ভারত কেন শেখ হাসিনাকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দিল, প্রশ্ন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ আগস্ট ২০২৬, ০৮:১০ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বক্তব্য দিয়েছেন মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ২০২৪ সালের আগস্টে গণঅভ্যুত্থানের পর ভারতে আশ্রয় নেওয়ার পর এটিই ছিল তার প্রথম আনুষ্ঠানিক জনসম্মুখে বক্তব্য।
বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে আগে থেকেই উদ্বেগ প্রকাশ করা হলেও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বার্ষিকীর দিন শেখ হাসিনাকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়ায় ক্ষোভ জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
এ ঘটনায় ভারত সরকারের ভূমিকাও প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনাকে ভারত সরকার গণমাধ্যমে কথা বলার সুযোগ কেন দিল- এটাই আমাদের প্রশ্ন।’
শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ভারত তাকে আশ্রয় দিয়েছে। তবে সেই আশ্রয়ে থেকেই তিনি বাংলাদেশকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন এবং তাকে সরাসরি গণমাধ্যমে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।
সালাহউদ্দিন আহমদ প্রশ্ন তোলেন, মানবতাবিরোধী অপরাধে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত একজন ব্যক্তি হিসেবে ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনাকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার সুযোগ ভারত সরকার কেন দিয়েছে।
উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে গত মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) নয়াদিল্লিতে দক্ষিণ এশিয়া ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অডিও কলে যুক্ত হন শেখ হাসিনা। এ সময় তিনি সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নেরও উত্তর দেন।
ওই বক্তব্যের পর বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন পর্যায় থেকে প্রতিক্রিয়া জানানো হয়। এর আগে সংবাদ সম্মেলনের খবর প্রকাশ্যে এলে ভারত সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বেগও জানিয়েছিল ঢাকা।
আওয়ামী লীগের প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘জুলাই আন্দোলনে তারা গণহত্যা চালিয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত তারা দুঃখ প্রকাশ করেনি, ক্ষমাও চায়নি। এমনকি তাদের কোনো অনুশোচনাও নেই।’
তিনি আরও বলেন, ‘বরং তারা ভারতে আশ্রয় নিয়ে বাংলাদেশের মানুষের বিরুদ্ধে তৎপরতা চালাচ্ছে। জনগণ তাদের প্রতি ক্ষুব্ধ।’
আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের বিষয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগের তদন্ত চলছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এ বিষয়ে বিচার হবে এবং সংশ্লিষ্ট আইনে সেই বিধানও যুক্ত করা হয়েছে।
দল হিসেবে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার বিষয়ে বিএনপির অবস্থান ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, ‘বিএনপি নির্বাহী আদেশে কোনো রাজনৈতিক দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার পক্ষে নয়। তবে আওয়ামী লীগের বিষয়ে আদালত যে সিদ্ধান্ত দেবেন, সরকার সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে। তারা তো আদালতের শরণাপন্নও হয়নি।’
তার মতে, আওয়ামী লীগ জুলাই আন্দোলনের সময় গণহত্যা চালিয়েছে এবং দীর্ঘ শাসনামলে বিরোধী দল ও ভিন্নমতের মানুষের ওপর দমন-পীড়ন, গুম ও হত্যার অভিযোগ রয়েছে। এসব কারণে জনগণের আস্থা হারিয়েছে দলটি এবং শেষ পর্যন্ত জনগণই তাদের বিষয়ে চূড়ান্ত বিচার করবে।
তথ্যসূত্র: বিবিসি বাংলা
