×

জাতীয়

প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা

সিভিল-মিলিটারি সুদৃঢ় সম্পর্ক অপরিহার্য

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ০৫ মে ২০২৬, ১০:০৮ পিএম

সিভিল-মিলিটারি সুদৃঢ় সম্পর্ক অপরিহার্য

ছবি: সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম, পিএসসি, জি (অব:) বলেছেন, ‘পারস্পরিক শ্রদ্ধা, আস্থা ও বোঝাপড়ার ভিত্তিতে গড়ে ওঠা একটি সুদৃঢ় সিভিল-মিলিটারি সম্পর্ক দেশের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও উন্নয়নের জন্য অপরিহার্য।’

মঙ্গলবার (৫ মে) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জেলা প্রশাসক সম্মেলন-২০২৬-এর অংশ হিসেবে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ বিষয়ক অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

দেশের সকল বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এ অধিবেশনে বিশেষ অতিথি হিসেবে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান ও বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন ‍উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার লেফটেন্যান্ট জেনারেল মীর মুশফিকুর রহমান এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ আশরাফ উদ্দিন অধিবেশনে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি।

প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা তাঁর বক্তব্যে বলেন, ‘একটি আধুনিক, আত্মমর্যাদাশীল ও নিরাপদ বাংলাদেশ গঠনে জাতীয় নিরাপত্তা, সুশাসন এবং কার্যকর প্রশাসনিক সমন্বয় অপরিহার্য। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনা এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ সংশ্লিষ্ট আলোচনায় ইতোমধ্যে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে এসেছে। বাহিনী প্রধানগণও তাদের বক্তব্যে নিজ নিজ বাহিনীর অবস্থান এবং মাঠ প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয়ের বিষয়ে প্রত্যাশা তুলে ধরেছেন।’

তিনি উল্লেখ করেন, ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসে এই সম্পর্কের গভীর শিকড় নিহিত রয়েছে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, যিনি একজন সেনা কর্মকর্তা ছিলেন, তার ঘোষণার মাধ্যমেই স্বাধীন বাংলাদেশের যাত্রা শুরু হয়। পরবর্তীতে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা জনগণের বাহিনী হিসাবে সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সক্রিয় সহযোগিতায় মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জনে ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করে।’

প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী আজও প্রকৃত অর্থেই জনমানুষের বাহিনী হিসাবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত রেখেছে, যা দেশের প্রতিটি সংকটময় মুহূর্তে তারা বারবার প্রমাণ করেছে। স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি ঘূর্ণিঝড়, বন্যা ও অন্যান্য দুর্যোগে দ্রুত সহায়তা প্রদান করে সশস্ত্র বাহিনী জনগণের আস্থা ও নির্ভরতার প্রতীক হয়ে উঠেছে। মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে জনগণ ও সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে যে ঐতিহাসিক বন্ধন সৃষ্টি হয়েছিল, তা আজও অটুট রয়েছে এবং জাতীয় অগ্রযাত্রায় তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী সবসময়ই বেসামরিক প্রশাসনের সহায়তায় নিজেদের সর্বোচ্চ সেবা দিয়ে আসছে। বিশেষ করে জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী অস্থিতিশীল সময়ে, যখন সরকারের অনেক প্রতিষ্ঠান প্রত্যাশিত দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছিল, তখন সশস্ত্র বাহিনী মাসের পর মাস দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিশ্চিতে নিরলসভাবে কাজ করেছে। সুপ্রিম কোর্ট, সচিবালয়, ব্যাংক, বিমানবন্দরসহ গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় স্থাপনায় সার্বক্ষণিক উপস্থিতি বজায় রেখে তারা রাষ্ট্রীয় সম্পদ ও জননিরাপত্তা সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতেও দেশপ্রেমিক সামরিক বাহিনীর সদস্যরা রাজনৈতিক সমাধানের প্রতি আস্থা রেখে শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানে পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছে। তবে কিছু অসাধু ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত গোষ্ঠী নিজেদের দুর্বলতা ঢাকতে সামরিক বাহিনীকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করেছে এবং সকল ব্যর্থতার দায় সামরিক বাহিনীর ওপর চাপিয়ে সিভিল-মিলিটারি সম্পর্কে ফাটল ধরাতে চেয়েছে। কিন্তু জনগণের আস্থা, সশস্ত্র বাহিনীর পেশাদারিত্ব এবং বেসামরিক প্রশাসনের একত্রিত সমন্বয়ের কারণে সেই অপচেষ্টা সফল হয়নি।’

প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা দৃঢ়ভাবে বলেন, ‘সামরিক ও বেসামরিক প্রশাসনের পারস্পরিক সহযোগিতা, আস্থা ও সমন্বয়ই রাষ্ট্রকে আরও শক্তিশালী ও স্থিতিশীল করে তুলবে।’

