নতুন ভাইরাসে আক্রান্ত স্কুলের ৫০০ শিক্ষার্থী
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ আগস্ট ২০২৬, ০৪:৩১ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
ভারতের বেঙ্গালুরুর একটি স্কুলে হঠাৎ করে ৫০০-এর বেশি শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছে। আক্রান্তদের অনেকের জ্বর, কাশি, শ্বাসকষ্টের পাশাপাশি বমি ও পেটের সমস্যাও দেখা দিয়েছে। একই ধরনের উপসর্গ নিয়ে অসুস্থ হয়েছেন স্কুলটির ২১ জন কর্মীও।
একসঙ্গে এত শিক্ষার্থী ও কর্মী অসুস্থ হয়ে পড়ায় অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তর জানিয়েছে, স্কুলটিতে ইনফ্লুয়েঞ্জা এ ভাইরাসের এইচ১এন১ ধরন, অর্থাৎ সোয়াইন ফ্লুর সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের বিভিন্ন এলাকায় সোয়াইন ফ্লুর সংক্রমণ নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। বিশেষ করে মহারাষ্ট্রের মুম্বাই ও পুনে এবং কর্ণাটকের বেঙ্গালুরুতে এ ভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ে সতর্কতা জারি রয়েছে।
শিশুদের জন্য কতটা ঝুঁকিপূর্ণ?
সোয়াইন ফ্লু ইনফ্লুয়েঞ্জা এ ভাইরাসের এইচ১এন১ ধরনের সংক্রমণ। এটি নতুন কোনো রোগ নয়। সাধারণ ফ্লুর মতো এ রোগেও জ্বর, কাশি, গলা ব্যথা, শরীর ব্যথা ও দুর্বলতার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। এছাড়া মাথাব্যথা, নাক দিয়ে পানি পড়া, বমি ও পেটের সমস্যাও হতে পারে।
আরও পড়ুন: কলকাতার হোটেলে আগুন, বেঁচে ফেরা ৩ বাংলাদেশির ভয়াবহ অভিজ্ঞতা
হাঁচি-কাশি, শ্বাসতন্ত্রের নিঃসরণ এবং আক্রান্ত ব্যক্তির ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শের মাধ্যমে ভাইরাসটি ছড়াতে পারে। শিশুদের ক্ষেত্রে সংক্রমণ গুরুতর হলে শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন জটিলতা দেখা দিতে পারে। আগে থেকে হাঁপানি বা শ্বাসতন্ত্রের অন্য সমস্যা থাকলে ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে।
সংক্রমণ গুরুতর হলে শ্বাস নিতে কষ্ট, বুকে ব্যথা, অতিরিক্ত দুর্বলতা, ঠোঁট বা মুখ নীলচে হয়ে যাওয়া, বারবার বমি কিংবা অস্বাভাবিক আচরণের মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে। এসব উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
যেভাবে সতর্ক থাকা যায়
বিশেষজ্ঞদের মতে, সোয়াইন ফ্লু থেকে সুরক্ষিত থাকতে নিয়মিত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা গুরুত্বপূর্ণ। বাইরে থেকে ফিরে সাবান দিয়ে ভালোভাবে হাত ধোয়া, হাঁচি-কাশির সময় নাক ও মুখ ঢেকে রাখা এবং জ্বর-সর্দি-কাশি হলে অন্যদের থেকে দূরত্ব বজায় রাখা উচিত।
প্রয়োজনে মাস্ক ব্যবহার করা এবং পরিবারের কারও ফ্লুর মতো উপসর্গ থাকলে শিশুদের তাঁর কাছ থেকে দূরে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। শিশুর জ্বর, শ্বাসকষ্ট বা অন্য কোনো গুরুতর উপসর্গ দেখা দিলে নিজে থেকে ওষুধ না দিয়ে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
সচেতনতা, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা এবং সময়মতো চিকিৎসা নেওয়ার মাধ্যমে সোয়াইন ফ্লুর সংক্রমণ ও জটিলতার ঝুঁকি কমানো সম্ভব।
