বেনজীরকে ফেরত দিতে ৪ বিষয়ে ব্যাখ্যা চাইল দুবাই পুলিশ
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ জুলাই ২০২৬, ১০:৪৮ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
দুর্নীতির একাধিক মামলার আসামি ও পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে নীতিগত সম্মতি দিয়েছে দুবাই পুলিশ। তবে প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে আইনি ও কারিগরি বিষয়ক চারটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের ব্যাখ্যা চেয়ে ইন্টারপোলের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সূত্রে জানা গেছে, প্রায় পাঁচ দিন আগে দুবাই পুলিশের পাঠানো চিঠিটি বাংলাদেশে পৌঁছেছে। বর্তমানে পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের ইন্টারপোল শাখার সহায়তায় দুদক এর জবাব প্রস্তুত করছে।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দুদকের প্রধান কার্যালয়ে সংস্থাটির উপপরিচালক (জনসংযোগ) মো. আকতারুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, দুবাই পুলিশের হাতে বেনজীর আহমেদ গ্রেপ্তার হওয়ার পর বাংলাদেশ সরকার ও দুদকের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় যোগাযোগ করা হয়। এরপর তদন্ত কর্মকর্তা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট সব নথিপত্র পাঠান। সম্প্রতি দুবাই পুলিশ কিছু বিষয়ে অতিরিক্ত ব্যাখ্যা বা ক্লিয়ারেন্স চেয়ে একটি চিঠি পাঠিয়েছে।
এর আগে গত ১৬ জুন বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনতে ইংরেজি ও আরবি ভাষায় প্রস্তুত করা দুটি পৃথক প্রত্যর্পণ প্রস্তাবনা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠায় দুদক।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) আবুধাবিস্থ ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) গত ১২ জুন বাংলাদেশের এনসিবিকে পাঠানো এক চিঠিতে বেনজীর আহমেদের গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে। ওই চিঠিতে জানানো হয়, ইউএইর ‘ফৌজদারি বিষয়ে আন্তর্জাতিক বিচারিক সহযোগিতা সংক্রান্ত’ ফেডারেল আইন নং ৩৯/২০০৬-এর ১১ নম্বর ধারা অনুযায়ী, গ্রেপ্তারের ৩০ দিনের মধ্যে কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ আবেদন পাঠাতে হবে।
আইন অনুযায়ী, প্রত্যর্পণ আবেদনের সঙ্গে আরবি ভাষায় অনূদিত ও যথাযথ কর্তৃপক্ষের স্বাক্ষর-সিলযুক্ত বিভিন্ন নথি সংযুক্ত করতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে অভিযুক্তের পরিচয়, জাতীয়তা, ছবি ও ঠিকানাসহ শনাক্তকরণ তথ্য; অভিযোগ সংশ্লিষ্ট আইন, শাস্তি ও তামাদি বিধান; আন্তর্জাতিক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা; মামলার বিস্তারিত বিবরণ, অভিযোগের প্রকৃতি, অপরাধ সংঘটনের স্থান এবং তদন্ত প্রতিবেদনের অনুলিপি। দণ্ডিত ব্যক্তির ক্ষেত্রে আদালতের রায়, দণ্ডাদেশ ও তা কার্যকর হওয়ার প্রমাণপত্রও সংযুক্ত করার বিধান রয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ১০ এপ্রিল দুর্নীতির দুটি মামলার তদন্তের ভিত্তিতে আদালতের নির্দেশে ইন্টারপোল বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি করে। দুদকের আবেদনের পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ইন্টারপোলে এ নোটিশ জারির প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।
