জুলাই আন্দোলনে ৭.৬২ মিমি গুলি ব্যবহার নিয়ে যা বললেন তথ্য উপদেষ্টা
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ জুলাই ২০২৬, ১১:৩৯ এএম
ছবি: সংগৃহীত
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে আন্দোলনকারীদের ওপর ৭.৬২ মিলিমিটার গুলি ও স্নাইপার রাইফেল ব্যবহারের অভিযোগ প্রসঙ্গে কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
তিনি বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে কিছু বিভ্রান্তিকর বক্তব্য প্রচার করা হচ্ছে।’
তিনি আরো বলেন, “বাংলাদেশ পুলিশের হাতে দীর্ঘদিন ধরে টাইপ-৫৬ রাইফেল ছিল, যা সাধারণভাবে ‘চাইনিজ রাইফেল' নামে পরিচিত। এই রাইফেলে ৭.৬২ মিলিমিটার গুলি ব্যবহৃত হয়।”
তিনি উল্লেখ করে বলেন, টাইপ-৫৬ মূলত একটি সামরিক মানের অস্ত্র এবং এর কার্যকর মারণসীমা অনেক বেশি, যা লক্ষ্যভ্রষ্ট হলেও কয়েকশ মিটার দূরের মানুষকে হত্যা করতে সক্ষম। তাই সাধারণ পুলিশের হাতে এই অস্ত্র দেওয়া অনুচিত ছিল।’
পুলিশ ও বিজিবির এই অস্ত্র ব্যবহারের ছবি ও ভিডিও থাকার কথা জানিয়ে উপদেষ্টা মন্তব্য করে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘৭.৬২ মিমি গুলি কেবল অজ্ঞাত স্নাইপাররা ব্যবহার করেছে—এমন প্রচারণা সত্য নয়। তবে সুনির্দিষ্টভাবে কার গুলিতে কে মারা গেছেন, তা বের করতে নিরপেক্ষ তদন্ত দরকার।’
গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে সরকারের সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
অন্য এক প্রশ্নের জবাবে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি দায়িত্বে থাকা অবস্থায় তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি কার্যক্রম শুরু বা চালিয়ে নেওয়া যায় না। তবে দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়ার পর তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নিয়ে আইনগত প্রক্রিয়া গ্রহণ করা যাবে।’
তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রপতির দায়মুক্তি নিয়ে অনেকের মধ্যে বিভ্রান্তি রয়েছে। রাষ্ট্রপতির পদে থাকা অবস্থায় তিনি বিশেষ সাংবিধানিক সুরক্ষা পান। কিন্তু পদ থেকে চলে যাওয়ার পর দায়িত্ব গ্রহণের আগে বা পরে সংঘটিত কোনো অনিয়ম ও অসদাচরণের অভিযোগ আইনগতভাবে বিবেচনার সুযোগ রয়েছে।’
এই বক্তব্য কোনো নির্দিষ্ট রাষ্ট্রপতিকে উদ্দেশ্য করে নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এটি যে কোনো রাষ্ট্রপতির ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য একটি সাধারণ সাংবিধানিক ব্যাখ্যা।’
রাষ্ট্রপতিকে ঘিরে ট্রায়াল কোর্ট, হাইকোর্ট ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিভিন্ন আবেদন বা অভিযোগের প্রসঙ্গ উঠলে তিনি বলেন, ‘আদালত স্বাধীনভাবে কাজ করছে। কোনো মামলা আদালতে গেলে তার বিচারিক প্রক্রিয়া কীভাবে চলবে, সেটি আদালতই নির্ধারণ করবেন।’
তিনি বলেন, ‘সরকার কোনো কোনো মামলায় পক্ষ হয়। আবার অনেক মামলা সরকারের বিরুদ্ধেও হয়। উচ্চ আদালতে অসংখ্য রিটে সরকার পরাজিত হয়। সুতরাং সবকিছু সরকার নিয়ন্ত্রণ করছে এভাবে দেখা ঠিক হবে না।’
