যত্ন নেন, যার ফলে সপ্তাহ শেষে বা মাসে একবার দীর্ঘ সময় ধরে ডিপ ক্লিন করার প্রয়োজন অনেকটাই কমে যায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদিন কয়েক মিনিট করে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অভ্যাস গড়ে তুললে ঘরে ময়লা, ধুলো, জীবাণু ও দুর্গন্ধ জমার সুযোগ কমে যায়। ফলে বাড়ি সবসময় গোছানো, পরিচ্ছন্ন এবং স্বাস্থ্যসম্মত থাকে। ব্রিটিশদের এমনই কিছু কার্যকর অভ্যাস তুলে ধরা হলো।
ঘুম থেকে উঠেই বিছানা গুছিয়ে ফেলেন না
অনেকেই সকালে ঘুম থেকে উঠেই বিছানা গুছিয়ে ফেলেন। কিন্তু ব্রিটিশদের একটি বড় অংশ এ অভ্যাস অনুসরণ করেন না। তারা ঘুম থেকে ওঠার পর বিছানার চাদর ও কম্বল কিছু সময়ের জন্য ভাঁজ করে রাখেন বা সরিয়ে দেন, যাতে বিছানায় জমে থাকা আর্দ্রতা ও শরীরের তাপ বের হয়ে যেতে পারে। বালিশগুলো ঝেড়ে নেন এবং ঘরের জানালা খুলে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস প্রবেশ করতে দেন। প্রায় এক ঘণ্টা পর বিছানা সুন্দরভাবে গুছিয়ে নেন। এতে বিছানা তুলনামূলক শুষ্ক ও সতেজ থাকে।
বাথরুমের সিঙ্ক ভেজা রাখেন না
হাত ধোয়া, দাঁত ব্রাশ করা, মুখ ধোয়া কিংবা মেকআপ করার কারণে বাথরুমের সিঙ্ক ও কাউন্টারটপ খুব দ্রুত নোংরা হয়ে যায়। ব্রিটিশরা প্রতিবার ব্যবহার শেষে একটি মাইক্রোফাইবার কাপড় দিয়ে সিঙ্ক, কল ও কাউন্টার দ্রুত মুছে ফেলেন। এতে পানির দাগ জমে না, সাবানের আস্তরণ পড়ে না এবং জীবাণু ছড়ানোর ঝুঁকিও কমে যায়।
ফোন, ল্যাপটপ ও ব্যবহৃত জিনিস প্রতিদিন জীবাণুমুক্ত করেন
মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ, ব্যাগ কিংবা দরজার সুইচ—এসব জিনিসে প্রতিদিন অসংখ্য জীবাণু জমে। বিশেষ করে যারা নিয়মিত গণপরিবহন ব্যবহার করেন, তারা বাইরে থেকেই ফোন ও ব্যাগ জীবাণুমুক্ত করার চেষ্টা করেন। অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল ওয়াইপস দিয়ে ফোন, ল্যাপটপের কিবোর্ড, ব্যাকপ্যাক, হ্যান্ডব্যাগ এমনকি লাইটের সুইচও পরিষ্কার করেন। এতে বাইরের জীবাণু ঘরের ভেতরে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা অনেকটাই কমে।
আরো পড়ুন : বর্ষায় শখের বাগানের যত্ন নেবেন যেভাবে
প্রতিদিন কয়েক মিনিট সময় দেন ঘর গুছাতে
ঘর পরিষ্কার রাখার সবচেয়ে কার্যকর অভ্যাসগুলোর একটি হলো প্রতিদিন অল্প সময় নিয়ে জিনিসপত্র গুছিয়ে রাখা। ব্রিটিশরা জুতা নির্দিষ্ট জায়গায় রাখা, ব্যাগ খালি করা, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আলাদা করা, অপ্রয়োজনীয় কাগজ ফেলে দেওয়া, ব্যবহৃত থালাবাসন ডিশওয়াশারে রাখা কিংবা টেবিল পরিষ্কার করার মতো ছোট ছোট কাজ প্রতিদিনই করেন। এতে ঘরে কোনো অগোছালো পরিবেশ তৈরি হয় না।
রান্নাঘরের কাউন্টার সবসময় শুকনো রাখেন
