×

জাতীয়

ব্রহ্মপুত্র-মেঘনায় পানির উচ্চপ্রবাহ, চলতি মাসেই বড় বন্যার শঙ্কা

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৪:৪২ পিএম

ব্রহ্মপুত্র-মেঘনায় পানির উচ্চপ্রবাহ, চলতি মাসেই বড় বন্যার শঙ্কা

ফাইল ছবি

চলতি বছরের জুলাই ও আগস্ট মাসে ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনা নদী অববাহিকায় বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। উজানে ভারী বৃষ্টিপাত এবং বর্ষাকালের স্বাভাবিক জলপ্রবাহের কারণে এ পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র (এফএফডব্লিউসি)।

এফএফডব্লিউসির নির্বাহী প্রকৌশলী সারদার উদয় রায়হান জানিয়েছেন, জলবায়ুগত বৈশিষ্ট্যের কারণে প্রতি বছর জুলাই ও আগস্ট মাসে বাংলাদেশে বন্যার ঝুঁকি থাকে। এ সময় দেশের প্রধান নদীগুলোর উজান ও অববাহিকায় ভারী বৃষ্টিপাত হওয়ায় নদীর পানির প্রবাহ দ্রুত বৃদ্ধি পায়, যা বন্যা পরিস্থিতির জন্ম দেয়।

তিনি বলেন, চলতি বছরও একই ধরনের পরিস্থিতির আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনা নদী অববাহিকায় পানির উচ্চপ্রবাহ দেখা দিলে কয়েকটি অঞ্চলে বন্যা দেখা দিতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনা এই দুই বৃহৎ নদী অববাহিকায় একই সময়ে পানির প্রবাহ বৃদ্ধি পাওয়া দেশের জন্য সবচেয়ে বড় ঝুঁকির কারণ। অতীতেও এমন পরিস্থিতিতে বড় ধরনের বন্যা হয়েছে।

ইতিহাস বলছে, ১৯৮৮ সালের আগস্ট-সেপ্টেম্বরে অতিবৃষ্টির কারণে দেশের প্রায় ৬০ শতাংশ এলাকা প্লাবিত হয়েছিল। এরপর ১৯৯৮ সালের দীর্ঘস্থায়ী বন্যা টানা দুই মাসের বেশি সময় স্থায়ী হয়। ওই বন্যায় এক হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু এবং প্রায় তিন কোটি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত বা পানিবন্দি হওয়ার ঘটনা ঘটে।

এ ছাড়া ২০০৪ সালের জুলাইয়ের শেষ দিকে ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনা নদীর সর্বোচ্চ প্রবাহ একসঙ্গে মিলিত হওয়ায় ভয়াবহ বন্যা দেখা দেয়। শুধু উত্তর-পূর্বাঞ্চলেই প্রায় ৩০ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকা প্লাবিত হয়েছিল।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতেও বন্যার প্রভাব উল্লেখযোগ্য। ২০২২ সালে মেঘনা অববাহিকার বন্যা এবং ২০২৪ সালের ভয়াবহ বন্যায় সম্মিলিতভাবে এক কোটি ৩০ লাখের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হন। বিশেষজ্ঞদের মতে, উজানে অতিবৃষ্টির প্রবণতা বাড়তে থাকায় ভবিষ্যতেও একই ধরনের ঝুঁকি অব্যাহত থাকতে পারে।

সারদার উদয় রায়হান জানান, বর্তমানে এফএফডব্লিউসি দেশের অভ্যন্তরীণ নদী অববাহিকার জন্য ১০ থেকে ১৫ দিন আগে পর্যন্ত বন্যার পূর্বাভাস দিতে সক্ষম। তবে উপকূলীয় নদ-নদীর ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ তিন দিন আগে নির্ভরযোগ্য পূর্বাভাস দেওয়া সম্ভব হচ্ছে।

বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি বলেন, ব্রহ্মপুত্র নদ অববাহিকার কিছু নিম্নাঞ্চল ইতোমধ্যে প্লাবিত হয়েছে। তবে আগামী পাঁচ থেকে ছয় দিনের মধ্যে পরিস্থিতি স্থিতিশীল হতে পারে, যদি উজানে নতুন করে ভারী বৃষ্টিপাত না হয়।

অন্যদিকে, মেঘনা নদী অববাহিকায় আপাতত বড় ধরনের ঝুঁকি নেই। আগামী কয়েক দিন উজানে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা কম থাকায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকতে পারে। তবে চলতি মাসে বঙ্গোপসাগরে একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হলে উপকূলীয় নিম্নাঞ্চলে আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা রয়েছে।

এফএফডব্লিউসির সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদী ব্যবস্থার পানির স্তর কিছুটা কমেছে। তবে আগামী চার দিনে তা আবার বাড়তে পারে এবং পঞ্চম দিনে স্থিতিশীল থাকতে পারে।

পূর্বাভাসে আরও বলা হয়েছে, ৪ থেকে ৭ জুলাইয়ের মধ্যে কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর ও বগুড়া জেলায় ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদীর পানি সতর্কসীমার কাছাকাছি বা সতর্কসীমায় প্রবাহিত হতে পারে। এতে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের কিছু এলাকা প্লাবিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

একই সময়ে গঙ্গা-পদ্মা নদীর পানির স্তর বাড়লেও তা বিপৎসীমার নিচেই থাকবে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া আগামী ৭২ ঘণ্টায় সুরমা-কুশিয়ারা (উচ্চ মেঘনা) নদ-নদীর পানি সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার কয়েকটি স্থানে সতর্কসীমায় পৌঁছাতে পারে। ফলে সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে পানি প্রবেশের আশঙ্কা রয়েছে।

বর্তমানে নীলফামারীর ডালিয়া, লালমনিরহাটের তিস্তার তারাপুর পয়েন্ট, সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ, সুনামগঞ্জের মারকুলিতে কুশিয়ারা নদী এবং নেত্রকোনার কলমাকান্দায় সোমেশ্বরী নদীর পানি নিজ নিজ সতর্কসীমায় প্রবাহিত হচ্ছে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সোনারগাঁওয়ে ১০ টাকা চাঁদা না পেয়ে হত্যা, প্রধান আসামী শাহিন গ্রেপ্তার

সোনারগাঁওয়ে ১০ টাকা চাঁদা না পেয়ে হত্যা, প্রধান আসামী শাহিন গ্রেপ্তার

মির্জাগঞ্জে মাদকাসক্ত ছেলের হাতে বাবা খুন

মির্জাগঞ্জে মাদকাসক্ত ছেলের হাতে বাবা খুন

দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের শঙ্কা, জলঢাকায় ১৪৪ ধারা জারি

নীলফামারী দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের শঙ্কা, জলঢাকায় ১৪৪ ধারা জারি

১১ বছর ধরে শরীরে রোগ নিয়ে ঘুরছেন দিলজিৎ!

১১ বছর ধরে শরীরে রোগ নিয়ে ঘুরছেন দিলজিৎ!

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App