মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০১:৫৬ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
ইরানের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ চাবাহার বন্দরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলার পর বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার শঙ্কায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) লেনদেনের শুরুতেই আন্তর্জাতিক বাজারের মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৫ দশমিক ২০ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৭৮ দশমিক ০২ ডলারে পৌঁছায়। একই সময়ে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ১ দশমিক ৪১ শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায় ব্যারেলপ্রতি ৭৪ দশমিক ৫৬ ডলার।
এশিয়ার শোধনাগারগুলোতে বহুল ব্যবহৃত আবুধাবির প্রধান রপ্তানিযোগ্য গ্রেড মুরবান ক্রুডের দাম সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। এদিন এর মূল্য ৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারেলপ্রতি ৭৩ দশমিক ৫৭ ডলারে ওঠে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের প্রাকৃতিক গ্যাসের দামও শূন্য দশমিক ২৫ শতাংশ বেড়ে ৩ দশমিক ২২০ ডলারে পৌঁছায়।
বিশ্লেষকদের মতে, চাবাহারে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ইরান পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে আঞ্চলিক জ্বালানি অবকাঠামো বা গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক নৌপথকে লক্ষ্যবস্তু করতে পারে, এমন আশঙ্কায় বাজারে অনিশ্চয়তা বেড়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পারস্য উপসাগর ও ভারত মহাসাগরের সংযোগকারী গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে কোনো ধরনের অস্থিরতা তৈরি হলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ বড় ধরনের চাপের মুখে পড়তে পারে। এ কারণেই এশিয়ার বাজারে ব্যবহৃত মুরবান ক্রুডের দামে তুলনামূলক বেশি ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে।
এখন বিনিয়োগকারীদের নজর ইরানের সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া এবং আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথে জাহাজ চলাচলের পরিস্থিতির দিকে। বিশ্লেষকদের ধারণা, আগামী কয়েক দিনে এসব বিষয়ই আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের গতিপ্রকৃতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সূত্র: গালফ নিউজ।
