বন্যায় ১৫ গ্রামের ১৩ গ্রামেই পানি, গবাদি পশু নিয়ে চরম ভোগান্তি
বাঘা (রাজশাহী) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৫৪ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
টানা বৃষ্টি ও নদীর পানি বৃদ্ধিতে রাজশাহীর বাঘা উপজেলার চকরাজাপুর ইউনিয়ন এখন পানির নিচে। ইউনিয়নের ১৫টি গ্রামের মধ্যে আতার পাড়া, দিয়াড়কাদিরপুর, চৌমাদিয়া, কড়ারি নওশারা, নীচ পলাশী, কালিদাস খালীসহ ১৩টি গ্রামের রাস্তাঘাট, বাড়িঘর ও মাঠঘাট তলিয়ে গেছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে হাজারো মানুষ।
ভাঙনের কবলে পড়ে চৌমাদিয়া ও ফতেপুর পলাশী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় অন্যত্র সরিয়ে নেয়া হয়েছে। পানি বাড়তে থাকলে ঝুকির মধ্যে পড়বে আমার পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। উপজেলা থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরে ইউনিয়নটির অবস্থান।
সোমবার সরেজমিনে দেখা গেছে, গ্রামের ভেতরের কাঁচা-পাকা সব রাস্তা হাঁটু থেকে কোমর সমান পানিতে ডুবে আছে। কোথাও নৌকা, কোথাও আবার খালি পায়ে পানি ভেঙে চলাচল করতে হচ্ছে। চারিদিকে পানির কারণে শিক্ষার্থীরা স্কুলে আসতে পারছেনা। উঁচু জায়গা না পেয়ে ঘরের মেঝেতে মাচা করে থাকছেন অনেকেই।

কাজ নাই, খাবার নাই
পানি ঢুকে ফসলের মাঠ নষ্ট হওয়ায় দেখা দিয়েছে গো-খাদ্যের সংকট। কাজ না থাকায় কর্মহীন হয়ে পড়েছে দিনমজুর ও কৃষক পরিবারগুলো।
আতার পাড়া, দিয়াড়কাদিরপুর, চৌমাদিয়া, কড়ারিনওশারা, নীচ পলাশী , কালীদাস খালী গ্রামের কাজল ফকির, মিঞা খা, হালিম খা, মজনু ফকির সহ অনেকেই জানান, চলাফেরা করতে পারছি না। কোন জায়গায় যেতে পারছি না। খাবার খাদ্যটা পাচ্ছি না। আমরা অসহায় কি করি। আমরা দিন মজুরের কাজ করে সংসার চালাই। আপনারা যদি একটু সাহায্য করেন... তাহলে আমাদের পাশে দাঁড়ান।
গবাদি পশু নিয়েও বিপদ
মাঠ ডুবে যাওয়ায় গরু-ছাগলের খাবার নাই। অনেকেই মেঝেতে মাজা করে থাকলেও উঁচু জায়গাতে পশু রেখেছেন। বিশুদ্ধ পানি ও স্যানিটেশনের সংকটও প্রকট। রাজা ব্যাপারি, সোবহান মোল্লা ও বাঁতেন মোল্লা জানান, আমাদের চেয়ে গরু ছাগলের খাদ্য নিয়ে চরম সংকটে পড়েছেন ।
এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত ত্রাণ, বিশুদ্ধ পানি ও শুকনো খাবারের ব্যবস্থা করা হোক। উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদ থেকে এখনও উল্লেখযোগ্য সহায়তা পাননি বলে জানান ভুক্তভোগীরা।
চৌমাদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সোহেল রানা জানান, ভাঙনের কবলে পড়ে মাসখানেক আগে স্কুল সরিয়ে নিয়েছেন। সেখানেও মেঝেতে হাঁটু পানি। শিক্ষার্থীরা স্কুলে আসতে পারছে না। স্কুল বন্ধ ঘোষণা না করাই আমাদের আসতে হচ্ছে।
উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার গোলাম রব্বানী জানান, ভাঙনের কবলে পড়ায় ফতেপুর পলাশী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সরিয়ে নেয়া হয়েছে। আতারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ঝুঁকি মুক্ত। তবে পানি বাড়তে থাকলে ঝুকির মধ্যে পড়বে।
ইউনিয়নটির বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জগলু শিকদার জানান,চক রাজাপুর ইউনিয়নের ১৫ টি গ্রামের মধ্যে ১৩টি গ্রামের মানুষ এখন প্রকৃতির সাথে যুদ্ধ করছে। নদীর পানি না কমা পর্যন্ত তাদের এই দুর্ভোগ চলতেই থাকবে। জরুরি ভিত্তিতে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগ ছাড়া এই সংকট কাটানো সম্ভব না।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার তকী ফয়সাল তালুকদার জানান, আতারপাড়া ১০০ পরিবার কে ১৫ কেজি করে চাল ও নীচ পলাশী গ্ৰামের ৫০ পরিবারকে ২০ কেজি করে চাল দেওয়া হয়েছে। দুই একদিনের মধ্যেই ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামের মানুষকেও সহায়তা দেওয়া হবে।
