×

জাতীয়

আপিল বিভাগের আদেশের পর কোটা নিয়ে যা জানা গেল

Icon

কাগজ প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২৪, ০৫:২৮ পিএম

আপিল বিভাগের আদেশের পর কোটা নিয়ে যা জানা গেল

আজ তৃতীয় দিনের মতো ‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচি পালন করছেন শিক্ষার্থীরা। ছবি: ভোরের কাগজ

সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে কোটার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে আদেশ দিয়েছেন আপিল বিভাগ। আপিল বিভাগের এ আদেশের ফলে আপাতত কোটা থাকছে না বলে জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন ও রিট আবেদনকারীদের আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী। একই ব্যাখ্যা দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শাহদীন মালিক। তবে তিনি বলেছেন, আন্দোলনকারীদের দাবি মানার ক্ষেত্রে সরকারের করণীয় আছে।

কোটার বিষয়ে প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের আপিল বিভাগ বুধবার (১০ জুলাই) সকালে স্থিতাবস্থার আদেশ দেন। এই আদেশের মানে কী, তা জানতে চাইলে রিট আবেদনকারীদের আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী  বলেন, মানে হলো, যে অবস্থায় আছে, সে অবস্থায় থাকবে। হাইকোর্টের রায়ের কার্যকারিতা স্থগিত থাকবে। মনসুরুল হক চৌধুরী আরো বলেন, আপিল বিভাগ কিন্তু হাইকোর্টের রায় স্থগিত করেননি। স্থিতাবস্থা দিয়েছেন। এ ক্ষেত্রে ভুল ব্যাখ্যাও দেখা যাচ্ছে। আপাতত নিয়োগে কোটা অনুসরণ করতে হবে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, আপাতত দরকার হবে না। 

অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, আদালত আগামী ৭ আগস্ট শুনানির জন্য দিন রেখেছেন। শুনানির পর পূর্ণাঙ্গ রায় পাওয়া যাবে। এ বিষয়ে তিনি বলেছেন, আপিল বিভাগ স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে বলেছেন। অর্থাৎ যেমন আছে, তেমন থাকবে। কোটা বাতিলসংক্রান্ত ২০১৮ সালের পরিপত্রের ভিত্তিতে যেসব সার্কুলার দেয়া হয়েছে, সে ক্ষেত্রে কোটা থাকছে না।

এই প্রসঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শাহদীন মালিক বলেন, স্থিতাবস্থা মানে হলো, রিটের আগে যে অবস্থায় আছে, সে অবস্থায় থাকবে। আপাতত কোটা নেই। তবে বিষয়টি চূড়ান্ত হবে আপিল বিভাগের চূড়ান্ত রায়ের পর। বিষয়টি নিয়ে সরকারের করণীয় কিছু আছে কি না, তা জানতে চাইলে শাহদীন মালিক বলেন, কোটা কত হবে, তা তো আদালত ঠিক করে দেবেন না। সরকার হাইকোর্টের রায় মেনে নিয়ে ২০১৮ সালের পরিপত্র পুনর্বহাল করে কিছুদিন পরেই নতুন পরিপত্র জারি করতে পারে, যার মাধ্যমে কোটা সংস্কার করা হবে।

উল্লেখ্য, কোটা সংস্কার আন্দোলনের মুখে সরকারি চাকরিতে ৯ম থেকে ১৩তম গ্রেড পর্যন্ত কোটাপদ্ধতি বাতিল করে ২০১৮ সালের ৪ অক্টোবর পরিপত্র জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। তখন সরকারি চাকরিতে (৯ম থেকে ১৩তম গ্রেড) ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা, ১০ শতাংশ নারী, ১০ শতাংশ জেলা, ৫ শতাংশ ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী এবং ১ শতাংশ প্রতিবন্ধী কোটা ছিল। 

সব মিলিয়ে কোটা ছিল ৫৬ শতাংশ। মানে হলো, ১০০ জনকে নিয়োগের ক্ষেত্রে ৫৬ জনকে নিতে হতো কোটায়। কোটা বাতিল করে সরকারের পরিপত্রের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ২০২১ সালে রিট করেন চাকরিপ্রত্যাশী ও বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান অহিদুল ইসলামসহ সাতজন। রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ২০২১ সালের ৬ ডিসেম্বর হাইকোর্ট রুল দেন। চূড়ান্ত শুনানি শেষে রুল অ্যাবসলিউট (যথাযথ) ঘোষণা করে গত ৫ জুন রায় দেন হাইকোর্ট।

হাইকোর্টের রায় স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের করা আবেদন চেম্বার আদালত হয়ে ৪ জুলাই আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানির জন্য ওঠে। রিট আবেদনকারীপক্ষের সময়ের আরজির পরিপ্রেক্ষিতে সেদিন আপিল বিভাগ নট টুডে (৪ জুলাই নয়) বলে আদেশ দেন। পাশাপাশি রাষ্ট্রপক্ষকে নিয়মিত লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন) করতে বলা হয়। এ অবস্থায় কোটা পুনর্বহালসংক্রান্ত হাইকোর্টের রায় স্থগিত চেয়ে দুই শিক্ষার্থী গতকাল মঙ্গলবার আবেদন করেন।

হাইকোর্টের রায়ের পর থেকেই শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রত্যাশীরা কোটা সংস্কারের দাবিতে আবার আন্দোলনে নামেন। তারা আজ তৃতীয় দিনের মতো ‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচি পালন করছেন। এতে আজও ঢাকায় অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। প্রধান সড়কগুলোতে যান চলাচল বন্ধ থাকায় পথচলতি মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।

আরো পড়ুন: কোটা আন্দোলন-ঢাকার সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ বন্ধ

টাইমলাইন: কোটা বাতিলের দাবিতে আন্দোলন

আরো পড়ুন

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

বিসিএসের বাকি ৪৬ জনের প্রজ্ঞাপন সোমবার, রাজনৈতিক পরিচয়ে বৈষম্য হবে না

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিসিএসের বাকি ৪৬ জনের প্রজ্ঞাপন সোমবার, রাজনৈতিক পরিচয়ে বৈষম্য হবে না

এমপি মিষ্টির পদত্যাগের পর জামায়াত আমিরের ফেসবুক পোস্ট

এমপি মিষ্টির পদত্যাগের পর জামায়াত আমিরের ফেসবুক পোস্ট

ফেনী পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী

ফেনী পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী

হল থেকে মুজিবের নাম না বদলানোয় সিনেট থেকে ওয়াকআউট ডাকসু নেতাদের

হল থেকে মুজিবের নাম না বদলানোয় সিনেট থেকে ওয়াকআউট ডাকসু নেতাদের

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App