প্রেমের জেরে স্কুলছাত্রকে হত্যা, দুই ভাইয়ের মৃত্যুদণ্ড
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২৬, ০৪:৪২ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
ময়মনসিংহের চাঞ্চল্যকর স্কুলছাত্র সৈকত হাসান আকাশ হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেছে আদালত। এতে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় দুই ভাইকে মৃত্যুদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। এই মামলায় জড়িত থাকার দায়ে অপর দুই আসামিকে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়, যা অনাদায়ে তাদের আরও ছয় মাস কারাভোগ করতে হবে।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুরে ময়মনসিংহের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ (ভারপ্রাপ্ত) মো. সামছুদ্দিন এ রায় ঘোষণা করেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- নাজমুল হক (২৬) ও এনামুল হক। এছাড়া তাদের বাবা জিয়াউল হক (৫৭) এবং চাচা জুলহাস উদ্দিনকে (৩৭) সাত বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। তারা সবাই ময়মনসিংহ সদর উপজেলার ভূগলী নয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।
রায় ঘোষণার সময় নাজমুল হক, জিয়াউল হক ও জুলহাস উদ্দিন আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তবে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত এনামুল হক পলাতক রয়েছেন।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন এপিপি মো. আবু হানিফ খান। আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী মো. রফিকুল ইসলাম খান।
আদালত সূত্রে জানা যায়, সদর উপজেলার অষ্টধার উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী সৈকত হাসান আকাশের সঙ্গে স্থানীয় ইউপি সদস্য জিয়াউল হকের মেয়ের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিষয়টি জানাজানি হলে মেয়েটির পরিবার কোনোভাবেই ওই সম্পর্ক মেনে নেয়নি।
এরপর ২০২১ সালের ১৯ মে রাতে মেয়েটিকে দিয়ে আকাশকে ডেকে নেওয়া হয়। পরে তার গলা কেটে হত্যা করে মরদেহ মাটিচাপা দেওয়া হয়। দুই দিন পর ২১ মে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে।
এ ঘটনায় নিহতের বাবা মো. আকরাম হোসেন বাদী হয়ে ২২ মে কোতোয়ালি মডেল থানায় ১৪ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে ২০২২ সালের ১৪ জানুয়ারি পুলিশ চারজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করে।
ময়মনসিংহ আদালতের পরিদর্শক পি এস এম মোস্তাছিনুর রহমান বলেন, স্কুলছাত্র সৈকত হাসান আকাশ হত্যা মামলায় আদালত দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড এবং অপর দুই আসামির সাত বছর করে কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন। রায় ঘোষণার পর দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
