৩ সাংবাদিককে কারাগারে পাঠানোয় নেপাল ও শ্রীলংকান সাংবাদিক নেতাদের উদ্বেগ, মুক্তির দাবি
কাগজ প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৭ আগস্ট ২০২৬, ০৮:২৮ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শ্যামল দত্ত, মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রুপাকে কারাগারে পাঠানোর ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে নেপাল ও শ্রীলঙ্কার শীর্ষস্থানীয় সাংবাদিক সংগঠনগুলো। পেশাগত দায়িত্ব পালন, বিশেষ করে সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন করার কারণে কোনো সাংবাদিককে ফৌজদারি মামলায় অভিযুক্ত করার এই প্রবণতা বিশ্বজুড়ে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন আঞ্চলিক গণমাধ্যম প্রতিনিধিরা।
বুধবার শ্রীলঙ্কান ওয়ার্কিং জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশনের (এসএলডব্লিউজেএ) সভাপতি রঙ্গা বান্দারানায়েকে ও সাধারণ সম্পাদক মিথুন জয়বর্ধনা এবং নেপাল প্রেস ইউনিয়নের (এনপিইউ) সভাপতি শিব লামসাল আলাদা বিবৃতিতে আটক সাংবাদিকদের মুক্তি, হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার এবং সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনের সুযোগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে।
এসএলডব্লিউজেএ-এর বিবৃতিতে ২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’-এর অভিযোগে দৈনিক ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত, একাত্তর টেলিভিশনের প্রধান সম্পাদক মোজাম্মেল বাবু, এবং প্রধান প্রতিবেদক ফারজানা রূপাকে আটকের জন্য বাংলাদেশের বিশেষ ট্রাইব্যুনালের আদেশের বিষয়ে উদ্বেগ জানানো হয়। সংগঠনটি বলেছে, প্রকাশ্য সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন করার কারণে গুরুতর অভিযোগে গণমাধ্যমকর্মীদের লক্ষ্যবস্তু করা ও আটক করা দক্ষিণ এশিয়ায় একটি বিপজ্জনক নজির তৈরি করছে।
এসএলডব্লিউজেএ আরো বলেছে, পেশাগত দায়িত্ব পালনের কারণে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে আইনি ব্যবস্থাকে ব্যবহার করা মতপ্রকাশ ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার মৌলিক অধিকারের লঙ্ঘন। তাদের মতে, বাক ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা একটি মৌলিক মানবাধিকার এবং সুস্থ গণতন্ত্রের অন্যতম ভিত্তি।
বিবৃতিতে বাংলাদেশ সরকার ও সংশ্লিষ্ট বিচারিক কর্তৃপক্ষের প্রতি আটক সাংবাদিকদের শারীরিক নিরাপত্তা, মৌলিক মানবাধিকার ও আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে প্রতিশোধমূলক কার্যক্রম বন্ধ করে যেকোনো তদন্ত নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছভাবে পরিচালনার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। এ ছাড়া সাংবাদিকদের পেশাগত কাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ভিত্তিহীন অভিযোগ প্রত্যাহার করে তাদের অবিলম্বে মুক্তি দেয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে, নেপাল প্রেস ইউনিয়নও বাংলাদেশের সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে নেয়া আইনি পদক্ষেপ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংগঠনটির সভাপতি শিব লামসাল বিবৃতিতে বলেন, ২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তিন সাংবাদিককে আটকের জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনালের আদেশ তারা গুরুত্বের সঙ্গে আমলে নিয়েছে। নেপাল প্রেস ইউনিয়ন বলেছে, সংবাদ সম্মেলনে কেবল প্রশ্ন করার কারণে সাংবাদিকদের গুরুতর অভিযোগে আটক করা সংবাদমাধ্যম ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করে।
সংগঠনটি পেশাগত দায়িত্ব পালনের কারণে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে নেয়া প্রতিহিংসামূলক আইনি পদক্ষেপের নিন্দা জানিয়ে বাংলাদেশ সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি অভিযোগগুলোর বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের আইনি ও মানবাধিকার নিশ্চিত করা, মামলাটি প্রত্যাহার এবং কোনো ধরনের বিলম্ব ছাড়াই সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকদের মুক্তি দেওয়ার দাবি জানিয়েছে এনপিইউ।
বিবৃতিতে নেপাল প্রেস ইউনিয়ন বলেছে, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা গণতন্ত্রের একটি মৌলিক স্তম্ভ। সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা বা দমন-পীড়ন সংবাদপত্রের স্বাধীনতার ওপর আঘাত।
দুই দেশের সাংবাদিক সংগঠনই বাংলাদেশের সাংবাদিকদের পাশে থাকার ঘোষণা দিয়েছে এবং দক্ষিণ এশিয়ায় সংবাদপত্রের স্বাধীনতা রক্ষায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
