মাহদী আমিন
নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৬, ০৭:২৮ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক প্রত্যাশা পূরণ এবং জুলাই শহীদদের স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ে তুলতে বর্তমান সরকার নির্বাচনি ইশতেহারের প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নে দৃঢ়ভাবে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র ড. মাহদী আমিন।
তিনি বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত বর্তমান বিএনপি সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই নির্বাচনি ইশতেহারের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গীকার বাস্তবায়নে সব মন্ত্রণালয় সমন্বিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) আয়োজিত ‘ফল উৎসব-২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে ঐতিহাসিক ১৬ জুলাই ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে শহীদ আবু সাঈদ, শহীদ ওয়াসিম আকরামসহ ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে আত্মদানকারী সব শহীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান তিনি।
ড. মাহদী আমিন বলেন, নির্বাচিত সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের প্রায় পাঁচ মাস হতে চলেছে। এই অল্প সময়ের মধ্যেই নির্বাচনি ইশতেহারের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রতিটি মন্ত্রণালয় সম্মিলিতভাবে কাজ করছে। জাতীয় ঐক্যকে শক্তিশালী করে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যেই সরকারের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, রাজনৈতিক মতাদর্শ ও পথ ভিন্ন হতে পারে, তবে দেশপ্রেম ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে ধারণ করে জাতীয় স্বার্থে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। নতুন বাংলাদেশ গঠনে সরকারের মূলনীতি হচ্ছে- ‘সবার আগে বাংলাদেশ’। সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে একটি সমৃদ্ধ রাষ্ট্র গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য।
মাহদী আমিন বলেন, গত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা সবচেয়ে বেশি গুম, খুন, হামলা ও মামলার শিকার হয়েছেন। নানা প্রতিকূলতা অতিক্রম করে জনগণের সমর্থনে সরকার গঠনকারী দলটি এখন জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করছে।
সাংবাদিকদের ভূমিকার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, সাংবাদিকরা জাতির দর্পণ। ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে যেভাবে তারা সাহসিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন, একইভাবে বর্তমান পরিস্থিতিতেও সত্য, নিরপেক্ষ ও ন্যায়সংগত সংবাদ জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে।
বাকস্বাধীনতার বিষয়ে তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শাসনামলে দেশে সর্বাধিক গণমাধ্যমের যাত্রা শুরু হয়েছিল এবং সে সময় বাকস্বাধীনতা খর্ব করা হয়নি।
ডিআরইউ সভাপতি আবু সালেহ আকনের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেলের সঞ্চালনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো. রিয়াজুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানে ডিআরইউর সদস্যদের দীর্ঘদিনের প্রাতিষ্ঠানিক সংকট নিরসনে সংগঠনটির জন্য নতুন ভবন নির্মাণে দ্রুত জায়গা বরাদ্দের দাবি জানান সভাপতি আবু সালেহ আকন। তিনি বলেন, নতুন বহুতল ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা থাকলেও জায়গা বরাদ্দ না পাওয়ায় প্রকল্পটির কাজ শুরু করা সম্ভব হচ্ছে না। এ বিষয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল বলেন, গণমাধ্যমকে রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ বলা হলেও সংবিধানে এ খাতের প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি নেই। পাশাপাশি অন্যান্য পেশাজীবীদের মতো সাংবাদিকদের কল্যাণে দীর্ঘমেয়াদি রাষ্ট্রীয় পরিকল্পনাও গড়ে ওঠেনি।
তিনি আরও বলেন, দেশীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের অংশ হিসেবে প্রতিবছর ডিআরইউ ফল উৎসবের আয়োজন করে। এর মূল উদ্দেশ্য নতুন প্রজন্মের কাছে দেশীয় ফলের পরিচিতি ও গুরুত্ব তুলে ধরা।
এ ছাড়া অনুষ্ঠানে ডিআরইউর কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য, সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এবং সংগঠনের সাধারণ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