অতীতের কিছু ঘটনার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘কোনো ব্যক্তি সামরিক বাহিনীর বাইরে অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালনকালে অপরাধে জড়ালে তার দায় প্রতিষ্ঠান হিসেবে সশস্ত্র বাহিনীর নয়। ব্যক্তি বিশেষের অপরাধের দায় ব্যক্তিকেই বহন করতে হবে। বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী রাষ্ট্র ও সংবিধানের প্রতি সর্বদা অনুগত ছিল, আছে এবং থাকবে।’

বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতায় জাতীয় নিরাপত্তার বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জ তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘শক্তিশালী সামরিক বাহিনী ছাড়া জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অর্থনৈতিক উন্নয়ন অব্যাহত রাখা সম্ভব নয়। আজ জাতীয় নিরাপত্তা কেবল ভৌগোলিক সীমান্ত রক্ষা বা প্রচলিত সামরিক সংঘর্ষে সীমাবদ্ধ নয়; বরং সাইবার হামলা, সন্ত্রাসবাদ, জলবায়ু পরিবর্তন, মহামারি, তথ্যযুদ্ধ, উপকূলীয় ও সামুদ্রিক নিরাপত্তা, জ্বালানি অবকাঠামো এবং অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের মতো বহুমাত্রিক হুমকি এর অন্তর্ভুক্ত।’

তিনি বলেন, ‘নিরাপত্তা এখন একটি সমন্বিত ও বহুমাত্রিক ধারণা, যেখানে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, খাদ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তা এবং সাইবার সুরক্ষাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। এ বাস্তবতায় কোনো একক বাহিনী বা প্রতিষ্ঠান বিচ্ছিন্ন প্রচেষ্টায় রাষ্ট্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে না। বেসামরিক প্রশাসনের সহযোগিতা এবং সামরিক বাহিনীর কৌশলগত সক্ষমতার সমন্বয়ই একটি কার্যকর ও টেকসই নিরাপত্তা কাঠামোর ভিত্তি।’

তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রের সকল প্রতিষ্ঠানকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। সিভিল প্রশাসন ও সামরিক বাহিনীর সম্মিলিত প্রয়াসই জাতীয় নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার পূর্বশর্ত। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় নির্বাচনী ইশতেহারে উল্লেখিত প্রতিরক্ষা সক্ষমতা অর্জনে এই কৌশলের বাস্তবায়ন অপরিহার্য।’

সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের ‘সিটিজেন ইন ইউনিফর্ম’ হিসাবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘তারা সমাজেরই অবিচ্ছেদ্য অংশ। তারা সমাজের সর্বস্তর থেকে এসে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে স্বাভাবিক জীবন ছেড়ে কঠোর প্রশিক্ষণ, ত্যাগ ও শৃঙ্খলার মধ্য দিয়ে সৈনিকের জীবন বেছে নেয়। সশস্ত্র বাহিনী কেবল চাকরির জায়গা নয়, এটি একটি জীবনধারা। একজন সৈনিক প্রতিদিন কঠোর প্রশিক্ষণ, প্রশাসনিক দায়িত্ব এবং দেশরক্ষার অঙ্গীকারে নিজেকে নিয়োজিত রাখে।’

প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা সতর্ক করে বলেন, ‘বেসামরিক পরিমণ্ডলে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের যথাযথ মর্যাদা প্রদান না করলে ভবিষ্যতে দেশপ্রেমিক ও যোগ্য তরুণ-তরুণীদের সামরিক পেশায় আকৃষ্ট করা কঠিন হয়ে পড়বে। এর ফলে জনবিচ্ছিন্ন ও অকার্যকর সশস্ত্র বাহিনী তৈরির ঝুঁকি দেখা দিতে পারে, যা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অশনি সংকেত।’

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সরকারি খাস জমি উদ্ধারে ডিসিদের প্রতি ভূমিমন্ত্রীর নির্দেশ

সরকারি খাস জমি উদ্ধারে ডিসিদের প্রতি ভূমিমন্ত্রীর নির্দেশ

হত্যা মামলায় সাবেক রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজনের জামিন

হত্যা মামলায় সাবেক রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজনের জামিন

মে মাসের ৪ দিনেই রেমিট্যান্স এলো ৫ হাজার ৫৯৭ কোটি টাকা

মে মাসের ৪ দিনেই রেমিট্যান্স এলো ৫ হাজার ৫৯৭ কোটি টাকা

ইসলাম ও ইসলামী নেতৃত্বকে নিশ্চিহ্ন করার নীলনকশার অংশ ছিল শাপলা গণহত্যা

ছাত্রশিবির সভাপতি ইসলাম ও ইসলামী নেতৃত্বকে নিশ্চিহ্ন করার নীলনকশার অংশ ছিল শাপলা গণহত্যা

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App