সরকারি কর্মচারীরা সামাজিক মাধ্যমে যা করতে পারবেন, যা পারবেন না
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৩ আগস্ট ২০২৬, ০৭:২৪ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
সরকারি চাকরিজীবীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছে সরকার। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ‘সরকারি প্রতিষ্ঠানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার সংক্রান্ত নির্দেশিকা, ২০১৯ (পরিমার্জিত সংস্করণ)’ অনুযায়ী, সরকারি কর্মচারীরা ব্যক্তিগতভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করতে পারবেন।
তবে এমন কোনো কার্যক্রমে যুক্ত হওয়া যাবে না, যা রাষ্ট্র, সরকার, সংবিধান, বিচার বিভাগ, সরকারি প্রতিষ্ঠান কিংবা সরকারি চাকরির শৃঙ্খলা, নিরপেক্ষতা ও ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে।
নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, ফেসবুক, এক্স (সাবেক টুইটার), ইউটিউব, ইনস্টাগ্রাম, ব্লগসহ যেকোনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাষ্ট্রবিরোধী, সরকারবিরোধী, সাম্প্রদায়িক, বিদ্বেষমূলক, উসকানিমূলক, অশালীন বা বিভ্রান্তিকর কোনো কনটেন্ট প্রকাশ বা শেয়ার করা যাবে না। একই সঙ্গে এ ধরনের পোস্টে সমর্থনসূচক প্রতিক্রিয়া জানানো বা প্রচারেও অংশ নেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।
রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা রক্ষার বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে নির্দেশিকায়। রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, কৌশলগত পরিকল্পনা, সরকারি নথি, দাপ্তরিক তথ্য, অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত, তদন্ত-সংক্রান্ত তথ্য কিংবা কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া কোনো সরকারি তথ্য সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
এ ছাড়া বিচারাধীন কোনো মামলার বিষয়ে এমন মন্তব্য করা যাবে না, যা বিচারিক প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে পারে। ধর্ম, বর্ণ, জাতি, লিঙ্গ বা সম্প্রদায় নিয়ে বিদ্বেষ ছড়ানো, গুজব, অপপ্রচার কিংবা ভুয়া তথ্য প্রচার থেকেও বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রাজনৈতিক নিরপেক্ষতার বিষয়েও নির্দেশিকায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সরকারি কর্মচারীরা এমন কোনো রাজনৈতিক প্রচারণা, বক্তব্য বা কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে পারবেন না, যা তাদের নিরপেক্ষ অবস্থানকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। ব্যক্তিগত মতামত প্রকাশের ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকতে হবে, যাতে সেটি সরকারের আনুষ্ঠানিক অবস্থান হিসেবে প্রতীয়মান না হয়।
এ ছাড়া কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন বা মানহানিকর অভিযোগ প্রকাশ, অনুমতি ছাড়া অন্যের ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ, কপিরাইট লঙ্ঘন, ভুয়া পরিচয় ব্যবহার কিংবা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোও নির্দেশিকার পরিপন্থী বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, সরকারি প্রতিষ্ঠানের অনুমোদিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে সরকারি সেবা, উন্নয়ন কার্যক্রম, জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট তথ্য, দুর্যোগকালীন সতর্কতা, জরুরি ঘোষণা, নাগরিকসেবা এবং জনসচেতনতামূলক তথ্য প্রচারে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। এজন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নিয়োগ, তথ্য যাচাই করে প্রকাশ এবং নিয়মিত তদারকির নির্দেশনাও রয়েছে।
নির্দেশিকায় আরও বলা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের সময় সরকারি কর্মচারীদের সরকারি চাকরির আচরণবিধি, গোপনীয়তা, শৃঙ্খলা ও পেশাগত দায়বদ্ধতা মেনে চলতে হবে। এসব বিধান লঙ্ঘন করলে সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা এবং প্রচলিত অন্যান্য আইনের আওতায় বিভাগীয় বা আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
এ ছাড়া সরকারি প্রতিষ্ঠানের অনুমোদিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট নিয়মিত হালনাগাদ রাখা, নাগরিকদের প্রশ্ন ও অভিযোগের দ্রুত জবাব দেওয়া, প্রকাশিত তথ্যের যথার্থতা নিশ্চিত করা, বিভ্রান্তিকর তথ্য দ্রুত সংশোধন এবং অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
