‘প্যাকেটের সামনেই থাকতে হবে স্বাস্থ্যঝুঁকির সতর্কবার্তা’
দ্রুত নীতিমালার দাবি
মীম ওবাইদুল্লাহ
প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬, ০৬:০৪ পিএম
ছবি: বাংলাদেশে প্যাকেটজাত খাদ্যের সামনের অংশে লেবেলিং (এফওপিএল) বিষয়ক গণমাধ্যম প্রচারাভিযান শীর্ষক মিডিয়া অ্যাডভোকেসি কর্মশালা
প্যাকেটজাত খাবারে অতিরিক্ত চিনি, লবণ ও অস্বাস্থ্যকর চর্বির তথ্য সহজভাবে তুলে ধরতে দ্রুত ফ্রন্ট অব প্যাক লেবেলিং (এফওপিএল) নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, আইনজ্ঞ ও গণমাধ্যমকর্মীরা।
তাদের মতে, প্যাকেটের সামনের অংশে স্পষ্ট সতর্কবার্তা থাকলে ভোক্তারা সচেতনভাবে খাদ্য বেছে নিতে পারবেন, যা অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধ ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) রাজধানীর বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের উদ্যোগে ‘বাংলাদেশে প্যাকেটজাত খাদ্যের সামনের অংশে লেবেলিং (এফওপিএল) বিষয়ক গণমাধ্যম প্রচারাভিযান’ শীর্ষক এক মিডিয়া অ্যাডভোকেসি কর্মশালায় এসব দাবি জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের স্বাস্থ্য ও পুষ্টি সেক্টরের পরিচালক ইকবাল মাসুদ বলেন, বর্তমানে খাদ্যপণ্যের পুষ্টি তথ্য সাধারণ ভোক্তা সহজে বুঝতে পারে না। ফলে মানুষ অনেক সময় অজান্তেই অতিরিক্ত চিনি, লবণ ও অস্বাস্থ্যকর চর্বিযুক্ত খাদ্য গ্রহণ করছেন। প্যাকেটের সামনের অংশে সহজ ও স্পষ্ট সতর্কবার্তা থাকলে ভোক্তারা সচেতন সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন এবং যা দীর্ঘমেয়াদে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।
গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটরের বাংলাদেশ কান্ট্রি লিড মুহাম্মদ রুহুল কুদ্দুস কর্মশালায় এফওপিএল অ্যাডভোকেসি ক্যাম্পেইনের লক্ষ্য, বৈশ্বিক অগ্রগতি এবং বাংলাদেশে ভবিষ্যৎ কার্যক্রম তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এফওপিএল কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয়েছে এবং বাংলাদেশেও জনস্বার্থে এ ধরনের নীতি প্রণয়নের এখনই উপযুক্ত সময়।
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র অ্যাডভোকেট ব্যারিস্টার মো. মাহফুজুর রহমান মিলন বলেন, সঠিক ও সহজবোধ্য খাদ্য তথ্য জানা ভোক্তার মৌলিক অধিকার। কার্যকর ফ্রন্ট অব প্যাক লেবেলিং সেই অধিকার বাস্তবায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপায় এবং বিদ্যমান ভোক্তা অধিকার আইনকে আরও কার্যকর করার পাশাপাশি নিরাপদ খাদ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতেও সহায়ক হবে।
ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের অ্যাসিস্ট্যান্ট সায়েন্টিস্ট ড. আহমাদ খায়রুল আবরার তাঁর উপস্থাপনায় বলেন, আন্তর্জাতিক গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে, ফ্রন্ট অব প্যাক লেবেলিং ভোক্তাদের স্বাস্থ্যকর খাদ্য নির্বাচনকে উৎসাহিত করে এবং খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে পণ্যের উপাদান আরও স্বাস্থ্যসম্মত করতে উদবদ্ধ করে, যার ফলে দীর্ঘমেয়াদে অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি কমানো সম্ভব।
বাংলাভিশনের সিনিয়র নিউজ এডিটর আবু রুশদ মো. রুহুল আমিন বলেন, জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে গণমাধ্যমের দায়িত্ব শুধু তথ্য প্রচার নয়; বরং তথ্যনির্ভর প্রতিবেদন ও জনআলোচনা সৃষ্টি, অনুসন্ধানী সংবাদ, এবং ধারাবাহিক প্রচারের মাধ্যমে এফওপিএল বিষয়ে জনগণের কাছে সহজভাবে তুলে ধরা এবং নীতিগত বিষয়গুলোকে জবাবদিহিমূলক ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি করা সম্ভব।
কর্মশালায় প্রিন্ট, টেলিভিশন ও অনলাইন গণমাধ্যমের সাংবাদিক, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, আইনজ্ঞ, যুব প্রতিনিধি এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। উন্মুক্ত আলোচনায় ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের প্রকল্প সমন্বয়কারী মাহবুবা রহমান বলেন, বাংলাদেশে প্রস্তাবিত ফ্রন্ট অব প্যাক লেবেলিং (এফওপিএল) বিধিমালার খসড়া বর্তমানে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের পর্যালোচনাধীন রয়েছে। নীতিমালা চূড়ান্ত হওয়ার এই পর্যায়ে প্রমাণভিত্তিক গণমাধ্যম প্রচার এবং সব অংশীজনের সমন্বিত অ্যাডভোকেসি ইতিবাচক জনমত সৃষ্টি ও নীতিগত অগ্রগতি ত্বরান্বিত করতে সহায়ক হতে পারে।
কর্মশালার শেষে অংশগ্রহণকারীরা বাংলাদেশে কার্যকর এফওপিএল বাস্তবায়নে ইতিবাচক জনমত গড়ে তুলতে এবং নীতিমালা প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টি করতে গণমাধ্যম, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, নাগরিক সমাজ ও অন্যান্য অংশীজনের সমন্বিতভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
