শেখ হাসিনার দেশত্যাগ নিয়ে নতুন করে মিলল চাঞ্চল্যকর তথ্য
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৫ আগস্ট ২০২৬, ০৫:২০ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশত্যাগকে ঘিরে নতুন কিছু তথ্য সামনে এসেছে। একটি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ভারতে যাওয়ার সিদ্ধান্তটি তাৎক্ষণিক ছিল না; বরং এর আগে থেকেই প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও যোগাযোগ কার্যক্রম চলছিল। কলরেকর্ড ও বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণে দেশত্যাগের আগে শেখ হাসিনার সঙ্গে মন্ত্রী, ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা এবং সামরিক বাহিনীর কয়েকজন কর্মকর্তার একাধিকবার যোগাযোগের তথ্য পাওয়া গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৪ আগস্ট তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদের সঙ্গে এক ফোনালাপে শেখ হাসিনা রাষ্ট্রপতির কাছে যাওয়ার পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, চলমান পরিস্থিতিতে মানুষ মারা যাওয়ার ঘটনা অব্যাহত রাখার কোনো অর্থ নেই এবং সেনাপ্রধানকে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য ২৪ ঘণ্টা সময় দেওয়া হয়েছে।
কলরেকর্ড বিশ্লেষণে আরও দাবি করা হয়েছে, ৪ আগস্ট রাতের দিকে তৎকালীন মুখ্য সচিব তোফাজ্জল হোসেন মিয়া এবং সামরিক বাহিনীর এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে শেখ হাসিনার দীর্ঘ সময় কথা হয়। এছাড়া দেশত্যাগের আগে ব্যক্তিগত কর্মকর্তা, নিরাপত্তা-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও তার একাধিকবার যোগাযোগ হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। বিমানে ওঠার পরও এক সামরিক কর্মকর্তা এবং মেয়ে সায়মা ওয়াজেদের সঙ্গে তার শেষ দফার যোগাযোগ হয় বলে দাবি করা হয়েছে।
তথ্যপ্রযুক্তিবিদ ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কৌঁসুলি তানভীর হাসান জোহা বলেন, ৩ আগস্ট থেকেই কিছু নম্বর থেকে ভারতের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগের তথ্য পাওয়া গেছে। তার দাবি, কয়েকটি নম্বর শনাক্ত করা গেলেও সংশ্লিষ্ট কথোপকথনের তথ্য ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়নি। বিষয়টি কেন অনুপস্থিত, তা তদন্তের আওতায় আনা হবে বলেও তিনি জানান।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, শেখ হাসিনাকে বহনকারী বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর এমআই-১৭ হেলিকপ্টারের কল সাইন ছিল ‘লিওপার্ড ১০৩’। এটি আগারগাঁও থেকে কুর্মিটোলা বিমানঘাঁটিতে পৌঁছায়, যেখানে আগে থেকেই একটি ‘সি-১৩০ জে হারকিউলিস’ উড়োজাহাজ প্রস্তুত ছিল। ওই উড়োজাহাজের কল সাইন ছিল ‘এজেএক্স ১৪১৩’।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাধারণ নিয়মে উড্ডয়নের আগে বিভিন্ন প্রশাসনিক ও কারিগরি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হলেও সংশ্লিষ্ট উড়োজাহাজ খুব অল্প সময়ের মধ্যে ট্যাক্সি ক্লিয়ারেন্স ও উড্ডয়নের অনুমতি পায়। বিমান বাহিনীর বিশেষ উড্ডয়ন পদ্ধতির আওতায় এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়া দাবি করা হয়েছে, উড্ডয়নের কিছু সময় পর উড়োজাহাজটির ট্রান্সপন্ডার সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছিল, যাতে সেটিকে ট্র্যাক করা না যায়। ভারতের সীমান্তের কাছে পৌঁছানোর পর সেটি আবার চালু করা হয়। একই সঙ্গে স্বাভাবিক রুটের পরিবর্তে ভিন্ন রুট ব্যবহার করে দ্রুত বাংলাদেশের আকাশসীমা ত্যাগ করা হয়েছিল বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে বিশ্লেষকদের মত, রাষ্ট্রীয় উড়োজাহাজে শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের সদস্যদের বিদেশ যাত্রার ক্ষেত্রে কাস্টমস, ইমিগ্রেশন, কূটনৈতিক ছাড়পত্রসহ প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা অনুসরণ করা হয়েছিল কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন।
অন্যদিকে আইনজ্ঞদের মতে, বিষয়টি নিয়ে আদালত বা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক আবেদন করা হলে দেশত্যাগের পুরো প্রক্রিয়া তদন্তের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।
