রিজভীই কি হচ্ছেন বিএনপির নতুন মহাসচিব?
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ আগস্ট ২০২৬, ০৪:৩৩ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি করার আলোচনা জোরালো হয়েছে। দলীয় সূত্রের বরাত দিয়ে বিভিন্ন মহলে এমন আলোচনা থাকলেও বিএনপির পক্ষ থেকে এখনো রাষ্ট্রপতি পদে কোনো প্রার্থী আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি। তবে ফখরুল রাষ্ট্রপতি হলে বিএনপির পরবর্তী মহাসচিব কে হবেন, তা নিয়ে দলটির ভেতরে আলোচনা শুরু হয়েছে।
দলীয় একাধিক সূত্রের দাবি, পরবর্তী মহাসচিব হিসেবে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্মমহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ। অস্বাভাবিক কোনো পরিস্থিতি তৈরি না হলে তার মহাসচিব হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি বলে মনে করছেন দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রমে সক্রিয় রিজভী দলের তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রেখে চলেছেন। বিশেষ করে রাজনৈতিক সংকটের সময়ে দলীয় কর্মসূচি, সংবাদ সম্মেলন, রাজনৈতিক বক্তব্য ও সাংগঠনিক যোগাযোগে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।
বিএনপির সূত্রগুলো বলছে, দলের কঠিন সময়ে রিজভীকে নিয়মিত কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অবস্থান করে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে দেখা গেছে। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি একাধিকবার গ্রেপ্তার ও কারাবরণ করেছেন। দলের নেতাকর্মীদের একটি অংশ মনে করে, দীর্ঘদিনের ত্যাগ ও সাংগঠনিক অভিজ্ঞতার কারণে মহাসচিব পদে রিজভী উপযুক্ত ব্যক্তি।
আরও পড়ুন : যদি গণভোট অবৈধ হয়, তাহলে বর্তমান সরকারও অবৈধ
এর আগে রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির জ্যেষ্ঠ চার নেতা ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ড. আব্দুল মঈন খান ও হাফিজ উদ্দিন আহমেদের নাম আলোচনায় আসে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে মির্জা ফখরুলকে ঘিরেই আলোচনা বেশি জোরালো হয়েছে। তিনি রাষ্ট্রপতি হলে দলীয় মহাসচিবসহ বিএনপির অন্যান্য সাংগঠনিক পদ ছাড়তে হবে। সেই জায়গা থেকেই পরবর্তী মহাসচিব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
দলের ভেতরের আলোচনা অনুযায়ী, রিজভীকে প্রথমে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। পরে দলের জাতীয় কাউন্সিলে তাকে পূর্ণাঙ্গ মহাসচিব করা হতে পারে। বিএনপির প্রচলিত সাংগঠনিক কাঠামোতে সিনিয়র যুগ্মমহাসচিবকে পরবর্তী মহাসচিব হওয়ার সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
তবে নিজের মহাসচিব হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে রুহুল কবির রিজভী বলেন, এ বিষয়ে কী হচ্ছে, তা তার জানা নেই। তিনি দলের প্রতি শতভাগ আনুগত্য রেখে কাজ করছেন এবং দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ নীতিনির্ধারকরাই তাকে কীভাবে মূল্যায়ন করবেন, সেই সিদ্ধান্ত নেবেন।
সরকার গঠনের আগে মহাসচিব পদের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ ও আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নামও আলোচনায় ছিল। বর্তমানে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকায় তারা সরকারি কাজে ব্যস্ত। অন্যদিকে রিজভী দীর্ঘদিন ধরে দলীয় সাংগঠনিক কার্যক্রমে সক্রিয় থাকায় তার নাম নতুন করে সামনে এসেছে।
আরও পড়ুন : সরকার সব প্রতিষ্ঠানে হস্তক্ষেপ করছে: জামায়াত আমির
রিজভীর রাজনৈতিক জীবন শুরু হয় ছাত্ররাজনীতির মধ্য দিয়ে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার পর তিনি সংগঠনটির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮৯ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নির্বাচনে সহসভাপতি নির্বাচিত হন। পরে ১৯৯২ সালে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি নির্বাচিত হন।
২০১৬ সালে বিএনপির ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলে রিজভী সিনিয়র যুগ্মমহাসচিব নির্বাচিত হন। এরপর থেকে দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক কার্যক্রমে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন।
দলীয় নেতাকর্মীদের ভাষ্য, বিএনপির বিভিন্ন সংকটময় সময়ে রিজভী প্রকাশ্যে দলের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। দীর্ঘ সময় নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অবস্থান করে দলীয় কার্যক্রম চালানোর পাশাপাশি তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছেন তিনি।
তবে মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হবেন এবং রিজভী মহাসচিবের দায়িত্ব পাবেন এমন কোনো সিদ্ধান্ত এখনো বিএনপির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। ফলে শেষ পর্যন্ত দলের পরবর্তী মহাসচিব কে হচ্ছেন, তা নির্ভর করছে বিএনপির নীতিনির্ধারকদের সিদ্ধান্তের ওপর।
