খসড়া নীতিমালা: সরকারি স্কুলে ভর্তিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটা কত শতাংশ
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৪২ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
দেশের সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণিতে শিক্ষার্থী ভর্তির নিয়মে পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি কার্যক্রম পরিচালনার জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) নতুন একটি খসড়া নীতিমালা তৈরি করেছে। অনুমোদনের জন্য এটি বর্তমানে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।
প্রস্তাবিত নীতিমালা অনুযায়ী, সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ছয়টি শ্রেণিতে মোট ১৪ শতাংশ আসন বিভিন্ন কোটার আওতায় সংরক্ষণ করা হবে। বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে একটি অতিরিক্ত ক্যাটাগরি যুক্ত করে মোট ১৫ শতাংশ কোটা রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।
সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ৫ অক্টোবরের মধ্যে নতুন ভর্তি নীতিমালাটি চূড়ান্ত অনুমোদন পেতে পারে। তবে খসড়াটি অনুমোদনের ক্ষমতা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের। ফলে সেখানে প্রয়োজন অনুযায়ী পরিবর্তন আসতে পারে বলে জানিয়েছেন মাউশির মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ।
মুক্তিযোদ্ধা সন্তানদের জন্য ৫ শতাংশ
খসড়া নীতিমালায় সরকারি স্কুলে মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানদের জন্য ৫ শতাংশ আসন সংরক্ষণের প্রস্তাব করা হয়েছে। এই কোটায় আবেদন করতে হলে সংশ্লিষ্ট প্রমাণপত্রের সত্যায়িত কপি আবেদনপত্রের সঙ্গে জমা দিতে হবে। ভর্তির সময় মূল কাগজপত্রও দেখাতে হবে।
মুক্তিযোদ্ধা সনদ যথাযথভাবে যাচাই করার পর ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে। কোনো প্রতিষ্ঠানে মুক্তিযোদ্ধা বা শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তান পাওয়া না গেলে ওই আসন সাধারণ কোটার শিক্ষার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য ২ শতাংশ
বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের সাধারণ শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করার উদ্দেশ্যে ন্যূনতম যোগ্যতা পূরণ সাপেক্ষে ২ শতাংশ আসন সংরক্ষণের প্রস্তাব রয়েছে। এ সুবিধা নিতে হলে ভর্তির সময় যথাযথ কর্তৃপক্ষের প্রত্যয়নপত্র জমা দিতে হবে।
এই কোটায় শিক্ষার্থী পাওয়া না গেলে অপেক্ষমাণ তালিকা থেকে শূন্য আসন পূরণ করা হবে।
মন্ত্রণালয় ও অধীনস্থ প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের সন্তানদের জন্য কোটা
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য ১ শতাংশ এবং তফশিল-ক-এ উল্লেখিত অধীনস্থ দপ্তর ও সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য আরও ১ শতাংশ আসন রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের জন্য নির্ধারিত ১ শতাংশ আসনে উপযুক্ত শিক্ষার্থী না পাওয়া গেলে তা অধীনস্থ দপ্তর ও সংস্থার কর্মীদের সন্তানদের দিয়ে পূরণ করা যাবে। একইভাবে অধীনস্থ দপ্তর ও সংস্থার জন্য নির্ধারিত আসন খালি থাকলে তা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যোগ্য সন্তানদের মাধ্যমে পূরণ করা যাবে।
এ ধরনের কোটায় আবেদন করার সময় সংশ্লিষ্ট অফিস প্রধানের প্রত্যয়নপত্র জমা দিতে হবে।
যমজ ভাই-বোনের জন্য ২ শতাংশ
