এবার সায়েন্সল্যাব থেকে সংসদ অভিমুখে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬, ০৬:১০ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ ও তার বক্তব্যের জন্য জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়ার দাবিতে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বিকেল সোয়া ৫টার দিকে রাজধানীর সায়েন্সল্যাব মোড় থেকে তারা জাতীয় সংসদ ভবনের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেন। শিক্ষার্থীরা জানান, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন চলবে।
এর আগে বিকেল ৫টার দিকে সায়েন্সল্যাবে শিক্ষার্থীদের পক্ষে সিটি কলেজের পরীক্ষার্থী মো. মিরাজ হোসেন তিন দফা দাবি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে শিক্ষামন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হবে এবং তার ‘অসংগতিপূর্ণ’ বক্তব্যের জন্য জাতির কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। এছাড়া ১৩ জুলাই প্রতিকূল পরিবেশে যারা পরীক্ষা দিয়েছেন এবং যারা পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি, তাদের কথা বিবেচনায় নিয়ে ওই পরীক্ষাটি পুনরায় আয়োজন করতে হবে। পাশাপাশি আগামীকালের নির্ধারিত পরীক্ষা স্থগিত করে নতুন রুটিন প্রকাশ এবং শিক্ষার্থীবান্ধব প্রশ্নপত্র প্রণয়নেরও দাবি জানান তিনি।
আরো পড়ুন: সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগসহ তিন দাবি শিক্ষার্থীদের
এর আগে বিকেল পৌনে ৪টার দিকে শিক্ষার্থীরা সায়েন্সল্যাব এলাকায় অবস্থান নিলে ওই সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ফলে আশপাশের এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। অবস্থান কর্মসূচির সময় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন আন্দোলনকারীরা।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, সকাল থেকে ধারাবাহিকভাবে আন্দোলন চললেও সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কেউ তাদের সঙ্গে আলোচনায় আসেননি।
মিরাজ হোসেন বলেন, সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে শিক্ষামন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হবে এবং তার ‘অসংগতিপূর্ণ’ বক্তব্যের জন্য জাতির কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। এছাড়া ১৩ জুলাই প্রতিকূল পরিস্থিতিতে যারা পদার্থবিজ্ঞান পরীক্ষা দিয়েছেন এবং যারা পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি, তাদের স্বার্থ বিবেচনায় পরীক্ষাটি আবার নেওয়ার দাবি জানান। পাশাপাশি আগামীকালের পরীক্ষা বাতিল করে নতুন সময়সূচি প্রকাশ এবং শিক্ষার্থীবান্ধব প্রশ্নপত্র প্রণয়নের আহ্বান জানান তিনি।
এর আগে বিকেল পৌনে ৪টার দিকে শিক্ষার্থীরা সায়েন্স ল্যাব মোড়ে অবস্থান নিলে মিরপুর সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে আশপাশের এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। অবস্থান কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীরা শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন। তাদের অভিযোগ, সকাল থেকে আন্দোলন চললেও সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কেউ আলোচনায় আসেননি।
টানা বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার মধ্যে সোমবার এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়ার প্রতিবাদে মঙ্গলবার সকাল থেকেই রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীরা। বিভিন্ন স্থানে তারা সড়ক অবরোধ, সমাবেশ ও মিছিল করেন।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, পদার্থবিজ্ঞান বিষয়ের প্রশ্নপত্রে ভুল ছিল এবং প্রশ্নের মান অস্বাভাবিকভাবে কঠিন ছিল। তাদের দাবি, অভিন্ন প্রশ্নপত্র আগের বছরের তুলনায় অনেক বেশি কঠিন হওয়ায় পরীক্ষার্থীরা ভোগান্তিতে পড়েছেন।
