সৌদিতে সেনা পাঠাচ্ছে ফ্রান্স
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:১৪ পিএম
ছবি: ভোরের কাগজ গ্রাফিক্স
হুতি বিদ্রোহীদের একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা থেকে সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি কেন্দ্র ইয়ানবু বন্দর সুরক্ষায় দেশটিতে সেনাসদস্য ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। সৌদি আরবের নিরাপত্তা জোরদার করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) ফ্রান্সের টেলিভিশন চ্যানেল টিএফ১ ও ফ্রান্স২-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এ সিদ্ধান্তের কথা জানান।
লোহিত সাগরের তীরবর্তী ইয়ানবু বন্দরটি আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ও পরিবহন ব্যবস্থায় কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত হয়।
সম্প্রতি ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে বন্দরটি। হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন ব্যাহত হওয়ার পরিস্থিতিতে সৌদি আরবের তেল রপ্তানির বিকল্প প্রধান পথ হিসেবেও ইয়ানবু বন্দরটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
ম্যাক্রোঁ বলেন, ‘আমরা সেখানে সামরিক সরঞ্জাম পাঠাতে যাচ্ছি—অর্থাৎ এই গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাটি রক্ষার জন্য সেনা, রাডার ব্যবস্থা এবং প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাঠানো হবে। কোনো সংঘাতে জড়ানোর জন্য নয়, বরং এই স্থাপনাটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই আমরা এটি পাঠাচ্ছি।’
আরো পড়ুন: টাঙ্গানিকা হ্রদে নৌকাডুবি, নিহত ৪১
আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনায় তিনি আরো বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেল রপ্তানি নিষিদ্ধ করার যেকোনো পদক্ষেপ বিশ্ব অর্থনীতি ও স্বয়ং মার্কিন অর্থনীতির জন্য 'বিপর্যয়কর' হবে। যদিও হোয়াইট হাউস এমন কোনো পরিকল্পনা বিবেচনার কথা অস্বীকার করেছে। দেশে জ্বালানির উচ্চমূল্যের কারণে চাপের মুখে থাকা ম্যাক্রোঁ ফরাসি নাগরিকদের আশ্বস্ত করে বলেন, আসন্ন শীতের জন্য ফ্রান্সে পর্যাপ্ত গ্যাস ও তেলের মজুত রয়েছে এবং সরবরাহ সচল রাখতে সরকার সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।’
সাক্ষাৎকারে ফরাসি ভূখণ্ডে রাশিয়ার সম্ভাব্য হামলার বিষয়েও সতর্ক করেন ম্যাক্রোঁ। তিনি স্প্যানিশ সংবাদপত্র 'এল মুন্দো'র একটি প্রতিবেদন নাকচ করে দেন, যেখানে বলা হয়েছিল যে ভূমধ্যসাগর থেকে সম্ভাব্য ড্রোন হামলার বিষয়ে ইউরোপীয় দেশগুলোকে সতর্ক করেছে মার্কিন সিআইএ।
ফরাসি প্রেসিডেন্ট বলেন, 'আমি এটি অস্বীকার করছি। সিআইএ ফরাসি গোয়েন্দা সংস্থাকে এমন কোনো তথ্য দেয়নি।'
তিনি বলেন, ইউরোপের দেশগুলোর বিরুদ্ধে রাশিয়া একের পর এক শত্রুতামূলক ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। ব্যর্থ লিপজিগ হামলার মতো আক্রমণের শিকার হতে পারে ফ্রান্সও। জার্মানি জানিয়েছে, আগস্টে লিপজিগ বিমানবন্দরে ড্রোন হামলার যে চেষ্টা হয়েছিল, এর জন্য রাশিয়াই দায়ী।
রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান হুমকি নিয়ে গত সপ্তাহে ম্যাক্রোঁ এলিসি প্রাসাদে ফ্রান্সের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রধানদের সঙ্গে বৈঠক করেন। পরে তিনি বলেন, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগুলোকে ড্রোন ও সাইবার হামলা থেকে সুরক্ষায় একটি পরিকল্পনা তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
আরো পড়ুন: কমল জ্বালানি তেলের দাম
ম্যাক্রোঁ বলেন, ইউরোপকে ভয় দেখানো এবং ইউক্রেনকে সমর্থনের ক্ষেত্রে ইউরোপীয় দেশগুলোর দৃঢ়তা ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা করছে মস্কো।
তবে ইউরোপে রাশিয়ার 'হাইব্রিড হামলা' নিয়ে ম্যাখোঁর অবস্থান এ সপ্তাহে কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়ে। কারণ, ফ্রান্সের উদ্যোগে রুশ-উজবেক ধাতু ব্যবসায়ী আলিশের উসমানভকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিষেধাজ্ঞার আওতা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এ ক্ষেত্রে জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়টি কারণ হিসেবে দেখিয়েছে ফ্রান্স। এর পরিপ্রেক্ষিতে গুপ্তচরবৃত্তির দায়ে কারাগারে থাকা এক ফরাসি নাগরিককে ক্ষমা করে দেয় আজারবাইজান।
রাশিয়া অবশ্য ইউরোপের দেশগুলোর এসব অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে। মস্কোর ভাষ্য, এসব অভিযোগ রাশিয়াবিরোধী উন্মাদনার ফল।
সূত্র: রয়টার্স