কোনো বিদ্যালয়ে আবেদনকারী শিক্ষার্থীর যমজ ভাই-বোন আগে থেকেই পড়াশোনা করলে অথবা নতুন করে একসঙ্গে আবেদন করলে তাদের জন্য ২ শতাংশ আসন সংরক্ষিত থাকবে।
তবে এই সুবিধা একটি দম্পতির সর্বোচ্চ তিন সন্তানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। যমজ ভাই-বোনের আবেদন না পাওয়া গেলে ওই ২ শতাংশ আসন সহোদর-সহোদরার জন্য উন্মুক্ত রাখা যাবে।
সহোদর-সহোদরার জন্য ৩ শতাংশ
কোনো বিদ্যালয়ে আবেদনকারী শিক্ষার্থীর সহোদর-সহোদরা আগে থেকেই অধ্যয়নরত থাকলে অথবা নতুন করে আবেদন করলে তাদের জন্য ৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণের প্রস্তাব করা হয়েছে।
এ ক্ষেত্রেও একটি দম্পতির সর্বোচ্চ তিন সন্তান পর্যন্ত সুবিধাটি প্রযোজ্য হবে। সহোদর-সহোদরার কোনো আবেদন না থাকলে নির্ধারিত ৩ শতাংশ আসন যমজ ভাই-বোনের জন্য ব্যবহার করা যাবে।
খসড়া নীতিমালায় আরও বলা হয়েছে, সহোদর-সহোদরার জন্য বরাদ্দ আসন খালি থাকলে যমজ সন্তান দিয়ে তা পূরণ করা যাবে। বিপরীতভাবে যমজদের জন্য নির্ধারিত আসন খালি থাকলে সহোদর-সহোদরার মাধ্যমে তা পূরণ করা যাবে। কোনো অবস্থাতেই আসন শূন্য রাখা যাবে না। কোটার আসন পূরণ সম্ভব না হলে সাধারণ কোটার শিক্ষার্থী দিয়ে তা পূরণ করতে হবে।
বেসরকারি স্কুলে বাড়তি ১ শতাংশ
সরকারি স্কুলের ১৪ শতাংশ কোটার বাইরে বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে আরও ১ শতাংশ কোটা রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। লিল্লাহ বোর্ডিংয়ের শিশুদের মূলধারার শিক্ষায় যুক্ত করার লক্ষ্যেই এই অতিরিক্ত কোটা রাখা হচ্ছে।
নীতিমালা অনুযায়ী, এসব শিশু নিকটস্থ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পাবে।
ঢাকার সরকারি স্কুলে ক্যাচমেন্ট এলাকায় ৪০ শতাংশ আসন
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো খসড়ায় ঢাকা মহানগরীর সরকারি বিদ্যালয়সংলগ্ন ক্যাচমেন্ট এলাকার শিক্ষার্থীদের জন্য ৪০ শতাংশ আসন সংরক্ষণের কথা বলা হয়েছে।
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর ঢাকা মহানগরীর সরকারি বিদ্যালয়গুলোর আওতাধীন ক্যাচমেন্ট এলাকা নির্ধারণ করে সংশ্লিষ্টদের জানাবে।
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য ১০ শতাংশ
ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তির ক্ষেত্রে বিদ্যালয়ের ওই শ্রেণির মোট আসনের ১০ শতাংশ স্বতন্ত্র সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পঞ্চম শ্রেণি উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে।
শিক্ষা বোর্ডে তথ্য হালনাগাদ
শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন নিবন্ধিত কোনো শিক্ষার্থী নির্বাচিত হয়ে অন্য প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান প্রধানকে বিষয়টি শিক্ষা বোর্ডকে জানাতে হবে। এরপর নতুন ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীর নিবন্ধনসংক্রান্ত তথ্য হালনাগাদ করবে শিক্ষা বোর্ড।
বদলির কারণে ভর্তিতে বিশেষ সুযোগ
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এক কর্মস্থল থেকে অন্যত্র বদলি হলে তাদের সন্তানদের সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য নির্দিষ্ট শর্তে আবেদন করা যাবে।
বদলির আদেশ জারির তারিখ থেকে ১০ মাসের মধ্যে প্রয়োজনীয় প্রমাণপত্রসহ ভর্তি কমিটির সভাপতির কাছে আবেদন করতে হবে। মহানগর, সিটি করপোরেশন ও বিভাগীয় শহরের ক্ষেত্রে নতুন কর্মস্থল ১০ কিলোমিটারের বেশি দূরে হলে গুগল ম্যাপ অনুযায়ী কর্মস্থলের নিকটবর্তী সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সন্তানের ভর্তির সুযোগ থাকবে।
