‘জামায়াত বেশি আসন পাওয়ায় রংপুরকে উন্নয়ন-বঞ্চিত করা হচ্ছে’
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ আগস্ট ২০২৬, ০৪:৩৭ পিএম
ডা. শফিকুর রহমান। ফাইল ছবি
বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জামায়াতে ইসলামী রংপুরে বেশি আসন পাওয়ায় এ অঞ্চলের মানুষকে উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। এ বৈষম্য রংপুরের মানুষ মেনে নেবে না।
সোমবার (১০ আগস্ট) দুপুরে গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া কাজী আজহার আলী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘মানুষের অধিকার কেড়ে নেওয়ার জন্য সামনে আর হাত বাড়াবেন না, পা বাড়াবেন না। পরিণতি ভালো হবে না। আপা যে পথে হেঁটেছেন, আপনারাও সেই পথে হাঁটছেন। এভাবে চললে টিকে থাকতে পারবেন না।’
আরও পড়ুন: সরকার সব প্রতিষ্ঠানে হস্তক্ষেপ করছে: জামায়াত আমির
তিনি আরও বলেন, দেশের মানুষের বিরুদ্ধে যারা যাবে, তাদের এ দেশে থাকার সুযোগ হবে না। এটি পালানোর পথ। দেশের মানুষ আর দিল্লির খবরদারি মেনে নেবে না।
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, যুবসমাজ এখন প্রতিবাদ করতে শিখেছে। বিএনপি ‘হ্যাঁ’ ভোটের প্রচারণা চালিয়ে ক্ষমতায় গিয়ে জাতির সঙ্গে প্রতারণা শুরু করেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। যারা ‘হ্যাঁ’ ভোটের প্রচারণা চালিয়ে এখন ‘না’ বলছেন, একদিন তারাই দেশ থেকে ‘নাই’ হয়ে যাবেন বলে মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, জনতার রায়কে উপেক্ষা করে অতীতে কেউ টিকে থাকতে পারেনি, ভবিষ্যতেও কেউ টিকে থাকতে পারবে না।
দেশের বিভিন্ন স্থানে চুরি, চাঁদাবাজি ও লুটপাটের অভিযোগ তুলে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, চাঁদাবাজ ও দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। দেশের স্বার্থে প্রয়োজনে একবার নয়, শতবার রাজপথে নামার কথাও বলেন তিনি।
দুই শিবিরকর্মী হত্যার সমালোচনা করে তিনি বলেন, ক্ষমতার লোভে আর কোনো মায়ের কোল খালি হোক—এটা তারা চান না। এ সময় তিনি সংঘাত এড়িয়ে চলার আহ্বান জানান।
গাইবান্ধা-৫ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল ওয়ারেজের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি আব্দুল হালিম, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য অধ্যক্ষ মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিন, বগুড়া জেলা আমির আব্দুল হক, গাইবান্ধা জেলা আমির আব্দুল করিম এমপি এবং গাইবান্ধা জেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইউসুফ আল কাজামীসহ স্থানীয় নেতারা।
এর আগে ডা. শফিকুর রহমান শহীদ শিবিরকর্মী সাইফুল্লাহ বারী ও জামায়াতকর্মী সালাউদ্দিনের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। পরে তিনি তাঁদের কবর জিয়ারত করেন।
