গাইবান্ধায় নদ-নদীর পানি কমছে, নদীভাঙন ঝুঁকিতে শতাধিক পরিবার
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৫:৩১ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
উজানের ঢল কমতে শুরু করায় গাইবান্ধার প্রধান নদ-নদীগুলোর পানি হ্রাস পাচ্ছে। তবে পানি নামার সঙ্গে সঙ্গে জেলার বিভিন্ন এলাকায় তীব্র আকার ধারণ করেছে নদীভাঙন। গত এক মাসে পানি ওঠানামার কারণে জেলার চার উপজেলার অন্তত ২৫টি পয়েন্টে ভাঙন দেখা দিয়েছে।
ভাঙনের ফলে ইতোমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে প্রায় ২০০টি বসতভিটা ও বিপুল পরিমাণ ফসলি জমি। এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানিয়েছে, নতুন করে ঢল ও ভারী বৃষ্টিপাত শুরু হলে পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে। ক্ষতিগ্রস্তদের দাবি, লোক দেখানো প্রতিরোধমূলক কাজ নয়, নদীভাঙনের স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করতে হবে।
স্থানীয়দের মতে, গাইবান্ধার প্রধান নদ-নদীগুলোর পানি কখনো বাড়ছে, আবার কখনো কমছে। এই ওঠানামার মধ্যেই অব্যাহত রয়েছে ভাঙন। প্রতিনিয়ত নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে বসতভিটা ও আবাদি জমি। জেলার চার উপজেলার অন্তত ২৫টি পয়েন্টে প্রায় ২০০টি বাড়িঘর নদীগর্ভে চলে গেছে। ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে আরও শতাধিক পরিবার।
পানি কমে যাওয়ায় চরাঞ্চলের ঘরবাড়ি থেকে বন্যার পানি নেমে গেলেও এখন স্পষ্ট হয়ে উঠছে প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির চিত্র। শেষ সম্বল হারিয়ে এবং বাড়িঘর নদীতে বিলীন হওয়ার আশঙ্কায় দিন কাটছে নদীপাড়ের হাজারো মানুষের।
গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার (৩ জুলাই) দুপুর ১২টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় তিস্তা নদীর পানি কাউনিয়া পয়েন্টে ১৫ সেন্টিমিটার কমে বিপৎসীমার ৭১ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ব্রহ্মপুত্র ও যমুনা নদের পানি ফুলছড়ির তিস্তামুখ পয়েন্টে ২ সেন্টিমিটার কমে বিপৎসীমার ১১৬ সেন্টিমিটার নিচে রয়েছে। এছাড়া ঘাঘট নদীর পানি জেলা শহরের নতুন ব্রিজ পয়েন্টে ৯ সেন্টিমিটার কমে বিপৎসীমার ১৬৪ সেন্টিমিটার এবং গোবিন্দগঞ্জের করতোয়া নদীর পানি চকরহিমাপুর স্টেশন পয়েন্টে ৮ সেন্টিমিটার কমে বিপৎসীমার ২০৬ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
গত এক মাস ধরে জেলার নদ-নদীগুলোর পানি বারবার ওঠানামা করছে। এর প্রভাবে জেলা সদর, সুন্দরগঞ্জ, ফুলছড়ি ও সাঘাটা উপজেলার নদীতীরবর্তী এবং চরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় বসতভিটা ও ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে।
একই সঙ্গে গাইবান্ধা সদর উপজেলার কামারজানি, শহররক্ষা বাঁধ, ফুলছড়ির বালাসী ফেরিঘাট, সাঘাটা উপজেলার বিভিন্ন এলাকা এবং বেশ কয়েকটি সরকারি-বেসরকারি স্থাপনাও ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, বন্যার আগেই কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া হলে জেলার বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে।
ভাঙনকবলিত এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, পানি উন্নয়ন বোর্ডের কার্যকর ও স্থায়ী উদ্যোগের অভাবে প্রতিবছরই তাদের নদীভাঙনের শিকার হতে হয়। তারা ক্ষতিপূরণের পাশাপাশি নদীভাঙন রোধে দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
গাইবান্ধা সদর উপজেলার দিগারী ইউনিয়নের রহমাননগর এলাকার বাসিন্দা হাকিম বলেন, বন্যার সময় একবার ফসলি জমি ও বসতভিটা নদীতে গেছে। এখন পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে আবার নতুন করে ভাঙন শুরু হয়েছে। চরের মানুষ সারা বছরই নদীভাঙনের শিকার হই।
সুন্দরগঞ্জের কাশিমবাজার এলাকার বাসিন্দা রুমিনা বেগম বলেন, গত এক মাসে তিস্তার পানি বাড়া-কমায় সব শেষ হয়ে গেছে। ফসলের জমিগুলো নদীতে চলে গেছে। বন্যা এলেই দুইবার বাড়িঘর সরাতে হয়। কিন্তু আমাদের খোঁজ কেউ নেয় না।
ফুলছড়ি উপজেলার কঞ্চিপাড়া এলাকার আশরাফ মিয়া বলেন, নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। আর পাড়গুলো ধপাধপ ভেঙে নদীতে পড়ছে। আমাদের কষ্ট কেউ বোঝে না। নদীভাঙন বন্ধ হলে আমরা অনেকটা মুক্তি পেতাম। প্রতিবছর এ দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, যমুনা, ব্রহ্মপুত্রসহ জেলার সব নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। তবে কয়েক দিনের মধ্যে আবার পানি বাড়তে পারে। এতে চরাঞ্চলের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পানি ওঠানামার কারণেই বিভিন্ন স্থানে নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙন রোধে জিও ব্যাগ ফেলে প্রতিরোধের চেষ্টা করা হচ্ছে।
