×

জাতীয়

শহীদদের আত্মত্যাগে গড়ে ওঠা জাতীয় ঐক্য রক্ষা করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ০৪ আগস্ট ২০২৬, ০৭:৫৯ পিএম

শহীদদের আত্মত্যাগে গড়ে ওঠা জাতীয় ঐক্য রক্ষা করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

ছবি : সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থান ছিল দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান এবং জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার এক ঐতিহাসিক বিজয়।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) আগামীকাল (৫ আগস্ট) ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, শহীদদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠা জাতীয় ঐক্য যেকোনো মূল্যে রক্ষা করতে হবে। পাশাপাশি বাংলাদেশে আর কখনো স্বৈরাচার, ফ্যাসিবাদ, চরমপন্থা কিংবা উগ্রবাদের উত্থান হতে দেওয়া যাবে না।

মঙ্গলবার দেওয়া বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতাপ্রিয় ও গণতন্ত্রকামী মানুষের জন্য ৫ আগস্ট আনন্দ, বিজয় এবং গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার দিন। ২০২৪ সালের এই দিনে বীর ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের মুখে দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় ধরে ক্ষমতায় থাকা ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটে।

তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থানের মুখে তৎকালীন সরকার দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয় এবং বাংলাদেশ ফ্যাসিবাদমুক্ত হয়। বীর ছাত্র-জনতার রক্তস্নাত এই দিনটিকে জাতীয়ভাবে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ হিসেবে পালন করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে বিএনপিসহ ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক দল এবং ভিন্নমতের মানুষ ব্যাপক নির্যাতন-নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। অসংখ্য মানুষ গুম, খুন, অপহরণ, হামলা, মামলা ও নির্যাতনের মুখোমুখি হয়েছেন। আন্দোলনের নেতৃত্ব দিতে গিয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়াকেও দীর্ঘ সময় কারাভোগ করতে হয়েছে।

আরও পড়ুন: ৫ আগস্ট হাসিনার বক্তব্য ইস্যুতে যা বললো ভারত

তারেক রহমান বলেন, গণতন্ত্রকামী মানুষের কণ্ঠ রোধ করতে গোপন বন্দিশালা বা ‘আয়নাঘর’ গড়ে তোলা হয়েছিল। সেখানে বহু মানুষকে মাসের পর মাস, এমনকি বছরের পর বছর আটক রাখা হয়। অনেকেই নিখোঁজ হন। বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য ইলিয়াস আলী ও কমিশনার চৌধুরী আলমসহ অনেক নেতাকর্মীর এখনো কোনো খোঁজ মেলেনি।

তিনি আরও বলেন, বিচার বিভাগ, নির্বাচন কমিশনসহ বিভিন্ন সাংবিধানিক ও বিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানকে অকার্যকর করে জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। নির্বাচনকে প্রহসনে পরিণত করা হয় এবং রাজনীতি, অর্থনীতি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পাশাপাশি ব্যাংকিং খাতে অনিয়ম, দুর্নীতি, লুটপাট ও অর্থপাচারকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া হয়েছিল।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে দেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষ-ে ছাত্র-জনতা, কৃষক, শ্রমিক, রিকশাচালক, মুটে-মজুর, পোশাক শ্রমিক, পরিবহন শ্রমিক, সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবী, সংস্কৃতিকর্মী, নারী ও শিশুসহ সর্বস্তরের মানুষ রাজপথে নেমে এসেছিলেন।

তিনি অভিযোগ করেন, আন্দোলন দমনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গুলি চালায় এবং হেলিকপ্টার থেকেও গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। এতে মায়ের কোলে থাকা শিশুসহ বহু মানুষ প্রাণ হারান।

তারেক রহমান বলেন, রংপুরের শহীদ আবু সাঈদ, চট্টগ্রামের শহীদ ওয়াসিম আকরাম এবং ঢাকার শহীদ মুগ্ধসহ অসংখ্য সাহসী তরুণ গণতন্ত্রকামী মানুষের অনুপ্রেরণায় পরিণত হন। শুধু জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানেই হাজারো মানুষ শহীদ হন এবং অন্তত ৩০ হাজার মানুষ আহত হন। শত শত মানুষ স্থায়ীভাবে পঙ্গুত্ব বরণ করেন এবং অনেকে দৃষ্টিশক্তি হারান।

তিনি বলেন, হাজারো মানুষের আত্মত্যাগ বৃথা যায়নি। গণআন্দোলনের মুখে ফ্যাসিবাদী শাসনের পতন ঘটে এবং রাষ্ট্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরাও দায়িত্ব ছেড়ে চলে যান। তার ভাষায়, ৫ আগস্ট বাংলাদেশের ইতিহাসে এক নজিরবিহীন ঘটনা হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

বাণীতে প্রধানমন্ত্রী ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে স্বাধীনতা রক্ষা, স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন এবং গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার সংগ্রামে আত্মোৎসর্গকারী সব শহীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। তিনি বলেন, শহীদদের আত্মত্যাগের ঋণ শোধ করতে হলে জনগণের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করে সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক সুবিচার এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধভিত্তিক রাষ্ট্র গড়ে তুলতে হবে।

তিনি আরও বলেন, হাজারো শহীদের রক্তে অর্জিত জাতীয় ঐক্য অক্ষুণ্ন রাখা সবার দায়িত্ব। গণতন্ত্রে মতপার্থক্য থাকবে, তবে সেই ভিন্নমত যেন বিভেদ বা শত্রুতায় পরিণত না হয়, সে বিষয়ে সব রাজনৈতিক দল, ব্যক্তি ও গোষ্ঠীকে দায়িত্বশীল থাকতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে আর কখনো স্বৈরাচার, ফ্যাসিবাদ, চরমপন্থা কিংবা উগ্রবাদের প্রতিষ্ঠা হতে দেওয়া হবে না এবং দেশকে কখনোই তাবেদার রাষ্ট্রে পরিণত হতে দেওয়া হবে না। এই মৌলিক প্রশ্নে জাতীয় ঐক্য ভবিষ্যতেও অটুট থাকবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বাণীর শেষাংশে তিনি বলেন, ১৯৭১ ছিল স্বাধীনতা অর্জনের যুদ্ধ, আর ২০২৪ ছিল দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা রক্ষার সংগ্রাম। ১৯৭১ সালের শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের মতোই ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদেরও বাংলাদেশ চিরদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

ছাত্রদল ছাত্রলীগের ভূমিকায় অবতীর্ণ হচ্ছে : সাবেক শিবির সভাপতি

ছাত্রদল ছাত্রলীগের ভূমিকায় অবতীর্ণ হচ্ছে : সাবেক শিবির সভাপতি

‘দণ্ডিত পলাতকদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে শহীদ পরিবারকে অর্থ দেওয়া হবে’

‘দণ্ডিত পলাতকদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে শহীদ পরিবারকে অর্থ দেওয়া হবে’

শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচার নিয়ে সরকারের বার্তা

শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচার নিয়ে সরকারের বার্তা

‘জনগণ পরিবর্তন চেয়েছে বলেই জুলাই আন্দোলন সফল হয়েছে’

প্রধানমন্ত্রী ‘জনগণ পরিবর্তন চেয়েছে বলেই জুলাই আন্দোলন সফল হয়েছে’

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App