ব্রিকস সম্মেলন শুরু
মধ্যপ্রাচ্য সংকটের মধ্যেই ‘নয়াদিল্লি ঘোষণা’ গৃহীত
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:০২ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে ভারতের সভাপতিত্বের ক্ষেত্রে এক বড় অগ্রগতি হিসেবে, জোটটি একটি যৌথ বিবৃতিতে সম্মত হয়েছে। এনডিটিভি জানিয়েছে, শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় ‘ব্রিকস নয়াদিল্লি ঘোষণা’ প্রকাশ করা হবে।
এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্রিকসের নয়াদিল্লি ঘোষণায় কোনো দেশের নাম উল্লেখ না করে সব ধরনের আগ্রাসনের নিন্দা জানানো হবে। পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে এই অবস্থানকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
সংঘাত নিরসনে ‘সংলাপ ও কূটনীতিই এগিয়ে যাওয়ার পথ’—এই বার্তাও ঘোষণায় গুরুত্ব পাবে।
সব সদস্য দেশকে একটি যৌথ ঘোষণায় সম্মত করানোর বিষয়টিকে ভারতের কূটনীতি এবং ব্রিকসের শীর্ষ নেতাদের বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। সম্মেলনের আগে কয়েক দিন ধরে যৌথ নেতাদের ঘোষণার ভাষা নিয়ে ঐকমত্য তৈরিতে দফায় দফায় আলোচনা চালিয়ে আসছিলেন তারা।
পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে ঘোষণার ভাষা কী হবে, তা নিয়ে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য ছিল। বিশেষ করে যুদ্ধকে কেন্দ্র করে ভারতের ঘনিষ্ঠ দুই মিত্র ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) মধ্যে মতবিরোধই যৌথ ঘোষণায় ঐকমত্যের পথে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
এর আগে চলতি বছরের মে মাসে নয়াদিল্লিতে ব্রিকসের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকেও ইরান ও ইউএইর মধ্যে যুদ্ধ নিয়ে মতপার্থক্যের কারণে কোনো যৌথ ঘোষণা দেওয়া সম্ভব হয়নি। দুই দিনের ওই বৈঠকে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে কূটনৈতিক দূরত্ব কমিয়ে ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারেনি ভারত।
আরও পড়ুন: পশ্চিম এশিয়ার সংকট নিরসনে সংলাপ ও নিরাপদ সমুদ্রপথে জোর
তবে এবার যৌথ ঘোষণায় ঐকমত্যে পৌঁছানোকে ভারতের কূটনৈতিক সক্ষমতা ও কৌশলগত অবস্থানের সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। সদস্য দেশগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও অভিন্ন ভাষায় সম্মত করাতে নয়াদিল্লির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
এদিকে উচ্চপর্যায়ের ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে নয়াদিল্লির ভারত মণ্ডপমে উপস্থিত হয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনসহ অন্যান্য দেশের নেতারা।
শনিবার সকালে নয়াদিল্লিতে পৌঁছেছেন শি জিনপিং। সাত বছর পর এটিই তার প্রথম ভারত সফর। সম্মেলনের ফাঁকে সন্ধ্যায় শি জিনপিংয়ের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী মোদির।
আরও পড়ুন: যেভাবে বাব আল-মান্দেব প্রণালির সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিল হুথিরা
এর আগে শুক্রবার রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে পৃথক দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন মোদি।
দুই সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে পেজেশকিয়ানের সঙ্গে এটি ছিল মোদির দ্বিতীয় বৈঠক। আলোচনায় ভারত-ইরান সম্পর্কের পাশাপাশি পশ্চিম এশিয়ার চলমান পরিস্থিতি বিশেষ গুরুত্ব পায়।
মধ্যপ্রাচ্য সংকটের দীর্ঘমেয়াদি সমাধানে ভারত দৃঢ়ভাবে ‘সংলাপ ও কূটনীতি’কে এগিয়ে যাওয়ার পথ হিসেবে তুলে ধরেছে। একইসঙ্গে জ্বালানি নিরাপত্তাকে গুরুত্বপূর্ণ উদ্বেগ হিসেবে উল্লেখ করে সরবরাহবাহী জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে নয়াদিল্লি।
পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠকের পর মোদি বলেন, ইরানের প্রেসিডেন্টের ভারত সফর আরও বিশেষ, কারণ এটিই দেশটিতে তার প্রথম সফর।
সূত্র: এনডিটিভি।
