স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
মোজাফফরের বিচার সেনা আইনে হবে
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ জুলাই ২০২৬, ০৪:৫৯ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেনের বিচার সেনা আইনের আওতায় জেনারেল কোর্ট মার্শালের মাধ্যমে সম্পন্ন হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
সোমবার (২০ জুলাই) রাজধানীর পিলখানায় বিজিবি সদরদপ্তর পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার একই অপরাধে একজন ব্যক্তির দুই ভিন্ন আইনে বিচার হতে পারে না। এ কারণেই গ্রেপ্তারের পর মোজাফফর হোসেনকে সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং তার বিচার সেনা আইন অনুযায়ী জেনারেল কোর্ট মার্শালে অনুষ্ঠিত হবে।
তিনি জানান, জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার অন্যান্য আসামিদের বিচারও সামরিক আদালতে হয়েছে। তবে দীর্ঘদিন পলাতক থাকায় মোজাফফর হোসেনের বিচার সম্পন্ন হয়নি। সম্প্রতি তাকে গ্রেপ্তারের পর আইনি প্রক্রিয়ায় সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, একই অপরাধে একজন ব্যক্তিকে দুই আইনে বিচারের সুযোগ নেই। তবে যদি কোনো বেসামরিক আদালতের এখতিয়ারভুক্ত বিষয় থাকে, তা পরবর্তী সময়ে আইন অনুযায়ী পর্যালোচনা করা হবে। আগের রায়ে মোজাফফর হোসেনকে নিয়ে কোনো পর্যবেক্ষণ বা সিদ্ধান্ত থাকলে জেনারেল কোর্ট মার্শাল তা বিবেচনায় নেবে।
আরও পড়ুন: জিয়াউল আহসানের বাড়িতে দুদকের অভিযান
মিয়ানমার সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আরাকান আর্মি, মিয়ানমারের সেনাবাহিনী এবং অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীর সংঘাতের প্রভাব বাংলাদেশ সীমান্তেও পড়ছে। মাদক পাচার, গোলাগুলির স্পিলওভার এবং সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারে ১০৯ কিলোমিটার কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের প্রস্তাব বিবেচনায় রয়েছে।
তিনি বলেন, বিষয়টি এখনও চূড়ান্ত হয়নি। তবে সীমান্ত নিরাপত্তার স্বার্থে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ভারত থেকে কথিত ‘পুশইন’ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ কাউকে অবৈধভাবে দেশে প্রবেশ করতে দেয়নি। বিজিবি ও স্থানীয় জনগণের সহযোগিতায় এ ধরনের সব প্রচেষ্টা প্রতিহত করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: রিজেন্টের সেই সাহেদ ফের গ্রেপ্তার
তিনি বলেন, যদি কেউ প্রকৃত বাংলাদেশি নাগরিক হন, তাহলে ভারত সরকারকে কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় তাদের তালিকা দিতে হবে। জাতীয়তা যাচাইয়ের পর আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিজিবি সদরদপ্তর পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সীমান্ত পরিস্থিতি, জনবল, প্রযুক্তি, অবকাঠামো, যানবাহন ও ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
তিনি জানান, সীমান্ত নিরাপত্তা আরও জোরদারে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি, জনবল বৃদ্ধি, আধুনিক সরঞ্জাম ও অস্ত্র সংযোজনসহ একাধিক নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: বেনজীর ইস্যুতে বাংলাদেশের কাছে দুবাইয়ের নতুন চিঠি
মাদক পাচার প্রতিরোধে বিজিবির বিদ্যমান ডগ স্কোয়াডকে আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি বিজিবির হাসপাতালের সক্ষমতা বৃদ্ধি, চিকিৎসক ও নার্স নিয়োগ, প্রশাসনিক অবকাঠামো উন্নয়ন এবং অন্যান্য দীর্ঘদিনের উন্নয়ন প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সঙ্গে সমন্বয় করা হবে।
সাম্প্রতিক বন্যায় বিজিবির ভূমিকার প্রশংসা করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সীমান্ত রক্ষার পাশাপাশি দুর্যোগ মোকাবিলা ও জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডেও বাহিনীটির সক্ষমতা আরও বাড়ানো হবে।
এ ছাড়া সাহসিকতা ও বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বিজিবি সদস্যদের পদকের পাশাপাশি সনদ বা অন্যান্য সম্মাননা দেওয়ার বিষয়টিও সরকার বিবেচনা করছে বলে জানান তিনি।
