×

মধ্যপ্রাচ্য

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত

ট্রাম্প পাকিস্তান সফর বাতিলের পর পরবর্তী পদক্ষেপ কী?

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ০১:২০ পিএম

ট্রাম্প পাকিস্তান সফর বাতিলের পর পরবর্তী পদক্ষেপ কী?

ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পাকিস্তানে মার্কিন প্রতিনিধিদের সফর বাতিল করার পর পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তবে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, আগামী মঙ্গলবারের দিকে নতুন কোনো অগ্রগতি দেখা যেতে পারে। যদিও সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে মূল দায়িত্ব এখন তৃতীয় পক্ষের মধ্যস্থতাকারীদের ওপরই পড়ছে। বিশেষ করে পাকিস্তান ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বার্তা আদান–প্রদানের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে কাজ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সামরিক দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালির ওপর নজরদারি এবং নৌ-অবস্থান আরো শক্তিশালী করতে পারে। একই সঙ্গে ইরানের সামুদ্রিক কার্যক্রমের ওপরও কড়া নজরদারি চালিয়ে তেহরানের ওপর চাপ বজায় রাখার কৌশল অব্যাহত থাকবে।

অর্থনৈতিক দিক থেকে এখনো আলোচনার পুনরায় শুরু নিয়ে কোনো নির্দিষ্ট সময় ঘোষণা হয়নি। ফলে মধ্যস্থতাকারীরা কূটনৈতিক চ্যানেল ব্যবহার করে দুই পক্ষকে আলোচনার টেবিলে ফেরানোর চেষ্টা চালিয়ে যাবে।

বর্তমানে সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার হলো বিদ্যমান অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি ধরে রাখা। মার্কিন কূটনীতিকদের লক্ষ্য হচ্ছে এই ভঙ্গুর শান্তি যেন ভেঙে না পড়ে এবং পরিস্থিতি আবারও সংঘাতের দিকে না যায়।

বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, এই কূটনৈতিক উদ্যোগ ব্যর্থ হলে পরিস্থিতি আবারও উত্তপ্ত হয়ে সরাসরি সংঘর্ষের দিকে গড়াতে পারে।

আরো পড়ুন : যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের আলোচনার সম্ভাবনা নিয়ে সর্বশেষ পরিস্থিতি কী?

যুক্তরাষ্ট্র–ইরান আলোচনায় মূল বিরোধের বিষয়গুলো-

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য কোনো চুক্তি বা সমঝোতা নিয়ে আলোচনা চললেও এখনো বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে দুই পক্ষের অবস্থান সম্পূর্ণ ভিন্ন। এসব বিরোধই মূলত আলোচনাকে এগোতে দিচ্ছে না।

১. ইরানের পরমাণু কর্মসূচি: যুক্তরাষ্ট্র চায় ইরান সম্পূর্ণভাবে তার পরমাণু কর্মসূচি বন্ধ করুক। কিন্তু তেহরান বলছে, কোনো ধরনের সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হলে তা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সীমিত থাকতে হবে, স্থায়ীভাবে নয়।

২. ইউরেনিয়াম মজুত: যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, ইরানের কাছে থাকা প্রায় ৪০০ কেজি উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতে দিতে হবে। তবে ইরান এই দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে।

৩. হরমুজ প্রণালি ইস্যু: ইরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানি বন্দরে আরোপিত অবরোধ তুলে না নিলে তারা হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলে কড়াকড়ি বজায় রাখবে। অন্যদিকে চুক্তি না হলে অবরোধ প্রত্যাহার করা হবে না বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

৪. জব্দকৃত অর্থ ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার: ইরান দাবি করছে, যেকোনো চূড়ান্ত সমঝোতার অংশ হিসেবে তাদের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে হবে এবং প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারের জব্দকৃত সম্পদ ফিরিয়ে দিতে হবে।

৫. যুদ্ধ ক্ষতিপূরণ: ইরান আরো দাবি করেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় যে ক্ষতি হয়েছে তার জন্য প্রায় ২৭০ বিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।

সব মিলিয়ে দেখা যাচ্ছে, পারমাণবিক কর্মসূচি থেকে শুরু করে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ও সামরিক চাপ—সব ক্ষেত্রেই দুই দেশের অবস্থান বিপরীত হওয়ায় চুক্তি এখনো অনেকটাই অনিশ্চিত।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

আততায়ীর হাতে প্রাণ হারিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের যে ৪ প্রেসিডেন্ট

আততায়ীর হাতে প্রাণ হারিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের যে ৪ প্রেসিডেন্ট

একসঙ্গে ১৫ অধিদপ্তর ও সংস্থায় নতুন প্রধান নিয়োগ

একসঙ্গে ১৫ অধিদপ্তর ও সংস্থায় নতুন প্রধান নিয়োগ

বিভিন্ন দপ্তরে বড় রদবদল, ১১ ডিজি ও ৩ চেয়ারম্যান নিয়োগ

বিভিন্ন দপ্তরে বড় রদবদল, ১১ ডিজি ও ৩ চেয়ারম্যান নিয়োগ

সাগর-রুনি হত্যার তদন্তে আরো সময় লাগার কারণ জানালেন অ্যাটর্নি জেনারেল

সাগর-রুনি হত্যার তদন্তে আরো সময় লাগার কারণ জানালেন অ্যাটর্নি জেনারেল

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App