বিকেল চারটার কিছু আগে সায়েন্স ল্যাব মোড় অবরোধ করেন আন্দোলনকারীরা। এর আগে বেলা পৌনে তিনটার দিকে তারা ঢাকার মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের সামনে অবস্থান নেন এবং শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে ‘ভুয়া, ভুয়া’ স্লোগান দেন।
এরও আগে শিক্ষার্থীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি চত্বরে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। পরে তারা পলাশীর মোড় হয়ে শিক্ষা বোর্ডের সামনে যান। সকালেও প্রায় এক ঘণ্টা সায়েন্স ল্যাব মোড়ে সড়ক অবরোধ করেন তারা।
রাজধানীর বাইরে উত্তরায় বিএনএস সেন্টারের সামনে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক, বরিশালে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক এবং ময়মনসিংহে ময়মনসিংহ-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। এছাড়া কুমিল্লা, বগুড়া ও ময়মনসিংহেও বিক্ষোভ ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক কলেজের শিক্ষার্থী মো. সামির বলেন, কোথায় গিয়ে দাবি জানাবেন তা বুঝতে না পেরে তারা টিএসসির দিকে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তবে শিক্ষা বোর্ডের সামনে এবং বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় পুলিশ বাধা দিয়েছে। হামলায় অনেক শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন শিক্ষার্থীরা।
ঢাকা আইডিয়াল কলেজের শিক্ষার্থী অপূর্ব ফিরোজ বলেন, আগামীকালের পরীক্ষা শেষ করে আবারও সায়েন্স ল্যাবে আন্দোলনে যোগ দেবেন। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি। বেলা পৌনে তিনটার দিকে শিক্ষা বোর্ডের সামনে অবস্থান নিয়ে শিক্ষার্থীরা স্লোগান দেন। একপর্যায়ে তারা ইট নিক্ষেপ ও গেটে ধাক্কাধাক্কি করলে সেখানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা অবস্থান নেন।
সকাল সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত সায়েন্স ল্যাব মোড়ে সড়ক অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। পরে তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকে গেলে ভিসি চত্বরের সামনে পুলিশ তাদের সরিয়ে দেয়। এরপর নীলক্ষেত হয়ে টিএসসিগামী সড়কে অবস্থান নেন তারা।
উত্তরার বিএনএস সেন্টারের সামনে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কেও সকাল থেকে অবরোধ চলে। উত্তরা ট্রাফিক বিভাগের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান, অবরোধ চলাকালে ওই সড়কে যান চলাচল বন্ধ ছিল।
রাজধানীর সায়েন্স ল্যাবের কর্মসূচিতে ঢাকা সিটি কলেজ, ঢাকা আইডিয়াল কলেজ, সরকারি বাঙলা কলেজ, সিদ্ধেশ্বরী গার্লস কলেজ, লালমাটিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজ, রাজারবাগ পুলিশ লাইনস স্কুল অ্যান্ড কলেজ, বিএফ শাহীন কলেজসহ ১২ থেকে ১৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।
বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ পাবলিক কলেজের শিক্ষার্থী ইয়াসিন আরাফাতের অভিযোগ, পদার্থবিজ্ঞান পরীক্ষার আটটি প্রশ্নের মধ্যে দুটি ভুল ছিল এবং বাকি ছয়টি বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার মানের মতো কঠিন ছিল। তিনি প্রশ্ন তোলেন, এতে শিক্ষার্থীরা ফেল করলে তার দায় শিক্ষামন্ত্রী নেবেন কি না।
ঢাকা আইডিয়াল কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী আহনাফ মুনজি বলেন, বৈরী আবহাওয়ার কারণে অনেক পরীক্ষার্থী কেন্দ্রে পৌঁছাতে পারেননি। কেউ পথে পড়ে গেছেন, আবার কারও প্রবেশপত্র ভিজে নষ্ট হয়েছে। এসব পরিস্থিতির দায়ও শিক্ষামন্ত্রীর বলে মন্তব্য করেন তিনি। শিক্ষার্থীদের স্বার্থ বিবেচনা করতে না পারলে এমন শিক্ষামন্ত্রী তারা চান না বলেও জানান।
রমনা বিভাগের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার রব্বানী হোসেন বলেন, শিক্ষার্থীরা সড়ক ছেড়ে দেওয়ার পর রাজধানীতে যান চলাচল আবার স্বাভাবিক হয়ে আসে।
