বিশ্বকাপ উন্মাদনায় কানায় কানায় পূর্ণ মুহসীন হল মাঠ
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ জুলাই ২০২৬, ০২:৫৫ এএম
ছবি : সংগৃহীত
বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনাল ঘিরে উৎসবের আমেজে মেতে ওঠে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। আর্জেন্টিনা ও স্পেনের মধ্যকার বহুল প্রতীক্ষিত ম্যাচ উপভোগ করতে রোববার (১৯ জুলাই) দিবাগত রাতে হাজারো শিক্ষার্থী ও ফুটবলপ্রেমী জড়ো হন হাজী মুহাম্মদ মুহসীন হল মাঠে। খেলা শুরুর আগেই দর্শকে পরিপূর্ণ হয়ে যায় পুরো মাঠ। একসময় দাঁড়ানোর জায়গাও ছিল না।
সরেজমিনে দেখা যায়, রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন আবাসিক হল ও আশপাশের এলাকা থেকে শিক্ষার্থীরা দলে দলে মাঠে আসতে থাকেন। বড় পর্দায় ফাইনাল উপভোগ করতে মাঠের প্রতিটি অংশে অবস্থান নেন দর্শকরা। কারও গায়ে আর্জেন্টিনার আকাশি-সাদা জার্সি, আবার কেউ স্পেনের লাল জার্সি পরে প্রিয় দলের প্রতি সমর্থন জানান।
ম্যাচ শুরু হতেই করতালি, স্লোগান আর উচ্ছ্বাসে মুখর হয়ে ওঠে পুরো মাঠ। দুই দলের প্রতিটি আক্রমণ, দারুণ পাস কিংবা গোলের সুযোগে সমর্থকদের উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো। প্রথমার্ধে উভয় দলই কয়েকটি ভালো সুযোগ তৈরি করলেও কোনো দল গোল করতে পারেনি। ফলে গোলশূন্য অবস্থায় বিরতিতে যায় দুই দল।
খেলা দেখতে আসা এক শিক্ষার্থী বলেন, "বিশ্বকাপের মতো বড় ম্যাচ হাজারো মানুষের সঙ্গে একসঙ্গে দেখার আনন্দই আলাদা। মাঠের পরিবেশ দেখে মনে হচ্ছে, যেন স্টেডিয়ামে বসেই খেলা দেখছি।"
আরেক শিক্ষার্থী বলেন, "খেলা শুরুর অনেক আগেই মাঠে এসেছি। পরে এসে অনেকেই বসার জায়গা পাননি। এত মানুষের উপস্থিতি হবে, তা ভাবিনি।"
স্পেনের এক সমর্থক বলেন, "প্রথমার্ধে গোল না হলেও ম্যাচের উত্তেজনার কোনো কমতি ছিল না। দুই দলই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলছে। এখানে ফুটবলপ্রেমীদের উন্মাদনাও দারুণ।"
আর্জেন্টিনার এক সমর্থক বলেন, "বন্ধুদের সঙ্গে বড় পর্দায় বিশ্বকাপের ফাইনাল দেখার অনুভূতি সত্যিই অন্যরকম। এখন দ্বিতীয়ার্ধে গোলের অপেক্ষায় আছি।"
মাঠজুড়ে ছিল উৎসবের আবহ। অনেকের হাতে ছিল প্রিয় দলের পতাকা ও ব্যানার। সমর্থকদের স্লোগান, করতালি ও উচ্ছ্বাসে পুরো এলাকা প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
বিশ্বকাপের এই হাইভোল্টেজ ম্যাচকে ঘিরে হাজী মুহাম্মদ মুহসীন হল মাঠ যেন রূপ নেয় এক বিশাল ফ্যান জোনে। প্রথমার্ধ গোলশূন্য শেষ হলেও প্রিয় দলের জয়ের আশায় উচ্ছ্বসিত ছিলেন হাজারো ফুটবলপ্রেমী। পুরো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এ রাতে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ছিল বিশ্বকাপের ফাইনাল।
