সমাজকল্যাণমন্ত্রী
১০ কোটি মানুষ আসছে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায়
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ মে ২০২৬, ০৮:১১ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
সরকারের লক্ষ্য আগামী চার বছরের মধ্যে প্রায় ১০ কোটি মানুষকে এই সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থার আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছে সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।
তিনি বলেন, আগামী অর্থবছর থেকে পর্যায়ক্রমে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। এর মাধ্যমে প্রথম ধাপে ৪০ লাখ ২০ হাজার পরিবারকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
সোমবার (১৮ মে) রাজধানীর গুলশানের হোটেল লেকশোরে ‘জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭: রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি ও নাগরিক প্রত্যাশা’ শীর্ষক প্রাক-বাজেট সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী। সংলাপের আয়োজন করে এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম, বাংলাদেশ।
এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, ‘সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা, যেখানে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী, নারী, শিশু, প্রতিবন্ধী ও দরিদ্র মানুষকে সামাজিক সুরক্ষার আওতায় এনে জীবনমান উন্নয়ন করা হবে।’
তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকার সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিকে আরও আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে কাজ করছে। ফ্যামিলি কার্ডে এনআইডিভিত্তিক তথ্য, কিউআর কোড, বারকোড ও এনএফসি প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে। এতে একজন নাগরিকের সব ধরনের সামাজিক সেবা একটি কার্ডের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের পরিবার চিহ্নিত করতে ঘরে ঘরে গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। ইউনিয়ন পর্যায়ের সরকারি কর্মচারী, শিক্ষক, স্বাস্থ্য সহকারী, কৃষি কর্মকর্তা ও সমাজসেবা কর্মীদের মাধ্যমে এই তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত তথ্য সংগ্রহে ভুলের হার মাত্র ২ থেকে ৩ শতাংশ।’
সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার নারীকে পরিবারের সিদ্ধান্ত গ্রহণে আরও ক্ষমতায়িত করতে চায়। এজন্য ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধা পরিবারের নারী সদস্যের নামে দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এই অর্থ দিয়ে পরিবার যেন শিশুদের পড়াশোনা, পুষ্টি, চিকিৎসা কিংবা ক্ষুদ্র আয়ের কাজে বিনিয়োগ করতে পারে, সেই লক্ষ্যেই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’
এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, ‘সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে সরাসরি উপকারভোগীর কাছে অর্থ পৌঁছে দেওয়া হবে। এতে কোনো মধ্যস্বত্বভোগী থাকবে না এবং টাকা উত্তোলনের চার্জও সরকার বহন করবে।’
প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘দেশে বর্তমানে প্রায় ৩৯ লাখের বেশি প্রতিবন্ধী ব্যক্তি সরকারি নিবন্ধনের আওতায় রয়েছেন। তাদের জন্য বিশেষ দক্ষতা উন্নয়ন, প্রশিক্ষণ ও সহায়তা কর্মসূচি নেওয়া হচ্ছে।’
মন্ত্রী বলেন, ‘গ্রামীণ ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর নারীদের দক্ষতা উন্নয়নে সেলাই, কেয়ারগিভিং, কম্পিউটার ও ভাষা প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। প্রশিক্ষণ শেষে তাদের কর্মসংস্থানের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জামও দেওয়া হবে।’
কেয়ারগিভিং খাতকে গুরুত্ব দিয়ে এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, ‘জাপান, জার্মানি, ইতালিসহ বিভিন্ন দেশ বাংলাদেশ থেকে দক্ষ কেয়ারগিভার নিতে আগ্রহ দেখিয়েছে। এ কারণে প্রশিক্ষণের পাশাপাশি ভাষা শিক্ষাও অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।’
মন্ত্রী বলেন, ‘শিশুশ্রম ও বাল্যবিয়ে প্রতিরোধেও সরকার জোর দিচ্ছে। এজন্য ‘কুইক রেসপন্স টিম’ আরও শক্তিশালী করা হবে, যাতে গ্রাম ও শহরে দ্রুত সেবা পৌঁছে দেওয়া যায়।’
তিনি আরো বলেন, ‘বর্তমান সরকার কোনো ধরনের বৈষম্য বা বঞ্চনার নীতি অনুসরণ করতে চায় না। ধর্ম, রাজনৈতিক মতাদর্শ বা জাতিগত পরিচয় নির্বিশেষে সবাইকে অন্তর্ভুক্ত করে একটি মানবিক সমাজ গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য।’
সংলাপটি সঞ্চালনা করেন অর্থনীতিবিদ ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য।
এতে আরো বক্তব্য দেন- বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্য মোহাম্মদ সাইফুল আলম খান, সিপিডি ফেলো অধ্যাপক মুস্তাফিজুর রহমান, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক শারমিন্দ নীলোর্মি ও বিআইডিএস মহাপরিচালক ড. এ কে এনামুল হক প্রমুখ।
