দেশজুড়ে ১০ লাখ কিউআর কোড চালু, বাড়ছে ডিজিটাল লেনদেন
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬, ০২:১৪ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
দেশজুড়ে মার্চেন্ট পয়েন্টগুলোতে সচল থাকা প্রায় ১০ লাখ কিউআর কোডের ৯০ শতাংশই এখন 'বাংলা কিউআর'-এর আওতায় এসেছে।
সংশ্লিষ্টদের দাবি, নতুন এই ব্যবস্থার ফলে ব্যবসায়ী ও ক্রেতা উভয়েই সুবিধা পাচ্ছেন এবং সামগ্রিক লেনদেন বেড়েছে ১৫ শতাংশের বেশি। এদিকে, ডিজিটাল লেনদেনকে আরও উৎসাহিত করতে ব্যবসায়ীদের লভ্যাংশের হার কিছুটা বৃদ্ধি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
দেশজুড়ে কাগজের টাকার ব্যবহার কমিয়ে ক্যাশলেস সোসাইটি বা নগদহীন সমাজ গড়ে তুলতে বড় উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী সর্বজনীন 'বাংলা কিউআর' কোড চালু করা হয়েছে। বিভিন্ন বাণিজ্যিক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো ইতোমধ্যে তাদের মার্চেন্ট পয়েন্টগুলোতে এই কিউআর কোড প্রতিস্থাপনের কাজ প্রায় শেষ এনেছে। একটিমাত্র কিউআর কোড ব্যবহার করে সব ধরনের ব্যাংকিং ও মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের (এমএফএস) মাধ্যমে বিল পরিশোধের এই সুযোগে স্বস্তি ও সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন ক্রেতারা।
এদিকে, নতুন কিউআর কোড প্রতিস্থাপনকে স্বাগত জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। নতুন কোড প্রতিস্থাপনের পর, প্রথম দিনে লেনদেন বেড়েছে ১৫ শতাংশ। তবে, চাহিদা অনুযায়ী অনেক ব্যবসায়ী এখনও বাংলা কিউআর কোড পাননি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, সারাদেশে মার্চেন্ট পয়েন্টগুলোতে প্রায় ১০ লাখ কিউআর কোড চালু রয়েছে। এর মধ্যে ৯০ শতাংশের বেশি বাংলা কিউআর কোডে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। ফলে মার্চেন্ট পয়েন্টগুলোতে বাংলা কিউআরের চাহিদাও বেড়েছে।
নগদের প্রশাসক মো. মোতাছিম বিল্লাহ বলেন, ২৫ জুন থেকে তারা বাজারে বাংলা কিউআর নিয়ে কাজ শুরু করেছেন। এক সপ্তাহ সময় পাওয়ায় কিছু জটিলতা তৈরি হলেও অন্য কোনো সমস্যা নেই। তিনি বলেন, মার্চেন্টরা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানাচ্ছেন এবং এর ফলে লেনদেনের পরিমাণও বেড়েছে।
বাংলা কিউআর দ্রুত ছড়িয়ে দিতে কাজ করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ কার্যক্রমে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকেও সম্পৃক্ত করা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, শুধু বাংলাদেশ ব্যাংকের উদ্যোগে এ কার্যক্রম সফল করা সম্ভব নয়। এজন্য সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয় ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। এ বিষয়ে তাদের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়াও পাওয়া যাচ্ছে।
বাংলা কিউআর কোডের মাধ্যমে মার্চেন্ট পেমেন্টে সেবা ফি হিসেবে ভ্যাটসহ সর্বনিম্ন ১ শতাংশ মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট (এমডিআর) প্রযোজ্য হবে। এই অর্থ গ্রাহকের কাছ থেকে কাটা যাবে না। এমডিআর কাটা হবে মার্চেন্ট বা দোকানদারের প্রাপ্য অর্থ থেকে। অর্থাৎ, গ্রাহক যে পরিমাণ টাকা পরিশোধ করবেন, তার হিসাব থেকে শুধু সেই পরিমাণ টাকাই কাটা হবে।
