শিক্ষার্থীদের পড়ার টেবিলে ফিরে যাওয়ার আহ্বান শিক্ষামন্ত্রীর
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬, ০৬:৪১ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
বৈরী আবহাওয়া ও বন্যা পরিস্থিতির কারণে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা নিয়ে সৃষ্ট উদ্বেগের মধ্যে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, কোনো পরীক্ষার্থী প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারলে পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রয়োজন হলে পুনরায় পরীক্ষা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে পদার্থবিজ্ঞান পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে ত্রুটির কারণে সংশ্লিষ্ট দুটি প্রশ্নে সব পরীক্ষার্থীকে পূর্ণ নম্বর দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) জাতীয় সংসদে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রশ্নোত্তর পর্বে এসব কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী।
সম্পূরক প্রশ্নে সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা জানতে চান, বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে পদার্থবিজ্ঞানের মতো গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা এক বা দুই দিন পিছিয়ে দেওয়া সম্ভব ছিল না কেন।
জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সারা দেশে প্রায় ২ হাজার ৭০০টি কেন্দ্রে একযোগে এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বন্যা পরিস্থিতির কারণে আগেই চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীন রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়িসহ পুরো বোর্ডের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছিল। তবে অন্যান্য অঞ্চলের পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করে স্থানীয় প্রশাসনের মতামতের ভিত্তিতেই নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
তিনি জানান, পরীক্ষা আয়োজনের আগে ৬৪ জেলার পুলিশ সুপার, আট বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার, শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), জেলা প্রশাসক এবং আবহাওয়া অধিদপ্তরের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট সবার মতামতের ভিত্তিতে বিকেল ৫টা পর্যন্ত পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
আরও পড়ুন: বৈরী আবহাওয়ায় পরীক্ষা দিতে না পারলে আবারও নেওয়া হবে
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুকূলে থাকলেও পরদিন সকালে কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ কেন্দ্রের মাঠ পানিতে তলিয়ে যায়। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পরীক্ষাকেন্দ্র স্থানান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়। একই কেন্দ্রে এক পরীক্ষার্থীর পোশাক ভিজে যাওয়ায় তার জন্য শুকনো পোশাকের ব্যবস্থা করা হয় এবং অতিরিক্ত সময় দিয়ে পরীক্ষা নেওয়া হয়।
পদার্থবিজ্ঞান পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে ত্রুটির বিষয়ে তিনি বলেন, প্রশ্ন প্রণয়ন ও মডারেশনের কাজ প্রায় দুই বছর আগে শুরু হয়েছিল। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার আগেই এসব প্রশ্ন প্রস্তুত করা হয়েছিল। তবে সৃজনশীল অংশের ৬ ও ৭ নম্বর প্রশ্নে ত্রুটি শনাক্ত হওয়ার পর তাৎক্ষণিকভাবে ওই দুটি প্রশ্নে সব পরীক্ষার্থীকে পূর্ণ নম্বর দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মার্জিয়া বেগমের এক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, লক্ষ্মীপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়কে কৃষিভিত্তিক বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের বিষয়টি সরকারের বিবেচনায় রয়েছে। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়টির আইন ভেটিংয়ের কাজ চলছে। ভবিষ্যতে সেখানে আন্তর্জাতিক মানের একটি ‘স্কুল অব এগ্রিকালচার’ প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা রয়েছে।
আরও পড়ুন: ভুল প্রশ্নে পূর্ণ নম্বর পাবে পরীক্ষার্থীরা
পটুয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, যেসব এলাকায় দুর্যোগ বা প্রশাসনিক সীমাবদ্ধতার কারণে পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষা দিতে পারেননি, সেসব ক্ষেত্রে বিষয়টি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনে পুনঃপরীক্ষার ব্যবস্থা করা হবে। চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে ইতোমধ্যে এমন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং প্রয়োজন হলে অন্য ক্ষেত্রেও একই ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “আমি সবাইকে পড়ার টেবিলে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানাই। কোনো শিক্ষার্থী যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়ে সরকার আন্তরিক। সুষ্ঠুভাবে পরীক্ষা সম্পন্ন করা এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছি।”
