জুমার খুতবা
সব ইবাদত কি আল্লাহর কাছে পৌঁছায়? ইবাদত কবুলের শর্ত কি?
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:২৮ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
মহান আল্লাহ বলেছেন, ‘আর আমি জিন ও মানুষকে কেবল আমার ইবাদতের জন্যই সৃষ্টি করেছি।’ আর ইবাদতের অর্থ হলো আনুগত্য ও বিনয়ের চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ ঘটানো। সুতরাং আপনারা আল্লাহ তাআলার ইবাদত করুন এবং সমস্ত বিষয়ে তাঁর অনুগত থাকুন; কারণ আপনারা তাঁর ইবাদতের জন্য আদিষ্ট।
নির্দিষ্ট কিছু শর্ত ছাড়া ইবাদত কবুল হয় না। তার মধ্যে একটি হলো এক মাবুদ হিসেবে শুধু তাঁরই ইবাদত করা। ইবাদতের ক্ষেত্রে তার সঙ্গে কাউকে শরিক না করা। তিনি যেমন তাঁর সত্তায় একক, তাঁর গুণাবলিতেও একক এবং তাঁর ইবাদতেও একক। সুতরাং আপনারা আল্লাহ তাআলার ইবাদত করুন এবং ইবাদতের ক্ষেত্রে তাঁর সাথে কোনো কিছুকে শরিক করবেন না।
আরেকটি শর্ত হলো, ইবাদতে ইখলাস থাকা। নিশ্চয়ই ইখলাস হলো আমলের রূহ বা প্রাণ। মহান আল্লাহ বলেছেন, `তাদেরকে কেবল এই নির্দেশই দেওয়া হয়েছিল যে, তারা যেন আল্লাহর ইবাদত করে তাঁর প্রতি আনুগত্যে মুখলিস বা একনিষ্ঠ হয়ে।’ নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই সমস্ত আমল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল। আর প্রত্যেক ব্যক্তি তাই পাবে যা সে নিয়ত করবে। সুতরাং যার হিজরত হবে দুনিয়া অর্জনের জন্য কিংবা কোনো নারীকে বিয়ে করার উদ্দেশ্যে, তবে তার হিজরত সেই বিষয়ের জন্যই গণ্য হবে যার জন্য সে হিজরত করেছে।’ এই আয়াত ও হাদিস থেকে স্পষ্ট হয় যে, কোনো আমলে ইখলাস না থাকলে তা আল্লাহ তাআলার দরবারে কবুল হয় না।
আল্লাহ তাআলা আরও বলেন, ‘হে ইমানদারগণ! খোঁটা ও কষ্ট দিয়ে তোমরা নিজেদের দান-খয়রাতকে ওই ব্যক্তির মত ব্যর্থ করে দিও না যে নিজের সম্পদ লোক-দেখানোর জন্য ব্যয় করে থাকে এবং আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাস রাখে না। তার তুলনা সেই মসৃণ পাথরের মত, যাতে সামান্য কিছু মাটি আছে, তারপর প্রবল বৃষ্টিপাত তাকে পরিষ্কার করে ফেলে। তারা নিজেদের আমলের ফল কিছুই পাবে না; আল্লাহ কাফেরদেরকে পথপ্রদর্শন করেন না।’
হাদিসেও রিয়া বা লোকদেখানো আমলকারীর জন্য কঠোর হুঁশিয়ারি এসেছে। নবী (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা 'জুব্বুল হাযন' (দুঃখের কূপ) থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাও।’ সাহাবিগণ বললেন, হে আল্লাহর রাসুল! জুব্বুল হাযন কী? তিনি বললেন, ‘এটি জাহান্নামের এমন একটি উপত্যকা যা থেকে জাহান্নাম নিজেই প্রতিদিন চারশ বার আশ্রয় চায়।’ বলা হলো, হে আল্লাহর রাসুল! সেখানে কারা প্রবেশ করবে? তিনি বললেন, ‘এটি সেইসব ক্বারীদের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে যারা মানুষকে দেখানোর জন্য কোরআন পড়ে।’ (সুনানে ইবনে মাজা)
আমল কবুল হওয়ার আরেকটি শর্ত হলো, পবিত্র বা হালাল খাদ্য গ্রহণ করা। মহান আল্লাহ বলেছেন, ‘হে রাসুলগণ! তোমরা পবিত্র বস্তু থেকে আহার করো এবং সৎকাজ করো। নিশ্চয়ই তোমরা যা করো সে সম্পর্কে আমি সম্যক অবগত।’
আরেকটি শর্ত হলো, আমলসমূহ নবীজির (সা.) তরীকা বা পদ্ধতি অনুসরণ করে করা। যেমনটি নবী (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা সেভাবে নামাজ আদায় করো যেভাবে আমাকে নামাজ আদায় করতে দেখেছো।’ এবং তিনি আরও বলেছেন, ‘তোমরা আমার কাছ থেকে তোমাদের হজের নিয়মাবলী শিখে নাও।’
বিতাড়িত শয়তান থেকে আল্লাহর আশ্রয় চাচ্ছি। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘নিশ্চয়ই যারা ইমান এনেছে এবং সৎকাজ করেছে, তাদের আতিথেয়তার জন্য রয়েছে জান্নাতুল ফিরদাউস। সেখানে তারা চিরকাল থাকবে এবং সেখান থেকে স্থান পরিবর্তন করতে চাইবে না।’