একটি আন্তর্জাতিক আয়োজনে বাংলাদেশকে পর্যবেক্ষক হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো এবং সেখানে প্রধানমন্ত্রী অংশ নেবেন কি না—এমন প্রশ্নে উপদেষ্টা বলেন, ‘এই বিষয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।’
জ্বালানি নিরাপত্তাকে শিল্পায়নের সবচেয়ে বড় পূর্বশর্ত উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বর্তমানে বিদ্যমান শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোতেই প্রয়োজনীয় গ্যাস সরবরাহ করা যাচ্ছে না। এই কারণে আপাতত নতুন শিল্পে গ্যাস সংযোগ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘দীর্ঘদিন দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এর পরিবর্তে আমদানিনির্ভর তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজির দিকে ঝোঁক তৈরি করা হয়েছিল।’
বর্তমান সরকার স্থলভাগে গ্যাস অনুসন্ধান, ভোলার গ্যাস জাতীয় গ্রিডে আনা, এলএনজি আমদানি বৃদ্ধি এবং সমুদ্রের গ্যাস অনুসন্ধানের উদ্যোগ নিচ্ছে বলে জানান তিনি। তবে সমুদ্রের গ্যাস অনুসন্ধানের দরপত্র দ্রুত সম্পন্ন হলেও সেখান থেকে গ্যাস উত্তোলনে কয়েক বছর সময় লাগবে। ফলে দীর্ঘদিনের সংকট রাতারাতি সমাধান হবে না।
ব্রিকসের সদস্য হওয়ার জন্য বাংলাদেশের উদ্যোগ অব্যাহত আছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘এই বিষয়ে এখনো সুনির্দিষ্ট কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থের পক্ষে যায়—এমন সিদ্ধান্তই সরকার নেবে।' দেশের বাজারে থাকা ৩৪টি টুথপেস্টের নমুনা পরীক্ষা করে ২৬টিতে মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে—এমন একটি ল্যাবটেস্টের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, 'বিষয়টি সরকারের নজরে এসেছে। তবে মাইক্রোপ্লাস্টিক এখন শুধু টুথপেস্টের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। বিভিন্ন উৎস থেকে এটি খাদ্য, পানি এবং পরিবেশে ছড়িয়ে পড়ছে। ফলে একটি পণ্য বা একটি খাতের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলেই সমস্যার সমাধান হবে না। এজন্য সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয় ও সংস্থার সমন্বিত পদক্ষেপ প্রয়োজন।'
২০১৮ সালের নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করা কয়েক জন জেলা প্রশাসক ও যুগ্মসচিবকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে উপদেষ্টা বলেন, ‘সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে বলেনি যে তাদের নির্বাচনি অপরাধের কারণে অবসরে পাঠানো হয়েছে। সরকারি চাকরির বিধান অনুযায়ী, চাকরির বয়স ২৫ বছর পূর্ণ হলে সরকার যে কোনো কর্মকর্তাকে কারণ দর্শানো ছাড়াই অবসরে পাঠাতে পারে।'
একজন মডেলের দায়ের করা অভিযোগ এবং সেই অভিযোগে কয়েক জনের নাম প্রকাশ্যে বলা প্রসঙ্গে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, 'অভিযোগটি তদন্ত করা হবে। তদন্ত শেষে চার্জশিট অথবা চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়া হতে পারে। প্রমাণ ছাড়া প্রকাশ্যে কারো নাম বলা উচিত নয়। কারণ এতে ঐ ব্যক্তিকে সামাজিক ও প্রকাশ্য অপমানের মুখোমুখি হতে হয়।' জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মরণে নির্মিত জাদুঘরের উদ্বোধন নিয়ে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, আগামী ৫ আগস্ট এটি উদ্বোধন করা হবে।
