গরিবের টেসলায় মধ্যরাতেও ১৮ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা: জ্বালানিমন্ত্রী
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ আগস্ট ২০২৬, ০৫:৩০ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ই-রিকশার ব্যাপক ব্যবহারের কারণে দেশে বিদ্যুৎ ব্যবহারের প্রচলিত ধরণ বদলে গেছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। তার দাবি, রাত ১২টার পরও বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ১৮ হাজার মেগাওয়াটে পৌঁছাচ্ছে। এর বড় একটি অংশ ব্যাটারিচালিত যানবাহন চার্জে ব্যবহৃত হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) আয়োজিত ‘বাংলাদেশের জ্বালানি সংকট মোকাবিলা: তাৎক্ষণিক অগ্রাধিকার এবং টেকসই জ্বালানি ভবিষ্যতের পথ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, এতদিন সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত সময়কে বিদ্যুতের পিক আওয়ার হিসেবে বিবেচনা করা হতো। এরপর সাধারণত চাহিদা কমে আসত। কিন্তু বর্তমানে মধ্যরাতেও বিদ্যুতের চাহিদা অস্বাভাবিকভাবে বেশি থাকছে। এর অন্যতম কারণ হিসেবে ব্যাটারিচালিত যানবাহনকে চিহ্নিত করেন তিনি।
ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, সারাদিন চলার পর বিপুলসংখ্যক ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ই-রিকশা রাতে একসঙ্গে চার্জে বসানো হচ্ছে। এতে রাত ১২টার সময়ও প্রায় ১৮ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা তৈরি হচ্ছে, যা স্বাভাবিক নয়। তিনি এসব যানবাহনকে ‘গরিবের টেসলা’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
আরও পড়ুন: শিক্ষকতা থেকে রাষ্ট্রপতি হওয়ার পথে মির্জা ফখরুল
তিনি আরও বলেন, এসব ব্যাটারিচালিত যানবাহন চার্জ দিতে ব্যবহৃত সংযোগের বড় অংশই অবৈধ বা অননুমোদিত। সরকার এমন সংযোগ শনাক্ত করে বিচ্ছিন্ন করার কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে। তবে অনেক ক্ষেত্রে অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে গিয়ে বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বাধার মুখে পড়ছেন, এমনকি হামলারও শিকার হচ্ছেন।
গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় সরকারের উদ্যোগ
মন্ত্রী বলেন, এলএনজি টার্মিনাল বা এফএসআরইউতে কারিগরি ত্রুটিসহ বিভিন্ন কারণে বর্তমানে গ্যাস ও বিদ্যুৎ খাতে যে সংকট তৈরি হয়েছে, তা মোকাবিলায় সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে। শিল্প খাত ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের চাহিদা পূরণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি জানান, ২০২৯ সালের মধ্যে দেশে আরও এফএসআরইউ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরে গ্যাস অনুসন্ধান কার্যক্রমও বাড়ানো হবে। বর্তমান সংকটকে সাময়িক উল্লেখ করে তিনি বলেন, পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে সরকার যুদ্ধকালীন তৎপরতার মতো কাজ করছে।
আরও পড়ুন: দেশে গণিতচর্চা বাড়াতে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর
মন্ত্রী অভিযোগ করেন, গত ১৭ বছরে দেশে গ্যাস অনুসন্ধানের পরিবর্তে আমদানিনির্ভরতার ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তার মতে, আমদানিনির্ভর ব্যবস্থা গড়ে তোলার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় অবকাঠামোও যথেষ্ট পরিমাণে তৈরি করা হয়নি। দুটি এফএসআরইউর পরিবর্তে চারটি স্থাপন করা গেলে বর্তমান সংকটের মাত্রা কম হতে পারত বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের একটি বড় প্রতিনিধিদল বাংলাদেশে বিনিয়োগের আগ্রহ নিয়ে আসছে। তারা এফএসআরইউ খাতে বিনিয়োগ করতে চায়। এ বিষয়ে দ্রুত তাদের আগ্রহের বিষয়টি লিখিতভাবে জানাতে অনুরোধ করা হয়েছে।
গ্যাসের ঘাটতি ১২০০ থেকে ১৪০০ এমএমসিএফডি
আলোচনা সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির জ্যেষ্ঠ গবেষণা সহযোগী ফখরুদ্দিন আল কবীর।
সিপিডির পক্ষ থেকে জানানো হয়, দেশে বর্তমানে দৈনিক গ্যাসের ঘাটতি প্রায় ১২০০ থেকে ১৪০০ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফডি)। গ্যাসক্ষেত্রগুলো থেকে উৎপাদন কমে যাওয়া এবং আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতার কারণে পর্যাপ্ত এলএনজি আমদানি করা সম্ভব না হওয়ায় সংকট আরও তীব্র হচ্ছে।
গ্যাসের সরবরাহ সংকটে দেশের বেশ কয়েকটি বিদ্যুৎকেন্দ্র আংশিক বা পুরোপুরি বন্ধ রাখতে হচ্ছে বলেও জানায় সিপিডি। প্রতিষ্ঠানটির মতে, জ্বালানি খাতের বর্তমান অচলাবস্থার পেছনে বৈশ্বিক পরিস্থিতি ও ভূরাজনৈতিক নানা কারণও রয়েছে।
আলোচনা সভায় অ্যাপেক্স ফুটওয়্যারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর, জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. ইজাজ হোসেন, বাংলাদেশ ইনডিপেনডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ডেভিড হাসনাতসহ জ্বালানি খাতের বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
