৪৫ বছর কোথায় ছিলেন জিয়াউর রহমানের হত্যাকারী ?
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৬, ০৭:১২ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের অন্যতম অভিযুক্ত মেজর (অব.) মো. মোজাফফর হোসেনকে ৪৫ বছর পর রাজধানী থেকে আটক করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। দীর্ঘদিন পলাতক থাকা এই সাবেক সেনা কর্মকর্তা হত্যাকাণ্ডের পর ভারতে আত্মগোপনে ছিলেন বলে জানিয়েছে তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্র।
বুধবার (১৫ জুলাই) মধ্যরাতে রাজধানীর ডিওএইচএস এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। গণমাধ্যমকে তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম।
তদন্ত-সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে সংঘটিত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশ নেওয়া সেনা কর্মকর্তাদের একজন ছিলেন মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেন। বিভিন্ন ঐতিহাসিক বিবরণ ও মামলার নথিতে উল্লেখ রয়েছে, তিনিই প্রথম জিয়াউর রহমানকে শনাক্ত করে তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালান।
আরও পড়ুন: ৪৫ বছর পর জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার আসামি আটক
হত্যাকাণ্ডের পর মেজর মোজাফফর দীর্ঘ সময় আত্মগোপনে চলে যান। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, তিনি ভারতে দীর্ঘ সময় অবস্থান করেন। বিশেষ করে ১৯৯৭ থেকে ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত তিনি সেখানে ছিলেন। পরবর্তী সময়ে ছদ্মনাম ব্যবহার করে সীমান্ত অতিক্রমসহ বিভিন্ন স্থানে অবস্থান পরিবর্তন করেন বলেও তদন্তে উঠে এসেছে।
ডিবি জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হবে, যেখানে তার বিরুদ্ধে কোর্ট মার্শালের কার্যক্রম সম্পন্ন হবে।
ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, ১৯৮১ সালের ৩০ মে ভোরে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে একদল বিদ্রোহী সেনা কর্মকর্তা হামলা চালিয়ে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে হত্যা করেন। এ ঘটনায় মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেন ও ক্যাপ্টেন মোসলেহ উদ্দিনের সরাসরি সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে।
আরও পড়ুন: শেখ হাসিনা ফিরলে গ্রেপ্তার করে রায় কার্যকর করা হবে
মামলার বিবরণে বলা হয়, হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হওয়ার পর মেজর মোজাফফর চট্টগ্রাম সেনানিবাসের ২৪ পদাতিক ডিভিশনের তৎকালীন জিওসি মেজর জেনারেল আবুল মঞ্জুরকে টেলিফোনে রাষ্ট্রপতির নিহত হওয়ার খবর জানান।
পরে সেনাবাহিনীর অভিযানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে মেজর জেনারেল আবুল মঞ্জুরসহ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে মঞ্জুর নিহত হন। ক্যাপ্টেন মোসলেহ উদ্দিন গ্রেপ্তার হয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত হলেও মেজর মোজাফফর হোসেন ও মেজর এস. এম. খালেদ পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।
প্রায় সাড়ে চার দশক আত্মগোপনে থাকার পর অবশেষে রাজধানী থেকে মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেনকে আটক করায় আলোচিত এ হত্যাকাণ্ডের বিচারিক প্রক্রিয়ায় নতুন অগ্রগতি এসেছে।
