নিরাপত্তার ঘেরাটোপে সরকারপ্রধানকে জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন না করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০৩:২৫ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ)-এর ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, আধুনিক বিশ্বের বহুমাত্রিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এসএসএফকে সর্বদা প্রস্তুত থাকতে হবে। সাহস, দক্ষতা, কৌশল ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে এই বিশেষায়িত বাহিনীর পিছিয়ে থাকার সুযোগ নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এসএসএফ প্রতিষ্ঠার সময়কার বাস্তবতার সঙ্গে বর্তমান সময়ের পরিস্থিতির ব্যাপক পরিবর্তন ঘটেছে। আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, বৈশ্বিক ভূরাজনীতি এবং তথ্যপ্রযুক্তির দ্রুত বিকাশের ফলে নিরাপত্তা ব্যবস্থার ধরনও বদলে গেছে। এসব পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাহিনীকে যুগোপযোগী প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে প্রস্তুত থাকতে হবে।
নিজের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, সরকারপ্রধান হিসেবে বর্তমানে তিনি প্রতিনিয়ত এসএসএফের কার্যক্রম প্রত্যক্ষ করছেন। তবে এ বাহিনীর সঙ্গে তার পরিচয় নতুন নয়। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দায়িত্ব পালনের সময় থেকেই তিনি এসএসএফের কার্যক্রম কাছ থেকে দেখার সুযোগ পেয়েছেন।
তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর অনুষ্ঠিত বৃহৎ জানাজা আয়োজনেও এসএসএফ গুরুত্বপূর্ণ সমন্বয়কের ভূমিকা পালন করেছে। এ জন্য তিনি নিজের ও পরিবারের পক্ষ থেকে বাহিনীটির সদস্যদের ধন্যবাদ জানান।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বিশেষভাবে উল্লেখ করেন, সরকারপ্রধান হিসেবে তার সবচেয়ে বড় শক্তি জনগণের আস্থা ও ভালোবাসা। তাই নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি এমন পরিস্থিতি তৈরি করা উচিত নয়, যাতে সরকারপ্রধান সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন।
তিনি বলেন, একটি আধুনিক ও পেশাদার নিরাপত্তা বাহিনী হিসেবে এসএসএফকে নিরাপত্তা ও জনগণের সঙ্গে যোগাযোগের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী জানান, গত ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে জনগণের সমর্থন পাওয়ার পর ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে বর্তমান সরকার দায়িত্ব পালন করছে। সরকারপ্রধান হিসেবে তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এসএসএফ দায়িত্ব পালন করছে। তবে জনদুর্ভোগ কমাতে তিনি নিজের গাড়িবহরের আকার সীমিত রেখেছেন। ফলে সদস্যসংখ্যা বাড়ানোর পরিবর্তে বাহিনীকে দক্ষতা ও কৌশলগত সক্ষমতার ওপর বেশি গুরুত্ব দিতে হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি এসএসএফ সদস্যদের দায়িত্ব পালনের প্রশংসা করে বলেন, রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে জনসভা ও রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে বিপুল জনসমাগমের মধ্যেও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সহজ কাজ নয়। একদিকে সরকারপ্রধানের নিরাপত্তা, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বজায় রাখা- এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করেই নিরাপত্তা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ ধরনের পরিস্থিতিতে সুষ্ঠু ও সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালনই বাহিনীর পেশাগত দক্ষতার পরিচয় বহন করে।
অনুষ্ঠানে তিনি এসএসএফের নবনির্মিত আধুনিক ফায়ারিং রেঞ্জ উদ্বোধনের কথাও উল্লেখ করেন। তার মতে, সদস্যদের পেশাগত দক্ষতা ও কৌশলগত সক্ষমতা বৃদ্ধিতে এই স্থাপনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি এর সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী জানান, ২০০২ সালের পর সময়ের চাহিদা অনুযায়ী এসএসএফের ‘রেড বুক’ পুনর্গঠন ও আধুনিকায়ন করা হয়েছে। নতুন সংস্করণ বাহিনীর কার্যক্রম পরিচালনার নীতিমালা নির্ধারণের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় আইনি সুরক্ষাও নিশ্চিত করেছে।
তিনি বলেন, রেড বুকে উল্লেখিত নির্দেশনা অনুসরণ করা যেমন জরুরি, তেমনি সময় ও পরিস্থিতির প্রয়োজনে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতাও থাকতে হবে।
এসএসএফ সদস্যদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আধুনিক প্রযুক্তি ও নিরাপত্তা কৌশলে দক্ষ হওয়ার পাশাপাশি সাহস, সততা, বিশ্বস্ততা, পেশাদারিত্ব, শৃঙ্খলা এবং চেইন অব কমান্ড মেনে চলা একটি বিশেষায়িত বাহিনীর জন্য অপরিহার্য।
তিনি আরো বলেন, রাষ্ট্রপতি, সরকারপ্রধান এবং রাষ্ট্রঘোষিত গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাই অন্যান্য নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কার্যকর করা সম্ভব।
বক্তব্যের শেষাংশে প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব পালনের সময় জনগণের সঙ্গে সদাচরণ বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সাধারণ মানুষ যেন কোনো ধরনের হয়রানি বা দুর্ব্যবহারের শিকার না হন, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও দেশপ্রেমের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে এসএসএফ ভবিষ্যতেও সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাবে।
