পে-স্কেল কবে উঠবে মন্ত্রিসভায়, জানা গেল সম্ভাব্য তারিখ
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ আগস্ট ২০২৬, ০২:৩৭ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য প্রস্তাবিত নতুন বেতন কাঠামো বা পে-স্কেল আগামী সোমবার (৩১ আগস্ট) মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হতে পারে। সেদিন অনুমোদন মিললে আগামী বৃহস্পতিবারের মধ্যেই নতুন পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে গণমাধ্যমকে জানান, নতুন বেতন কাঠামো সংক্রান্ত কাজ প্রায় চূড়ান্ত। সোমবারের মন্ত্রিসভা বৈঠকে বিষয়টি এজেন্ডাভুক্ত করে অনুমোদনের জন্য তোলার প্রস্তুতি চলছে।
ওই কর্মকর্তা বলেন, অনুমোদন পাওয়া গেলে আগামী বৃহস্পতিবারের মধ্যে প্রজ্ঞাপন প্রকাশের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে চূড়ান্ত খসড়ায় সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতা কত শতাংশ বাড়ানো হচ্ছে, সে বিষয়ে অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা এখনো কোনো তথ্য প্রকাশ করেননি।
এর আগে গত ১৬ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার জানিয়েছিলেন, নতুন পে-স্কেলের কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং যেকোনো সময় তা ঘোষণা করা হতে পারে।
গত ২৯ জুলাই অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীও জানিয়েছিলেন, নবম জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশ নিয়ে কাজ চলছে। প্রক্রিয়া শেষ হলে তা মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে এবং অনুমোদনের পর প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।
দুই ধাপে বাস্তবায়নের প্রস্তাব
নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের সুপারিশ দিতে গত ২১ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনিকে সভাপতি করে ১০ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি ইতোমধ্যে তাদের সুপারিশ সরকারের কাছে জমা দিয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করেছে সচিব কমিটি। প্রস্তাবিত কাঠামো দুই ধাপে বাস্তবায়নের কথা বলা হয়েছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম বছরে মূল বেতন কার্যকর করা এবং পরের বছরে বাড়িভাড়াসহ অন্যান্য ভাতা বাস্তবায়নের প্রস্তাব রয়েছে।
পে-স্কেলে বড় বরাদ্দ
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় প্রকাশিত ‘জনগণের সরকারের ১৮০ দিন’ শীর্ষক ই-বুকেও নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।
ই-বুকে বলা হয়েছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতার জন্য ৮৯ হাজার ৮৩৬ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। পেনশন ও গ্র্যাচুইটিসহ এ খাতে মোট বরাদ্দ ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৩৪ কোটি টাকা।
কমিশনের সুপারিশ কী ছিল
অষ্টম বেতন কমিশনের প্রায় ১২ বছর পর ২০২৫ সালের ২৭ জুলাই ২৩ সদস্যের নবম জাতীয় বেতন কমিশন গঠন করা হয়। জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বাধীন কমিশন চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়।
কমিশন বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রেখে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতা ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করেছিল। এতে সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়।
তবে সচিব কমিটির পর্যালোচনায় বেতন বৃদ্ধির হার কমিশনের সুপারিশের তুলনায় কিছুটা কমানোর বিষয়টি উঠে এসেছে।
১ জুলাই থেকে কার্যকরের ঘোষণা
গত ১১ জুন জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপনের সময় অর্থমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, ১ জুলাই থেকে সরকারি কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন করা হবে।
তিনি বলেন, প্রায় ১১ বছর ধরে সরকারি কর্মচারীরা একই বেতন কাঠামোর আওতায় বেতন-ভাতা পাচ্ছেন। এ সময়ে মূল্যস্ফীতির কারণে জীবনযাত্রার ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তাই ১ জুলাই থেকে ধাপে ধাপে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তবে এখনো প্রজ্ঞাপন প্রকাশ না হওয়ায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা পুরোনো বেতন কাঠামো অনুযায়ী বেতন পাচ্ছেন। মন্ত্রিসভায় অনুমোদন ও প্রজ্ঞাপন জারি হলে নতুন কাঠামো কার্যকরের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানা যাবে।
