×

জাতীয়

তদারকির অভাবে সুন্দরবন পুড়ছে : বাপা

Icon

কাগজ প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২২ মে ২০২৪, ০৫:৫৩ পিএম

তদারকির অভাবে সুন্দরবন পুড়ছে : বাপা

ছবি: সংগৃহীত

কঠোর তদারকির অভাবে একের পর এক আগুনে সংরক্ষিত ম্যানগ্রোভ সুন্দরবন পুড়ে ছাই হচ্ছে। গত ২২ বছরে ৩২ বার আগুনে শতাধিক একর বনসম্পদ পুড়ে গেছে। এর সঙ্গে বনবিভাগের লোকজনসহ একটি সুবিধাভোগী চক্র জড়িত হয়ে সঙ্গবদ্ধভাবে ফায়দা লুটছে। তদন্ত হলেও কারণ জানা যায় না। তদন্ত প্রতিবেদনও প্রকাশ করা হয় না। 

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরে অভিযোগ করে।  

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, সর্বশেষ ৪ মে সকাল ১১টায় পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের আমুরবুনিয়া টহল ফাঁড়ির লতিফের ছিলা এলাকায় আগুন লাগে। কয়েকদিন ধরে চরা আগুনে বন বিভাগের হিসেবেই পুড়ে যায় ৭ দশমিক ৯ একর বনভূমি। বারবার বনে আগুন লাগলেও আমরা নেভাতে সক্ষম হচ্ছি না। সুন্দরবন রক্ষায় সবাইকে সচেতন হওয়ার পাশাপাশি ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানানো হয়। এ সময় সুন্দরবনের অগ্নিকাণ্ড বন্ধে ১৫টি সুপারিশ তুলে ধরা হয়। 

আরো পড়ুন: এপ্রিল মাসে ৬৮৩ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৭০৮ জন

বুধবার (২২ মে) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি হলে ‘বারংবার আগুন সন্ত্রাসের কবলে সুন্দরবন : কারণ ও প্রতিকার’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান ডিসিপ্লিন বিভাগের অধ্যাপক ও বাপার জাতীয় কমিটির সদস্য ড. আবদুল্লাহ হারুন চৌধুরী। সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন বাপার সভাপতি অধ্যাপক নূর মোহাম্মদ তালুকদার। 

বাপার সাধারণ সম্পাদক আলমগীর কবিরের পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন- বাপার সহ-সভাপতি মহিদুল হক, যুগ্ম সম্পাদক অধ্যাপক ড. আহমদ কামরুজ্জামান মজুমদার ও নূর আলম শেখ, কোষাধ্যক্ষ জাকির হোসেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আব্দুল কাদের। 

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, পরিকল্পিতভাবে সুন্দরবনকে ধংস করা হচ্ছে। একশ্রেণির মুনাফালোভী ব্যক্তি ও বন বিভাগের অসাধুকর্মীরা এ কাজের সঙ্গে জড়িত। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। বাংলাদেশের ফুসফুস সুন্দরবন সুরক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তারা।

তিনি বলেন, সুন্দরবন পৃথিবীর বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল। পদ্মা, মেঘনা ও ব্রহ্মপুত্র নদীত্রয়ের মোহনায় বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমে বঙ্গোপসাগরের কোল ঘেঁষে গড়ে উঠেছে এই বিস্তীর্ণ বন। দেশে সংরক্ষিত বনের শতকরা ৫১ ভাগই সুন্দরবন। বাংলাদেশের দক্ষিণের ৩টি জেলা খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাট জেলায় সুন্দরবন অবস্থিত। এছাড়া বৈজ্ঞানিক, নৃতত্ত্ব ও প্রত্নতাত্ত্বিক বিবেচনায় সুন্দরবন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্রাকৃতিক জীববৈচিত্র্য ও বিভিন্ন ধরনের প্রাণীর আবাসস্থল হিসেবে পরিচিত।

আরো পড়ুন: হিমালয়সহ পাহাড়-পর্বত রক্ষায় বিশ্ববাসীকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে

তিনি বলেন, সুন্দরবন বাংলাদেশের ঐতিহ্য এবং বাংলাদেশকে বিশ্ব বাজারে পরিচিতিও দিয়েছে। সুন্দরী, গেওয়া, গরান, গোলপাতা, কেওড়া, বাইন, গরান, খলসি ইত্যাদি বনবৃক্ষ সুন্দরবনের সৌন্দর্য ধরে রেখেছে। এ বনের প্রধান বৃক্ষ সুন্দরী, যা ৫১.৭০ শতাংশ এলাকাজুড়ে বিস্তৃত। সুন্দরবনের ঐতিহ্য ধরে রাখতে গুল্মজাতীয় উদ্ভিদ, যেমন- শন, নলখাগড়া এবং গোলপাতার অবদান অন্যতম। 

কিন্তু আমরা সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষা করতে পারছি না। আমরা নিজ হাতেই বাংলাদেশের প্রাকৃতিক ঐতিহ্য ধ্বংস করছি। নির্বিচারে বৃক্ষ নিধন থেকে শুরু করে বাঘ নিধন এবং হরিণ শিকার করে সুন্দরবনের প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট করছি আইন অমান্য করে। বারবার সুন্দরবনে আগুন লাগছে নেভাতে সক্ষম হচ্ছি না। 

এতে প্রাণীকূলের আবাস ও প্রজননস্থল ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বন্যপ্রাণীরা আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়ছে। বনের প্রাণ-প্রকৃতির শৃঙ্খলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। প্রভাব পড়ে বনের প্রাণীকূলের খাদ্যচক্রে। চরম আঘাত আসে সুন্দরবনের বাস্তুতন্ত্রের উপরে। তাই সুন্দরবন রক্ষায় আমাদের সবাইকে সচেতন হতে হবে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

শিল্পকলা প্রদর্শনী ‘অন্তর্লোকের সন্ধানে’ শুরু হচ্ছে বৃহস্পতিবার

শিল্পকলা প্রদর্শনী ‘অন্তর্লোকের সন্ধানে’ শুরু হচ্ছে বৃহস্পতিবার

বাংলাদেশের কাছে হারের কারণ জানালেন অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক

বাংলাদেশের কাছে হারের কারণ জানালেন অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক

আবারো কি এস আলমে ফিরতে পারে মালিকানা?

ইসলামী ব্যাংক ইস্যুতে উত্তাল সংসদ আবারো কি এস আলমে ফিরতে পারে মালিকানা?

উত্তরায় ক্যাসিনো নির্মূলে সাঁড়াশি অভিযানে ডিএমপি

ফলোআপ উত্তরায় ক্যাসিনো নির্মূলে সাঁড়াশি অভিযানে ডিএমপি

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App