ভাগ্নের ঝুলন্ত মরদেহ দেখে মামার মৃত্যু
রাজীব চৌধুরী রাজু, নীলফামারী প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৬, ০৮:২২ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় বিয়ের মাত্র একদিন পর এক মুয়াজ্জিনের ঝুলন্ত মরদেহ মসজিদ থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় শোকের মধ্যে মরদেহ দেখে অসুস্থ হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন তার বৃদ্ধ মামা। ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) ভোরে উপজেলার ঝুনাগাছ চাপানী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাকড়া চৌপতি মুনাগাছা বায়তুন নূর জামে মসজিদ থেকে মো. আব্দুল মালেক (২৫) নামে ওই মুয়াজ্জিনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ডিমলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শওকত আলী সরকার।
নিহত আব্দুল মালেক মুনাগাছা গ্রামের মৃত নুরুল হকের ছেলে। তিন ভাইয়ের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার ছোট। বাবা-মা দুজনই আগে মারা গেছেন। তিনি চলমান আলিম পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছিলেন এবং গত পাঁচ বছর ধরে ওই মসজিদে মুয়াজ্জিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। মঙ্গলবার একই গ্রামের জিকরুল হোসেনের মেয়ের সঙ্গে তার বিয়ের কাবিন সম্পন্ন হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. জলিল উদ্দিন জানান, রাতে বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা নিয়ে এলাকার মানুষ ব্যস্ত ছিলেন। এর মধ্যেই রাত দেড়টার দিকে মসজিদের ভেতরে মালেকের ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান স্থানীয়রা। পরে খবর পেয়ে রাত ৩টার দিকে পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে।
আরেক বাসিন্দা মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, বুধবার এশার নামাজের আগে মালেক আজান দেন এবং পরে সবার সঙ্গে নামাজ আদায় করেন। এরপর রাতে কখন কীভাবে তার মৃত্যু হয়েছে, সে বিষয়ে কেউ নিশ্চিতভাবে কিছু বলতে পারছেন না।
ঝুনাগাছ চাপানী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান একরামুল হক চৌধুরী বলেন, আব্দুল মালেক ধর্মপ্রাণ ও ভদ্র স্বভাবের মানুষ ছিলেন। এলাকার সবার সঙ্গে তার সুসম্পর্ক ছিল। ভাগ্নের মরদেহ দেখে তার মামা আহিদুল ইসলাম (৬৫) অসুস্থ হয়ে পড়েন। হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনিও মারা যান।
তিনি আরও বলেন, বিয়ের মাত্র একদিন পর এমন মর্মান্তিক ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। একই সঙ্গে ভাগ্নের মৃত্যুর শোক সহ্য করতে না পেরে মামার মৃত্যুর ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
তবে মুয়াজ্জিনের মৃত্যুকে রহস্যজনক বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। চেয়ারম্যানের ভাষ্য, মরদেহে গলায় ফাঁসের চিহ্ন থাকলেও তার পা মেঝের সঙ্গে প্রায় স্পর্শ করা অবস্থায় ছিল। দূর থেকে দেখে মনে হচ্ছিল তিনি দাঁড়িয়ে আছেন।
নিহতের বড় ভাই মো. রাজ্জাকুল ইসলাম দাবি করেন, বিয়ের পরদিনই তার ভাইয়ের এমন মৃত্যু স্বাভাবিক নয়। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন এবং দায়ীদের বিচারের দাবি জানান তিনি।
ডিমলা থানার ওসি শওকত আলী সরকার জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নীলফামারী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত শুরু হয়েছে। তদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
