গলা পানিতে নেমে খাল পরিষ্কার করলেন ১১-দলীয় জোটের এমপি
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৭ আগস্ট ২০২৬, ১১:৫৮ এএম
ছবি : সংগৃহীত
জলাবদ্ধতা নিরসনে খালের কচুরিপানা পরিষ্কার করতে নিজেই গলা সমান পানিতে নেমে কাজ করলেন ময়মনসিংহ-২ (ফুলপুর-তারাকান্দা) আসনের ১১-দলীয় জোটের সংসদ সদস্য মুহাম্মদুল্লাহ। তাকে পানিতে নেমে কাজ করতে দেখে উৎসাহিত হয়ে স্থানীয় বাসিন্দারাও স্বতঃস্ফূর্তভাবে পরিচ্ছন্নতা অভিযানে অংশ নেন।
বুধবার (২৬ আগস্ট) সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত কাকনী ইউনিয়নের পঙ্গুয়াই খালে এ পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। এতে সংসদ সদস্য নিজেই নেতৃত্ব দেন।
স্থানীয়রা জানান, কাকনী ইউনিয়নের ডিমুর বিলের পানি পঙ্গুয়াই খাল হয়ে কাকনী খাল দিয়ে দিয়ারা নদীতে গিয়ে পড়ত। কিন্তু খালের মুখের কিছু জমি স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি নিজেদের দাবি করে আটকে দেওয়ায় প্রায় সাত-আট বছর ধরে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বন্ধ রয়েছে। ফলে খালে কচুরিপানা জমে জলাবদ্ধতা তীব্র আকার ধারণ করেছে।
পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ায় দুয়াই, বরুয়াই, তিলাটিয়া, পারতলা, দন্তা, তিতপুর, সুতিয়াপয়ারী, মাটিচাপুর ও কাকনী গ্রামের প্রায় দুই হাজার পরিবার জলাবদ্ধতার সমস্যায় ভুগছে। একই সঙ্গে এলাকার বিপুল পরিমাণ ফসলি জমিও দীর্ঘদিন পানির নিচে থাকছে।
পঙ্গুয়াই গ্রামের বাসিন্দা এনামুল হক বলেন, জলাবদ্ধতার কারণে শত শত একর ফসলি জমি পানির নিচে তলিয়ে থাকত। সংসদ সদস্য নিজে পানিতে নেমে কচুরিপানা পরিষ্কার করায় পানি নিষ্কাশনের পথ কিছুটা সচল হয়েছে। এতে দীর্ঘদিনের সমস্যার সমাধানের আশা করছেন তারা।
একই গ্রামের মুশাররফ হোসেন বলেন, খালটি কাকনী ব্রিজ পর্যন্ত খনন করে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা গেলে এলাকার মানুষের দুর্ভোগ অনেকটাই কমবে। জলাবদ্ধতার বিষয়টি সংসদ সদস্যকে জানানো হলে তিনি ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন। পরে বুধবার তিনি নিজেই খালে নেমে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে নেতৃত্ব দেন।
সংসদ সদস্যকে পানিতে নেমে কাজ করতে দেখে এলাকার প্রায় শতাধিক মানুষও স্বতঃস্ফূর্তভাবে খাল পরিষ্কারে অংশ নেন।
এ সময় সংসদ সদস্য মুহাম্মদুল্লাহ বলেন, খাল খনন সরকারের অগ্রাধিকার প্রকল্প। একসময় গ্রামীণ কৃষি, মৎস্য ও অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি ছিল এসব খাল। কিন্তু দখল, ভরাট ও কচুরিপানার কারণে অনেক খাল নাব্যতা হারিয়েছে। সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে খালগুলো সচল করা গেলে গ্রামীণ অর্থনীতিও উপকৃত হবে।
তিনি আরও জানান, খালের শেষ প্রান্তে ব্যক্তি মালিকানাধীন জমির কারণে যে বাধা তৈরি হয়েছে, তা দূর করতে প্রয়োজনীয় জমি নিজ খরচে কেনার উদ্যোগ নেবেন। এরপর খালটি কাকনী ব্রিজ পর্যন্ত খনন করে কাকনী বিলের সঙ্গে সংযুক্ত করার মাধ্যমে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
