মৃত্যুবার্ষিকী
ভাটি বাংলার সুরের জাদুকর শাহ আবদুল করিম
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:০২ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
ভাটি বাংলার মানুষের জীবন, প্রেম, বিরহ আর সংগ্রামের কথা যিনি একতারা আর গানের সুরে তুলে ধরেছিলেন, সেই বাউল সম্রাট শাহ আবদুল করিমের আজ মৃত্যুবার্ষিকী। লোকসংগীতের এই কালজয়ী সাধক ২০০৯ সালের ১২ সেপ্টেম্বর ৯৩ বছর বয়সে শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর প্রয়াণের পরও তাঁর সৃষ্টি আজও ভাটি বাংলার মানুষের হৃদয়ে একইভাবে অনুরণিত হচ্ছে।
১৯১৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার তাড়ল ইউনিয়নের উজানধল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন শাহ আবদুল করিম। দারিদ্র্য ও কঠিন জীবনসংগ্রামের মধ্য দিয়ে কেটেছে তাঁর শৈশব। তবে প্রতিকূলতা তাঁকে দমাতে পারেনি। ছোটবেলা থেকেই একতারা হয়ে ওঠে তাঁর নিত্যসঙ্গী। জীবিকার তাগিদে কৃষিকাজ করলেও গান সৃষ্টি ও সাধনার টান থেকে কখনো দূরে সরে যাননি তিনি।
সংগীতজীবনে সাধক কমর উদ্দিন, রশিদ উদ্দিন ও শাহ ইব্রাহিম মোস্তান বকসের কাছ থেকে বাউল ও আধ্যাত্মিক গানের তালিম নেন শাহ আবদুল করিম। ফকির লালন শাহ, পাঞ্জু শাহ ও দুদ্দু শাহর দর্শনেও গভীরভাবে প্রভাবিত হন তিনি। সেই দর্শন ও নিজের জীবন-অভিজ্ঞতাকে উপজীব্য করে সহজ-সরল ভাষায় তিনি তুলে ধরেছেন ভাটি অঞ্চলের মানুষের সুখ-দুঃখ, প্রেম-বিরহ, বঞ্চনা ও জীবনবোধ।
আরও পড়ুন: সালমান শাহ: তিন দশক পরও জট খোলেনি মৃত্যু রহস্যের
শুধু গানেই নয়, তাঁর লেখনীতেও ছিল প্রতিবাদের শক্তি। অন্যায়-অবিচার, সামাজিক কুসংস্কার ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে বরাবরই সোচ্চার ছিলেন এই বাউল সাধক। তাঁর গান হয়ে উঠেছিল সাধারণ মানুষের কথা বলার এক শক্তিশালী মাধ্যম।
বাংলা লোকসংগীত ও সংস্কৃতিতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০১ সালে শাহ আবদুল করিমকে রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ সম্মাননা ‘একুশে পদক’ দেওয়া হয়। এ ছাড়া রাগিব-রাবেয়া সাহিত্য পুরস্কার, মেরিল-প্রথম আলো আজীবন সম্মাননা, সিটিসেল-চ্যানেল আই মিউজিক অ্যাওয়ার্ডসহ অসংখ্য পুরস্কার ও সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন তিনি।
শাহ আবদুল করিম শারীরিকভাবে না থাকলেও তাঁর গান আজও মানুষের মুখে মুখে ফেরে। ভাটি বাংলার মাটি, মানুষের জীবন ও দর্শনকে সুরের মায়াজালে বেঁধে তিনি যে অনন্য জগৎ তৈরি করে গেছেন, তা বাংলা লোকসংগীতের ইতিহাসে চিরকাল অমলিন হয়ে থাকবে।
