অনলাইন অ্যাপে ঋণের ফাঁদ, সতর্ক করল বাংলাদেশ ব্যাংক
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ আগস্ট ২০২৬, ০২:৩৬ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
স্মার্টফোনের স্ক্রিনে 'এক ক্লিকেই ঋণ' কিংবা 'বিনা জামানতে তাত্ক্ষণিক লোন'—এমন লোভনীয় বিজ্ঞাপনের আড়ালে নিঃশব্দে পাতা হচ্ছে ডিজিটাল প্রতারণার অদৃশ্য ফাঁদ। সম্প্রতি মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন গ্রুপকে ব্যবহার করে ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে উঠেছে অনুমোদনহীন অবৈধ ঋণদাতা চক্র।
সহজ শর্তে ঝটপট ঋণের চটকদার প্রলোভনে পড়ে বহু মানুষ হারাচ্ছেন নিজস্ব গোপনীয় তথ্য, আবার অনেকেই জড়িয়ে পড়ছেন চড়া সুদের অর্থসংকটে। প্রযুক্তির এই অনৈতিক ব্যবহারে উদ্বেগ প্রকাশ করে সর্বসাধারণকে কঠোর সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, এ ধরনের অননুমোদিত অ্যাপ বা সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে যেকোনো আর্থিক লেনদেন এবং ঋণ গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকা অত্যন্ত জরুরি, অন্যথায় এর মাশুল গুনতে হতে পারে চরম ভোগান্তিতে।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, সম্প্রতি বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সহজ শর্তে ও দ্রুত ঋণ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে অনুমোদনবিহীন ঋণ কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়টি বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)-এর দৃষ্টিগোচর হয়েছে। এসব অ্যাপ মূলত ব্যবহারকারীদের মোবাইল ফোনে সংরক্ষিত যোগাযোগের তথ্য (কন্টাক্টস), ছবি এবং অন্যান্য সংবেদনশীল ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করছে। পরবর্তীতে ঋণ আদায়ের নামে গ্রহীতাদের ওপর অযাচিত চাপ সৃষ্টি, ভয়ভীতি প্রদর্শন, ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশের হুমকি এবং অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষের আর্থিক নিরাপত্তা ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ছে।
আরো পড়ুন: স্বর্ণের দাম কমলো, ভরিতে কত?
বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট করা হয়েছে, ‘বাংলাদেশে ঋণ প্রদান একটি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রিত আর্থিক কার্যক্রম। বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন এবং প্রচলিত আইন ও বিধি-বিধান ছাড়া কোনো মোবাইল অ্যাপ বা ডিজিটাল মাধ্যমে ঋণ কার্যক্রম পরিচালনা করা বৈধ নয়। মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ অনুযায়ী প্রতারণামূলকভাবে ঋণ কার্যক্রমের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ।’
বিএফআইইউ-এর দৃষ্টিগোচর হওয়া ৩১টি অননুমোদিত অ্যাপ
সাথী লোন, পপক্যাশ, ফিনক্যাশ, কুইক লোন, কুইক টাকা, ঢাকা ফিন, লোনভাইব, দোস্ত লোন, টাকা ক্যাশ লোন, কেওয়নজা লোন, এসএসএইচ মানি, লোনবাডি, সাথি লোন, ক্যাশহোরো, আলো ক্যাশ, ফাস্ট লোন, ইজি টাকা, ধৈর্য লোন, ফিন ডট ডু, বঙ্গক্যাশ, আশা লোন, সুবিধা লোন, স্মার্ট লোন বিডি, অনলাইন লোন বিডি, সিটি অনলাইন লোন, বিডি সহজ লোন, ক্যাশ লোন, সোনালী, লোনহাট ও টাকানাও।
গ্রাহকদের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ৪ পরামর্শ:
১. কোনো মোবাইল অ্যাপ, ওয়েবসাইট বা অনলাইন প্ল্যাটফর্ম থেকে ঋণ গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকুন।
২. প্রতারণা ও মানিলন্ডারিংয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত অবৈধ ঋণ কার্যক্রমে যুক্ত হওয়া থেকে বিরত থাকুন।
৩. ঋণের প্রলোভনে পড়ে অপরিচিত অ্যাপ বা প্ল্যাটফর্মে জাতীয় পরিচয়পত্র, ব্যাংক হিসাব বা ফোনের সংবেদনশীল তথ্য প্রদান করবেন না।
৪. ঋণ দেওয়ার নামে কোনো অগ্রিম অর্থ, প্রসেসিং ফি বা নিবন্ধন ফি চাওয়া হলে সতর্ক থাকুন।
এ ধরনের অনুমোদনবিহীন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে প্রতারিত হলে বা তথ্য জানা থাকলে তা বিএফআইইউ-এর ওয়েবসাইট অথবা মতিঝিলে অবস্থিত বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের বিএফআইইউ পরিচালকের দপ্তরে লিখিতভাবে অভিযোগ জানাতে অনুরোধ জানিয়েছে সংস্থাটি।
