যে কারণে পে-স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে বাড়ছে শঙ্কা
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ আগস্ট ২০২৬, ০৮:২১ এএম
ছবি : সংগৃহীত
সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য প্রস্তাবিত নবম জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। নতুন বেতন কাঠামোর সুপারিশমালার খসড়া প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছালেও জুডিশিয়াল সার্ভিসের বেতন-ভাতা নিয়ে তৈরি হওয়া জটিলতায় পুরো প্রক্রিয়া আবারও পর্যালোচনার মুখে পড়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জুডিশিয়াল সার্ভিসের সদস্যরা মূল বেতনের সমপরিমাণ বা শতভাগ ভাতা দাবি করেছেন। এ দাবির পরিপ্রেক্ষিতে গেজেট প্রকাশের আগে বিষয়টি আরও বিস্তারিতভাবে যাচাই ও পর্যালোচনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ফলে বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পে-কমিশন-২০২৫-এর প্রতিবেদন নিয়ে চূড়ান্ত পর্যায়ের পর্যালোচনায় যাচ্ছে অর্থ বিভাগ।
অর্থ বিভাগ সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর এক অনির্ধারিত বৈঠকে নবম পে-স্কেলের আর্থিক প্রভাব, বাস্তবায়নের সময়সূচি এবং বিভিন্ন শ্রেণির চাকরিজীবীদের বেতন কাঠামোর মধ্যে ভারসাম্য নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
এ সময় জুডিশিয়াল সার্ভিস পে-কমিশনের প্রতিবেদন এবং সংশ্লিষ্টদের দাবিগুলো আরও যাচাই করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বেতন কাঠামোয় কোনো ধরনের বৈষম্য বা অসঙ্গতি থাকলে তা দ্রুত সমাধানের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সরকারের বর্তমান আর্থিক পরিস্থিতিও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। উচ্চ মূল্যস্ফীতি, রাজস্ব পরিস্থিতি, সরকারের ব্যয় এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব সবকিছু বিবেচনা করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে।
এ কারণে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের সময়সূচি আরও কিছুটা পিছিয়ে দেওয়া যায় কি না, সেটিও সরকারের অভ্যন্তরে বিবেচনা করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
জুডিশিয়াল সার্ভিসের বেতন কাঠামো নিয়ে আলোচনার জন্য অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে সাত সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির বৈঠক শিগগিরই অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
এর আগে ১২ আগস্ট কমিটির বৈঠক হওয়ার কথা থাকলেও সদস্যদের উপস্থিতি না থাকায় সেটি অনুষ্ঠিত হয়নি। পরবর্তী বৈঠকে বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পে-কমিশনের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হবে। একই সঙ্গে প্রতিবেদনের গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশগুলো নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
বিশেষ করে বিচারকদের বেতন, ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, নতুন কাঠামো বাস্তবায়নে সরকারের অতিরিক্ত কত অর্থ প্রয়োজন হবে এবং সেই অর্থ কীভাবে সংস্থান করা সম্ভব এসব বিষয় বৈঠকে গুরুত্ব পেতে পারে।
এদিকে সর্বশেষ ১২ আগস্ট মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বাধীন সচিব কমিটি জাতীয় বেতন কমিশন, জুডিশিয়াল সার্ভিস পে-কমিশন এবং সশস্ত্র বাহিনী বেতন কমিটির সুপারিশ পর্যালোচনা করে নতুন প্রস্তাব চূড়ান্ত করেছে।
সেখানে বিভিন্ন গ্রেড অনুযায়ী সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের ক্ষেত্রে তুলনামূলক বেশি বেতন বৃদ্ধির প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
প্রস্তাবিত কাঠামো দুই ধাপে বাস্তবায়নের বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে। প্রথম ধাপে মূল বেতন বাড়ানো এবং পরবর্তী বছরে বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ও অন্যান্য ভাতা বৃদ্ধির প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
তবে জুডিশিয়াল সার্ভিসের বেতন-ভাতা নিয়ে নতুন করে যে জটিলতা তৈরি হয়েছে, তাতে পুরো পে-স্কেলের চূড়ান্ত অনুমোদন ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় কিছুটা বিলম্ব হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। এখন অর্থ বিভাগ ও উচ্চপর্যায়ের কমিটির পর্যালোচনার পরই নবম পে-স্কেলের বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
