তিস্তা প্রকল্প বাস্তবায়ন ও অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগে আগ্রহী চীন
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ জুন ২০২৬, ১০:৩০ পিএম
ফাইল ছবি
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের তিস্তা নদী অববাহিকায় তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে চীন যেকোনো ধরনের সহযোগিতা করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ড. মাহদী আমিন।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীনের বেইজিং সফর নিয়ে আয়োজিত জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
এদিন স্থানীয় সময় বিকেল ৫টায় বেইজিংয়ের ‘গ্রেট হল অব দ্য পিপল’-এ দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী পর্যায়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আর চীনের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী।
বৈঠক শেষে তাৎক্ষণিক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সেখানে মাহদী আমিন বলেন, অত্যন্ত আন্তরিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে দুই প্রধানমন্ত্রীর এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। দুই দেশ বৈঠকে বিনিয়োগ, কারখানা স্থাপনসহ ১৩টি সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেছে।
তিস্তা মহাপরিকল্পনায় সহযোগিতা
বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়নে কীভাবে চীন তার সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবে, সেটি নিয়ে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘মোংলা বন্দরসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। নতুন নতুন অর্থনৈতিক অঞ্চলে (ইকোনমিক জোন) কীভাবে চীন বিনিয়োগ করবে, সেটি নিয়েও আলোচনা হয়েছে। তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে চীন যেকোনো ধরনের সহযোগিতা করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তারা নদীর পানি ব্যবস্থাপনা নিয়েও বড় আকারে কাজ করতে চায়।’
মুখপাত্র বলেন, ‘বাণিজ্য-ঘাটতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। পোশাকশিল্পে কীভাবে আরও ভালো করা যায়, সে বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। চীনা ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশের পোশাকশিল্পে কাজ করতে চায়। চীনে কাঁঠাল রপ্তানি করবে বাংলাদেশ। এ ছাড়া অন্যান্য খাতে বিনিয়োগ ও রপ্তানি বাড়াতে দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করবে।’
চীনে চিকিৎসা ও শিক্ষার্থী ভিসা নিয়ে আলোচনা
চীন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে চায় উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘দেশটির বিভিন্ন কোম্পানি বাংলাদেশে অফিস স্থাপন করবে। জনগণের মধ্যে সম্পর্ক (পিপল-টু-পিপল কনট্যাক্ট) বৃদ্ধিতেও কাজ করবে। তাদের বিনিয়োগে হাসপাতালের সংখ্যা বাড়ানো নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এ ছাড়া চীনে চিকিৎসা ও শিক্ষার্থীদের জন্য ভিসা সহজ করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। বিভিন্ন বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে দৃঢ়ভাবে কাজ করতে চীন আগ্রহ দেখিয়েছে জানিয়ে ড. মাহদী আমিন বলেন, ব্রিকসে কীভাবে বাংলাদেশ অন্তর্ভুক্ত হতে পারে, তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। স্ট্র্যাটেজিক পার্টনার হিসেবে চীন বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করতে চায়।
এ ছাড়া চীনের প্রধানমন্ত্রীকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। দুই দেশের ঐতিহাসিক সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে উভয় পক্ষ আশাবাদ ব্যক্ত করেছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র।
প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবীর জানান, বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এটি বাংলাদেশের জন্য একটি নিরাপত্তা হুমকি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এই সফর শুধু ঐতিহাসিকই নয়, এটি দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।’
চীনের সঙ্গে ২ চুক্তি ও ১৩ সমঝোতা স্মারক সই
বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার কৌশলগত এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতাকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে বেইজিংয়ে দুই দেশের মধ্যে ১৩টি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বেইজিংয়ের গ্রেট হলে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানিয়েছেন চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং। বেইজিংয়ের ‘গ্রেট হল অব পিপলে’ অনুষ্ঠিত দ্বিপাক্ষিক ওই বৈঠকে বাংলাদেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। অন্যদিকে চীনের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং। পরে বৈঠক শেষে দুই প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বিষয়ক দুটি চুক্তি ছাড়াও ১৩টি সমঝোতা স্মারক সই হয়।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ হাসান আল মাহমুদ তিতুমীর, শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহাদী আমিন প্রমুখ।
গণমাধ্যম খাতে সহযোগিতা নিয়ে ৪ সমঝোতা
দুই প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে গ্রেট হল অব দ্য পিপলে চীনের সিনহুয়া নিউজ এজেন্সি ও চায়না মিডিয়া গ্রুপের (সিএমজি) প্রধানদের সঙ্গে চারটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে সমঝোতা স্মারকগুলোতে স্বাক্ষর করেছেন তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।
স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকগুলোর আওতায় বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে সংবাদ ও তথ্য বিনিময়ে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা, গণমাধ্যম খাতে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্ব, গ্লোবাল সাউথভুক্ত গণমাধ্যম বিষয়ে যৌথ গবেষণা, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং সম্প্রচার ক্ষেত্রে সহযোগিতা ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ সম্প্রসারিত হবে।
এই সমঝোতা স্মারকগুলো দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করবে এবং গণমাধ্যম ও তথ্য খাতে পারস্পরিক সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
দেশটির বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, নীতিনির্ধারকদের সঙ্গেও আলাদা কর্মসূচি রয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের। এরপর শুক্রবার (২৬ জুন) চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের সূচি রয়েছে। রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি শেষে ওই দিনই ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করার কথা রয়েছে সরকারপ্রধানের।