রান্নাঘর ঘরের সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত অংশগুলোর একটি। তাই রান্নার সময়ই কাউন্টারে পড়ে থাকা ময়লা বা খাবারের দাগ পরিষ্কার করে ফেলেন তারা। রাতের খাবার শেষে আবারও অল-পারপাস ক্লিনার ব্যবহার করে পুরো কাউন্টার মুছে ফেলেন। সাধারণত সুইডিশ ডিশক্লথ বা মাইক্রোফাইবার কাপড় ব্যবহার করা হয়, যা সহজেই পানি শোষণ করে এবং দাগ দূর করে।
রান্নাঘরের সিঙ্ক প্রতিদিন পরিষ্কার করেন
থালাবাসন ধোয়ার পর বা ডিশওয়াশারে রাখার পরও তারা রান্নাঘরের সিঙ্ক পরিষ্কার করতে ভুল করেন না। প্রথমে স্প্রেয়ার দিয়ে সিঙ্ক ধুয়ে নেন। এরপর ওয়াশিং-আপ লিকুইড ও নির্দিষ্ট একটি স্পঞ্জ দিয়ে প্রতিদিন সিঙ্ক ঘষে পরিষ্কার করেন। এতে সিঙ্কে দুর্গন্ধ, দাগ বা জীবাণু জমার সুযোগ থাকে না।
বেশি ব্যবহৃত জায়গা থেকেই ভ্যাকুয়াম শুরু করেন
প্রতিদিন পুরো ঘরে ভ্যাকুয়াম করা সম্ভব না হলেও বেশি ব্যবহৃত স্থানগুলো পরিষ্কার রাখার চেষ্টা করেন ব্রিটিশরা। প্রথমে রান্নাঘর, প্রবেশপথ, করিডর বা যেখানে বেশি চলাচল হয় সেখানে ভ্যাকুয়াম করেন। এরপর সময় থাকলে বসার ঘর ও শোয়ার ঘর পরিষ্কার করেন। প্রতিদিন মাত্র কয়েক মিনিটের এই অভ্যাস ধুলো জমতে দেয় না।
প্রতিদিন ফ্রিজের ভেতর নজর রাখেন
দুর্গন্ধযুক্ত কিংবা অপরিচ্ছন্ন ফ্রিজ ব্রিটিশদের কাছে একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়। তাই প্রতিদিন এক-দুই মিনিট সময় নিয়ে তারা ফ্রিজ খুলে দেখে নেন কোনো খাবারের মেয়াদ শেষ হয়েছে কি না, কোনো ফল বা সবজি নষ্ট হয়েছে কি না। যেসব খাবার আর খাওয়া হবে না, সেগুলো দ্রুত ফেলে দেন। তাকে কোনো তরল বা আঠালো দাগ দেখা গেলেই সঙ্গে সঙ্গে পরিষ্কার করেন।
খাবার টেবিল সবসময় পরিষ্কার রাখেন
খাবার শেষ হওয়ার পর ডাইনিং টেবিল মুছে ফেলতে তাদের সময় লাগে মাত্র ৩০ সেকেন্ড। শুধু ডাইনিং টেবিল নয়, কফি টেবিল, সেন্টার টেবিল বা নিয়মিত ব্যবহৃত অন্যান্য টেবিলও প্রতিদিন মুছে রাখেন। ফলে ধুলো জমে না এবং সপ্তাহ শেষে আলাদা করে দীর্ঘ সময় ধরে পরিষ্কার করার প্রয়োজনও পড়ে না।
ছোট ছোট অভ্যাসেই বড় পরিবর্তন
বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিচ্ছন্ন ঘর বজায় রাখতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নিয়মিত যত্ন নেওয়া। প্রতিদিন মাত্র ১৫ থেকে ২০ মিনিট সময় ব্যয় করে যদি বিছানা, রান্নাঘর, বাথরুম, ফ্রিজ, টেবিল, ফোন বা বেশি ব্যবহৃত জায়গাগুলো পরিষ্কার রাখা যায়, তাহলে বড় ধরনের ময়লা বা অগোছালো পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার সুযোগ থাকে না।
এ কারণেই ব্রিটিশদের অনেক ঘর সবসময় ঝকঝকে, স্বাস্থ্যকর ও পরিপাটি দেখায়। এর পেছনে বড় কোনো গোপন রহস্য নয়, বরং প্রতিদিনের ছোট ছোট সচেতন অভ্যাসই সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখে।