জেলা, উপজেলা ও থানার ক্ষেত্রে বদলিকৃত কর্মস্থলের নিকটবর্তী সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি করা যাবে।
বদলির কারণে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানদের ভর্তির জন্য প্রতি শ্রেণি শাখায় মোট আসনের অতিরিক্ত ৫ শতাংশ আসন সংরক্ষিত থাকবে। সরকারি বিদ্যালয়ে বর্তমানে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা এ ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবে।
কোনো সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী পরবর্তী সময়ে আগের কর্মস্থলে পুনরায় বদলি হয়ে গেলে তার সন্তানকে আগের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পুনরায় ভর্তির সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাবও রয়েছে।
পারস্পরিক বদলির মাধ্যমে ভর্তি
সংশ্লিষ্ট ভর্তি কমিটির আওতাধীন কোনো শিক্ষার্থীকে উভয় বিদ্যালয়ের সম্মতির ভিত্তিতে একই শ্রেণিতে পারস্পরিক বদলির মাধ্যমে ভর্তি করা যাবে।
এ জন্য শিক্ষার্থী বা অভিভাবককে সংশ্লিষ্ট ভর্তি কমিটির সভাপতির কাছে আবেদন করতে হবে। এরপর নীতিমালার আলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে ভর্তি কমিটি।
শিক্ষক-কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য অতিরিক্ত আসন
সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত শিক্ষক-কর্মচারীদের ভর্তিযোগ্য সন্তানের সংখ্যার সমসংখ্যক অতিরিক্ত আসন সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ে রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।
কোনো শিক্ষক-কর্মচারী বালক বিদ্যালয়ে কর্মরত থাকলে তার ভর্তিযোগ্য সন্তান বালিকা হলে নিকটবর্তী সরকারি বালিকা বা সহশিক্ষা বিদ্যালয়ে অতিরিক্ত আসন সংরক্ষণ করতে হবে। একইভাবে বালিকা বিদ্যালয়ে কর্মরত শিক্ষক-কর্মচারীর সন্তান বালক হলে নিকটবর্তী সরকারি বালক বা সহশিক্ষা বিদ্যালয়ে আসন রাখার ব্যবস্থা করতে হবে।
সহশিক্ষা বিদ্যালয়ে কর্মরত শিক্ষক-কর্মচারীর সন্তানের জন্য কর্মরত বিদ্যালয়েই অতিরিক্ত আসন সংরক্ষিত থাকবে। তবে সেখানে কাঙ্ক্ষিত শ্রেণি না থাকলে নিকটবর্তী বালক, বালিকা বা সহশিক্ষা বিদ্যালয়ে প্রযোজ্য ক্ষেত্রে অতিরিক্ত আসন রাখার ব্যবস্থা করতে হবে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান প্রধান ভর্তি কমিটিকে প্রয়োজনীয় তথ্য জানাবেন। শিক্ষক-কর্মচারীদেরও ভর্তিচ্ছু প্রতিষ্ঠানের প্রধানকে অবহিত করে অনলাইনে আবেদন করতে হবে।
কর্মরত অবস্থায় কর্মকর্তা মারা গেলে সন্তানের ভর্তির সুযোগ
খসড়া নীতিমালায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মরত অবস্থায় মারা গেলে তার সন্তান যে এলাকায় স্থায়ীভাবে বসবাস করবে, সেই এলাকার সরকারি বিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ রাখার কথা বলা হয়েছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ভর্তি কমিটি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
এ ছাড়া কোনো সরকারি বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করা এমন শিক্ষার্থীর বাবা-মা না থাকলে এবং কোনো কারণে তার বাসস্থান পরিবর্তন হলে নতুন এলাকার সরকারি বিদ্যালয়ে একই শ্রেণিতে ভর্তির সুযোগ দেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রেও সংশ্লিষ্ট ভর্তি কমিটি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
